টানা বর্ষণে কলাপাড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি :  তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হয়ে পড়েছে ব্যাহত। টানা বর্ষণ কলাপাড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত অব্যাহত থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কর্মজীবীসহ খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ। রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। যানবাহন চলাচল করছে সীমিত। অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বন্ধ। যে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছে তারাও ক্রেতা শূন্য অলস সময় পাড় করছে। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত ২১ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সাগরে কোন সতর্কতা সংকেত নেই।
গত কয়েকদিনের তীব্র তাপপ্রবাহসহ খরার পর টানা বৃষ্টিতে কৃষকের জমিতে পানি জমায় চাষাবাদ সুবিধাজনক হলেও অনেক বীজতলায় পানি জমে গেছে। সবজি ক্ষেতে পানি জমায় তা নস্ট হওয়ার শংকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক। পুকুর ও ঘেরের চাষকৃত মাছ নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মৎস্য চাষীরা। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে মাছ বেড়িয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। নীলগঞ্জ ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষক আলম হাওলাদার জানান, তার দশ শতক জমির বীজতলায় পানি জমে গেছে। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহন করলেও তা কাজে আসছেনা। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বীজে পচন ধরার শংকা করছেন এ কৃষক। একই ধারনা পোষন করছেন অনেক কৃষক।
বৃষ্টির পানি জমে জেলা সদরসহ বিভিন্ন পৌর শহর এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। অনেক পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় সাধারন গৃহস্থলী কাজ হচ্ছে ব্যহত। বিশেষ করে নিম্নবৃত্ত মানুষের রান্না ঘরে পানি জমে যাওয়ায় তারা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে শিক্ষার্থীরা পড়ছেন নানা ভোগান্তিতে। বিশেষ করে গ্রামীন জনপদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে। মিঠাগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমে গেছে শিক্ষার্খীদের উপস্থিতিতি। কলাপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর শিক্ষার্থী নিয়ামুল ইসলাম জানায়, সকাল নয়টায় ক্লাস শুরু হয়। ছাতা নিয়ে আধা ঘন্টা ইজি বাইকের জন্য দাড়িয়ে থেকে বইপত্রসহ নিজেও বৃষ্টিতে ভিজছেন।
টানা বর্ষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিতে পড়েছেন সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ। জীবীকার তাগিদে এসব মানুষ রাস্তায় বের হলেও কর্মহীন হয়ে ঘুরছেন। কলাপাড়া লঞ্চঘাটের শ্রমিক সরদার আ. সোবাহান জানান, কাজ নেই বসে আছি। সংসার কিভাবে এ চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে আছি।
বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়। মৌসুমের এসময় কুয়কাটায় পর্যটক খুব একটা না থাকলেও যারা এসেছেন তারাও পড়েছেন বিড়াম্বনায়। কুয়কাটার আবাসিক হোটেল আমান’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিপন জানান, এখন পর্যটন মৌসুম না হলেও বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত সীমিত হলেও পর্যটক থাকে। কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক দম্পত্তি তানভীর ইসলাম জানান, বৃষ্টির কারনে হোটেল রুমে অবরুদ্ধ অবস্থায় টিভি দেখে সময় কাটাচ্ছেন। বের হতে না পারার ফলে কোন দর্শনীয় স্পট ঘুরতে পারছেন না।

মন্তব্য

মন্তব্য