আগ্রাসী কপোতক্ষের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা হলেও শাহিনের দূবৃত্তায়নে আটকে গেছে চর ভরাটি জমি

মোঃ মোকলেসুর রহমান,তালা প্রতিনিধি ঃ
তালায় মৎস্য ঘেরের ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও পুনরায় ডিড না করে শাহীন শেখ নামের এক ঘের ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে তালার জালালপুরের শ্রীমন্তকাটির চর এলাকায়। এঘটনায় তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জোরপূর্বক দখল করে রাখার অভিযোগে জমি মালিক উপজেলার শ্রীমন্তকাটীর মৃত হামিদ শেখের ছেলে আবদার শেখ একটি লিখিত আবেদন করেছে।
অভিযোগে জানাযায়, উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের দোহার গ্রামের মৃত শাহাবউদ্দীন শেখের ছেলে মোঃ শাহীন শেখ পার্শ্ববর্তী শ্রীমন্তকাটী গ্রামের চর এলাকায় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রায় ৩ বছর পূর্বে ২০ বিঘা জমির ৩ বছর মেয়াদে ডিড করে নিয়ে মৎস্য ঘের পরিচালনা করে আসছিল। ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও শাহীন জোরপূর্বক ঘেরের দখল বজায় রেখেছে। এমনকি জমির মালিকরা শাহীনের নিকট হারির টাকা চাইতে গেলে তিনি জমির মালিকদের প্রশমনে প্রশাসন দিয়ে হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত,প্রায় দু’দশক পূর্বে কপোতাক্ষ নদীর ভাঙ্গনের মুখে শ্রীমন্তকাটির বিস্তীর্ন এলাকা নদী গর্ভে বিলীণ হয়ে যায়। একই সাথে ঐ এলাকার সম্পত্তি গড়ে উঠে অপর প্রান্তে পাইকগাছার হরিঢালির সোনাতনকাটি-রহিমপুর এলাকায়। এরপর আইনি প্রক্রিয়ায় শ্রীমন্তকাটি পারের জমির মালিকরা পাইকগাছা পারের জেগে ওঠা জমির মালিকানা পেলেও দখল বুঝে পাচ্ছিলনা। এক পর্যায়ে দখল পেতে তারা এলাকার প্রভাবশালী শাহীনের আশ্রয় নেয়। ঐসময় তারা শাহীনকে চুক্তি অনুযায়ী ৩ বছরের জন্য বিনা হারিতে ডিড লিখে দেয়। এরপর খুলনা বিভাগীয় কর্মকর্তা তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তালার অনুকুলে দখল ফিরে আসে। কিন্তু বর্তমানে ঐ ডিডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও শাহীন তাদের অনুকূলে জমি ফিরিয়ে দিচ্ছে না। উপরন্তু তাদের জমি ফিরে চাইলে শাহীন তাদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় হয়রাণির হুমকি দিচ্ছে। ইতোমধ্যে দু’একজন তার শিকারও হয়েছে। গত ৪ জুলাই জমি মালিকদের পক্ষে আব্দার শেখ শাহীন শেখের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছে।
এ ব্যপারে জমির মালিকরা জানান, গত ১৮ জুলাই বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যলয়ে শুনানীর দিন ধার্য থাকলেও নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যস্ত থাকায় আগামী ২৯ আগষ্ট পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করে। এদিকে ১৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যলয়ে শুনানীর দিন ধার্য থাকায় অভিযোগকারী আবদারসহ জমির মালিকরা সেখানে উপস্থিত হলে শাহীন শেখ ডিবির কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবদারকে ধরিয়ে দেয়। পরে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি মিথ্যা প্রমানিত হলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
এলাকাবাসী জানায়, শাহীন একজন প্রভাবশালী, দুর্ধর্ষ ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। হামলা-মামলার ভয়ে এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায়না। হত্যা, অস্ত্রসহ সে ইতোপূর্বে বহু মামলার আসামী ছিল। ঐসকল মামলায় দীর্ঘ দিন কারাবাস করে সম্প্রতি বাইরে এসে পুনরায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ভূক্তভোগী এলাকাবাসী তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিচার দাবি জানিয়েছে।
এ ব্যপারে শাহীন জানায়, উক্ত খের আমান নামে পাঁচবছর জন্য ডিড নেওয়া। মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগেই আমি ঘের ছেড়ে দিব। ডিডের কাগজ দেখাতে রাজি হলেও তিনি ডিডে কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারেননি।

মন্তব্য

মন্তব্য