শ্রীপুরে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

শাহীনুর আলম,শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দেশের বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠী নোমান গ্রæপের নাইস ডেনিম লিমিটেড কারখানার চালক চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার বাদী কভার্ডভ্যান চালক এনামুল হক বাদী হয়ে সোমবার রাতে শ্রীপুর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত আলহাজ্ব মো. মাহফুজুর রহমান খাঁন (৪৫) কে রোববার বিকেলে শ্রীপুর থানার এসআই মো¯Íাফিজুর রহমান গ্রেপ্তার করে সোমবার গাজীপুর আদালতে পাঠিয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী মাহফুজুর রহমান খান উপজেলার মুলাইদ গ্রামের মৃত রমজান আলী খানের ছেলে।

মাহফুজুর রহমান খানের ভাই সবুজ খাঁন জানান, ২৮জুলাই সকালে বাড়ির পার্শ্ববর্তী নাইস ডেনিম মিলস্ কারখানার একটি কভার্ডভ্যান মাহফুজুর রহমানের মালিকানাধীন খান সুপার মার্কেটের সামনের টিনের অংশ ভেঙ্গে ফেললে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এসে প্রতিবাদ করে। একপর্যায়ে মাহফুজুর রহমান ঘটনাস্থলে বাক বিতন্ডায় জড়ায়। পরে গাড়ির চালকসহ আরো কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদার অভিযোগ আনেন। কিন্তু ঘটনার সাথে চাঁদা চাওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। তিনি দাবি করেন, পুলিশ অভিযোগের কোন প্রকার তদন্ত ছাড়াই তার ভাইকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিন পূর্বে নোমান গ্রæপের নিকট আমি ও আমার বড় ভাই জমি বিক্রি করিতে সম্মত ছিলাম না কিন্তু বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়া ২০০৯ সালে আমাদের নিকট হইতে প্রায় ১২বিঘা জমি জোরপূর্বক তাদের নিকট বিক্রয় করিতে বাধ্য করেন। ওই ঘটনার পর থেকে তারা আমাদের প্রতি একটু সংঘাতপূর্ণ মনোভাব পোষণ করে আসছিলেন। তাই সামান্য ঘটনাটি মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে।

মাহফুজুর রহমান খানের স্ত্রী শিউলী আকতার জানান, নাইস ডেনিম মিলসের কাভার্ডভ্যান চলাচলের সময় মার্কেটের টিনের চাল দুমড়ে মুচড়ে ফেলে। বিভিন্ন সময় কারখানা কর্র্তৃপÿকে জানিয়েও কোন প্রকার প্রতিকার পাওয়া যায়নি। উল্টো কিছুদিন আগে আমার স্বামীকে কোন কারণ ছাড়াই অহেতুক শ্রীপুর থানা পুলিশ আটক করলে টাকার বিনিময়ে ছাড়া পায়।

ঘটনার প্রত্যÿদর্শী দুলাল মিয়া, আজাহারুল ইসলাম জানান, কারখানার গাড়ি চলাচলের সড়ক সড়ো হওয়ায় প্রায় সময়ই গাড়ির গুলোর টিনের চালে লেগে টিন নষ্ট হয়ে যায়। ঘটনার দিন একটি কভার্ড ভ্যান দোকানের টিন নষ্ট করলে মার্কেট মালিকের সাথে চালকের বাক বিতন্ডা হয়। পরে শুনেছি ওই ঘটনায় নাকি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে, মামলা হওয়া মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে বাদীর সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
কারখানার মহাব্যবস্থাপক শামসুল রায়হান জানান, চালককে নাকি স্থানীয়রা কয়েকজন মারধর করেছে। এব্যাপারে কারখানার পÿ থেকে কোন মামলা করা হয়নি। কারখানার চালক তাঁর ব্যক্তিগত ভাবেই মামলা দায়ের করেছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য