জনবল নীতিমালা লঙ্ঘন করে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগ দেয়ায় মামলা


মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
জনবল নিয়োগের নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিরল, দিনাজপুর-এ ৭১ নং সীজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ০৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ২৮ জুন/১৮ ইং তারিখ বিরল সহকারি জজ আদালতের নিয়োগপ্রার্থী সিটন দেব শ্বর্মা পিতা-কালুরাম দেব শর্মা মামলাটি দায়ের করেন। যার মামলা নং ৪৪/১৮অন্য। আদালতের বিচারক মামলাটি দাখিলের আদেশ দানে পরবর্তী ৭দিনের মধ্যে বিবাদীগণকে জবাব দিতে নির্দেশ দেন। বিচারক ৭দিনের মধ্যে জবাব দিতে আদেশ দিলে বিবাদীগণ সময়ের আবেদন করেন। এরই মধ্যে ২টি তারিখ অতিবাহিত হয়ে গেছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর/১৮ মামলাটির বিবাদীগণকে ৩০০ টাকার খচরাসহ উপস্থিত থেকে জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত। মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্যরা হলোঃ নিয়োগপ্রাপ্ত দপ্তরী কাম প্রহরী ঠাকুল দাস রায় পিতা- মৃত ধীরেন চন্দ্র রায়, সদস্য সচিব দপ্তরী কাম প্রহরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সদস্য সদস্যের প্রতিনিধি মো: মোস্তাফিজুর রহমান (বাবু), ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শ্যামল চন্দ্র রায়, প্রধান শিক্ষক, সীজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিরল দিনাজপুর, সহ সভাপতি ফটিক চন্দ্র রায় সীজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিরল দিনাজপুর। মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী মজিবর রহমান(৫) জানান, বিরল, দিনাজপুর-এ ৭১ নং সীজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্মারক নং- উশিঅ/বিরল/দিনাজ/২০১৭/৬৮৮ এর ১৯/১১/২০১৭ইং বিজ্ঞপ্তিতে প্রচার করা হয়। এতে উপজেলার সিটন দেব শর্মা নিয়োগ পেতে আবেদন করেন। গত বছর ২১ ডিসেম্বর/১৭ইং তারিখ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মৌখিকভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য প্রবেশপত্র পাঠায়। ২৩ ডিসেম্বর/১৭ইং তারিখ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ওই পদে প্রাথীদের সাক্ষাতকার অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতকারে ৩ জন প্রার্থী অংশগ্রহন পূর্বক মেীখিক পরীক্ষা প্রদান করে। ঠাকুর দাস রায় পরীক্ষায় অংশগ্রনে তার দেয়া ৮ম পাশের সার্টিফিকেট সন্দেহে অভিভাবক সদস্য ফটিক চন্দ্র রায় গত ২৬ ডিসেম্বর/১৭ইং তারিখ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় বরাবরে আবেদন করেন। যার গ্রহন কপি সংরক্ষিত আছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত ১১ জুন/১৮ইং তারিখ ঠাকুর দাস রায় পিতা-মৃত ধীরেন দাস রায়কে ১ম স্থান অধিকার, সিটন চন্দ্র দেব শর্মা পিতা- কামুরাম দেব শর্মাকে ২য় স্থান অধিকার এবং ঋষীকেশ রায় পিতা- প্রিয়নাথ রায়কে ৩য় স্থান অধিকার মেধা তালিকায় মৌখিক পরীক্ষার রেজাল্ট সীট নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গিয়ে দেন। অত:পর ২য় স্থান অধিকারী নিয়োগপ্রার্থী সিটন দেব শ্বর্মা স্বয়ং নিজে অদ্য বিরল সহকারি জজ আদালত হাজির হইয়া গত ২৮ জুন/১৮ ইং তারিখ ৪৪/১৮ নং মামলাটি উপস্থাপন করেন।
অদ্য মামলার বাদী জানান, দপ্তরী কাম প্রহরী পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নিমিত্তে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহনকারী ৩ জনের মধ্যে ঠাকুর দাস রায়কে ১ম স্থান অধিকারী দেখানো হয়েছে। যা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩নং দফায় অবশ্যই ৮ম শ্রেণি পাশ হইতে হইবে। কিন্তু ঠাকুর দাস রায় ৮ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করেন নাই। তিনি ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। তিনি আরোও জানান, ১ম সথান অধিকারী ঠাকুর দাস রায় দপ্তরী কাম প্রহরী পদে দরখাস্ত করার সময় তাঁরগাও উচ্চ বিদ্যালয়, কাহারোল, দিনাজপুর স্কুলের যে ৮ম শ্রেণির সনদ দিয়েছেন তাহা সঠিক নয়। তিনি ঐ স্কুলে পড়ালেখা করেন নাই।
মামলায় অভিযুক্ত ৭নং বিবাদী সীজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি ফটিক চন্দ্র রায় জানান, আমি গত ২৬ ডিসেম্বর/১৭ইং তারিখ বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্ত ঠাকুর দাস রায়ের সনদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় বরাবরে আবেদন করি। তাতে কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। বারংবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় দৌড়ঝাপ দিলেও বিষয়টি গুরুত্ব করেনি। কেননা, নিয়োগপ্রাপ্ত ঠাকুর দাস রায় কোন দিন কখনও ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করেনি। তার ৮ম পাশের সনদটি ভুয়া।
এ ব্যাপারে তাঁরগাও উচ্চ বিদ্যালয় কাহারোল, দিনাজপুরের প্রধান শিক্ষক জানান, ঠাকুর দাসকে যে সার্টিফিকেটটি দেয়া হয়েছে তাহা লিগ্যাল। আমার রেজিষ্ট্রার বুকে তার নাম আছে। ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণি পাশ করে সে ৮ম শ্রেণির সার্টিফিকেট নিয়েছে। এতে আদালত দেখতে চাইলে আমি দেখাবো। বিরলের ছেলে আপনার স্কুল কাহারোলে কিভাবে পড়তেন? জানতে চাইলে তিনি জানান, সে তার মামার বাড়িতে থেকে লেখা পড়া করেছে। যার অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে।
এ ব্যাপারে সীজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিরল দিনাজপুরের প্রধান শিক্ষিকা মৌসুমি আক্তার জানান, আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা। আমি স্কুলে যোগদান করেছি পড়ে আর ঠাকুরদাস রায়কে যোগদান দেয়া হয়েছে আগে। বলে মুঠোফন বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
এ ব্যাপারে সীজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিরল দিনাজপুরের সভাপতি শ্যামল চন্দ্র রায় জানান, আমরা যাকে নিয়োগ দিয়েছি তার সার্টিফিকেট সম্পূর্ণভাবে সঠিক। যা ভুয়া সার্টিফিকেট বলে সিটন দাস রায় কোর্টে মামলা করেছে। এতে বাদীর মাথা ঘামানোর কি? সাংবাদিককে বলার। বিরলের ছেলে কখন কিভাবে কাহারোলে কিভাবে লেখাপড়া করলেন? জানতে চাইলে তিনি জানান, সে তার খালার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করেছে।
এ ব্যাপারে সীজগ্রাম এলাকাবাসির বক্তব্যেÑ
সাবেক ওয়ার্ড সদস্য ও ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ বিরল, দিনাজপুর জগদীস চন্দ্র জানান, আমি শুনতেছি সীজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠাকুর দাস রায়কে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমি ঠাকুর দাসকে কোনো স্কুলে লেখাপড়া করেন নাই। কিভাবে সে নাকি কাহারোল থেকে ৮ম শ্রেণি পাশের সার্টিফিকেট দিয়ে আবেদন করলে স্কুলে নিয়োগ দেয়া হয়।
অভিভাবক সদস্য তপন কুমার দেব শ্বর্মা জানান, সে কোনো ভাবেই ৮ম শ্রেণি পাশ হতে পারে না। তাকে ৮ম শ্রেণি পাশ দেখানো হয়েছে। আমি তার প্রতিবেশি তার সম্পর্কে কম অবগত নই।
নিয়োগপ্রাপ্ত ঠাকুর দাস রায় ৫ম শ্রেণির লেখাপড়া ব্যতিত ৮ম শ্রেণি পাশ করেন নাই মর্মে সাবেক ওয়ার্ড সদস্য সামসুদ্দিন পিতা-মৃত জাতরু মোহাম্মদ, একজন সাদা-মাটা মহিলা চাম্মা রায় স্বামী- শুষেন চন্দ্র রায়, সতেন্দ্র নাথ রায় পিতা-মৃত গুরুদাস রায়, ঐ স্কুলের জমিদাতা মো: হাবিবুর রহমান (হাবিব), ঐ স্কুলের জমিদাতা মাহমুদ আলমসহ আরো অনেকে জানিয়েছেন।

মন্তব্য

মন্তব্য