শাহজালালে উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো শ্রীপুরে সাফারি পার্কে

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার করা বিপন্ন প্রজাতির ৩৯১টি বিদেশী পাখি ও বন্যপ্রাণী গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে কোয়ারেন্টাইন বেষ্টনীতে অবমুক্ত করা হয় পাখিগুলো । টানা ২১ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর সেগুলো দর্শনার্থীদের জন্য পার্কের পাখিশালায় স্থানান্তর করা হবে।

গত সোমবার মধ্য রাতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানি করা কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এয়ারফ্রেইট সার্কেল এবং ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিজেন্টিভ ইউনিট। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা ৪০৪টি পাখি উদ্ধার করলেও এরই মধ্যে ১৩টি মারা গেছে। বাকি ৩৯১টি পাখি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে সংরক্ষণের জন্য দেওয়া হয়। পাশের দেশ ভারতের কোন এক জায়গায এগুলো পাঠানোর কথা ছিল বলে তাদের ধারণা। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, উদ্ধার পাখিগুলোর মধ্যে আছে, কাকাতোয়া, মেকাউ, আফ্রিকান গ্রে প্যারট, পিকক, কমন মরমোসেট মানকি, লেমুর, লাভ বার্ড ইত্যাদি।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অতিরিক্ত গরমে পাখিগুলোর মুমূর্ষু অবস্থা। উদ্ধার হওয়ার পর কয়েকটি পাখি মারাও গেছে। গত ৫ আগস্ট ইনফোবিজ, বিডি ইনোভেটিব লাইভস্টোকস, সজিব এন্টারপ্রাইজ নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান পাখিগুলো আমদানি করে। আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিআইটিই অনুসারে এবং ডেট্রিমেন্টাল রিপোর্ট ও বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী জীবন্ত পশুপাখি আমদানিতে বন অধিদপ্তরের অনাপত্তি না থাকার কারণে পাখির এ চালান আটক করা হয়। আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে শুল্ক আইনসহ অন্যান্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণেরও প্রক্রিয়া চলছে। আমরা প্রাণীগুলোে হাতে পেয়ে এগুলোকে রাখার উপযুক্ত ব্যবস্থা করার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বলেছি।

সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান, গতকাল বিকেলে অসীম মল্লিক তাঁদের কাছে পাখিগুলো হস্তান্তর করেন। তাঁরা এগুলো পার্কের কোয়ারেন্টাইন বেষ্টনীতে অবমুক্ত করেন। তিনি জানান, মোট ৩৯১টি পাখির মধ্যে ১৫০টি লাভবার্ড, চারটি, কোকাটেল ২০টি কনুর, আটটি ময়ূর, আটটি অ্যারা অ্যারোনা, পাঁচটি গ্রিন উইং প্যারাকিটসহ (ম্যাকাও) অন্যান্য পাখি ও কিছু প্রাণীও রয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য