শ্রীপুরে গরু মোটাতাজাকরণে গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তন

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
প্রতি বছর ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে গাজীপুরের শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক ও খামারী লাভজনক এ ব্যবসায় নামেন। এবারও ঈদকে সামনে রেখে গবাদি পশুর শেষ মুহুর্তের পরিচর্যায় ব্য¯Í রয়েছেন তারা। স্থানীয় পশু সম্পদ অফিসের সার্বিক তত্বাবধানে বিক্রির জন্য অপেক্ষমান এসব গবাদীপশু বিক্রি থেকে লাভের অংক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা তাদের।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, এবার শ্রীপুরে বিভিন্ন এলাকায় ২ হাজার ৫শ ৭৩ জন প্রান্তিক কৃষক পরিবার গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের আওতায় এসেছে। এর বাহিরেও রয়েছে কয়েক’শ ছোট মাঝারী খামার। এসব খামারে জীবনমান উন্নয়নের গবাদী পশুর সংখ্যা ২০ হাজারের ওপরে। যদিও শ্রীপুরে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৭ হাজারের মত। ৩ ও ৬ মাস মেয়াদী মোটাতাজাকরণ প্রকল্পে কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও সরকারী উদ্যোগে এবারই প্রথমবারের মত কৃষকদের বিনামূল্যে কাঁচা ঘাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সার্বক্ষণিক উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নজরদারী থাকায় কোন কৃষক গবাদী পশুতে ক্ষতিকর কোন কিছু প্রয়োগ করতে পারেনি। গবাদী পশুর বাজার ভালো থাকলে এসব পশু বিক্রির আয় কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখবে।

মুলাইদ এমসি বাজার এলাকার ভাই ভাই খামারের মালিক আবু সাইদ বলেন, তিনি প্রথম প্রথম ঈদের ৫-৬ মাস আগে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দুর্বল স্বাস্থ্যের গবাদী পশু সংগ্রহ করতেন, পরে বাড়িতে এনে বিশেষভাবে যতœ করে ঈদে বিক্রি করতেন। এতে তার ভালো লাভ হত। গত বছর তার এ ব্যবসায় লাভ হয়েছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। এবার আরও বড় পরিসরে স্থানীয় একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৭০টি গরু মোটাতাজাকরণ করছেন। এতে তার আশা, খরচ বাদে লাভ হবে ১৫ লক্ষ টাকা।

বাউনি গ্রামের কফিল উদ্দিন বলেন, গরু মোটাতাজাকরণ একটি মৌসুমী ব্যবসা। স্থানীয় পশু অফিসের নির্দেশনায় অন্য পেশার সঙ্গে সঙ্গে এটি করা যায়। এতে বাড়তি আয় হয়। তিনি এ বছর চারটি গরু মোটাতাজাকরণ করছেন। এর লাভ দিয়ে তিনি এবার থাকার ঘর পাকা করবেন।
নানাইয়া গ্রামের ফজলুল হকের মতে, তারা গবাদী পশুকে কোন ক্ষতিকর কোন কিছু খেতে দেন না। দেশীয় খাবারের সঙ্গে পশু কর্মকর্তার পরামর্শ মতে নানা ধরনের ভিটামিন প্রয়োগ করেন। এতে অল্প দিনেই পশুর চেহারায় পরিবর্তন হয়, দামও বেড়ে যায় দ্বিগুণ। তিনি গত ৭ বছর ধরে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন। এতে তার পরিবারের সার্বিক জীবনমান উন্নত হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল জলিল বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যেই আমরা মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণতা পেয়েছি। তবে প্রতি বছর কোরবানির ঈদে আমাদের গবাদী পশুর চাহিদার কথা বিবেচনা করে কৃষকদের গরু মোটাতাজাকরণে উৎসাহ দিয়ে থাকি। কোন কৃষক বা খামারী যাতে গবাদী পশুতে ক্ষতিকর কোন কিছু প্রয়োগ করতে না পারে। সে জন্য উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস মোটাতাজাকরণে সার্বক্ষণিক নজরদারী করে থাকে। এবারও উপজেলায় ২০ হাজারের উপর গবাদী পশু বিক্রির উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। যা থেকে লাভের অংক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে। যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখবে।

মন্তব্য

মন্তব্য