প্রশিক্ষন নিন ভাগ্যের চাকা ঘুরতে  থাকুক – রফিকুল ইসলাম

রাসেল তালুকদার,বান্দরবান প্রতিনিধিঃ
আমাদের দেশে এমন অনেক স্বল্পশিক্ষিত তরুণ রয়েছে যারা জীবন বদলাতে কাজের খোঁজে  বিদেশে পাড়ি জমায়। তারা বৈধ বা অবৈধ নানা উপায়েই বিপুল টাকা পয়সা ব্যয় করে  বিদেশে পাড়ি জমায়। অনেকে কষ্টে  যারা কাজ পায়,  তারা টিকে যায়। অধিকাংশই প্রতারণার শিকার হয়ে ফতুর হয়ে, জীবন পর্যন্ত হারায়। জমি  বিক্রি করে যারা যায়, খুব কমই আছে যারা জানে না সে বিদেশ গিয়ে কি কাজ  করতে পারবে। আমরা শুনি অনেক শিক্ষিত তরুণ হাতের কোন কাজ না শিখে গিয়ে মরুভূমিতে ক্ষেত খামারে সবজি চাষের কাজ করে, হোটেলে থালা বাসন ধোয়া, কাপড় ধোয়া, ঘর মোছা ইত্যাদির মত কাজে তারা বাধ্য হয়, সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। কেউ কেউ বা নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে হাড়ভাঙা খাটুনির ইট বালির বোঝা টানার কাজের মাধ্যমে ভাগ্য বদলাবার ঝুঁকি নেয়।  যারা স্বল্প শিক্ষিত তাদের বেলায় তো এগুলো অবধারিত, অনিবার্য। আগে শুনতাম আরব দেশগুলোতে আমাদের শ্রমজীবি তরুণদের বলত মিসকিন। দান খয়রাতের জন্য মিসকিন খুঁজতো। এখন আর মিসকিন বলে না। এ সময়ে খবরের মাধ্যমগুলোতে দেখি শ্রমিক তাও আবার অড্ জবের!! কোন কাজই ছোট নয়, তবে সব কাজ সবার জন্য নয়। কোন কাজ সহজ না কঠিন, তা নির্ভর করে আমি কাজটা পারি কি পারি না। যেমন লেদ মেশিনের কাজ বা গ্রীল তৈরির কাজ। না জেনে কেউ হাত দিতে পারে না। কম্পিউটারের কাজ গাড়ী চালানোর কাজ না জেনে কেউ পারে না। বাসন ধোয়ার কাজ বা মাথায় করে ইট টানার কাজ না জেনেও করা যায়। বিষয়টা হলো দক্ষতার। কোন বিশেষ কাজে দক্ষতা অর্জন করে বৈধভাবে বিদেশ গেলে একদিকে মান সম্পন্ন কাজের ও ভাল মানের আয়ের থাকে অধিকতর নিশ্চয়তা। অদক্ষ হিসেবে গেলেই বিপত্তি আর দুর্ভোগ। কাজ জোটে বা জোটে না, জীবন বাঁচে কি বাঁচে না। অনেক সময় ঠিকানা হয় সেই দেশের জেলখানা। পরিবার তাকিয়ে থাকে সুদিনের প্রত্যাশায়। পরিশেষে থাকে শুধু কান্না আর হাহাকার!
কারা করতে পারে এ প্রশিক্ষণঃ
———————————————
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এ অবস্থা দেখে, এ বাহিনীর লাখো তরুণদের বিদেশে যেয়ে ভাগ্য বদলাতে পাশে দাঁড়িয়েছে। এ বাহিনীর সাহসী তরুণদের বিদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করার উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। তবে বিদেশে প্রেরণ করে না এ বাহিনী।  বিশ্বমানের তরুণ শ্রমজীবি গড়ার জন্য মানিকগঞ্জ ও দিনাজপুরে স্থাপন করা হয়েছে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার(টিটিসি)। কর্মমূখী প্রশিক্ষণ দানের জন্য যারা প্রশিক্ষক রয়েছেন তাঁরা ১০-১৫ বছর সিংগাপুর, মালেশিয়া, জার্মান, মধ্যপ্রাচ্য- এসব দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং বাংলাদেশ সরকারের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের যৌথ প্রয়াশে। সনদপত্র দেওয়া হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের। ভিডিপি ১০ দিন বা ২১দিনের ভিডিপি বা টিডিপি প্রশিক্ষণ থাকলে বয়স ১৮-৩০ বছরের মধ্যে
বিদেশে কাজ করার উপযোগি যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ঃ
——————————————–
১. অটো মেকানিক্সঃ মটরগাড়ীর বা অনুরুপ ইঞ্জিন সার্ভিসিং ও মেরামতের কাজ
২.  রেফ্রিজারেটর এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং উইথ ডাক সার্ভিসিংঃ বাসা বাড়িতে ব্যবহৃত ফ্রিজ সার্ভিসিং ও মেরামত। আবাসিক, অফিস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিল্ডিং সমূহে এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম স্থাপন, সার্ভিসিং ও মেরামত।
৩: ইলেক্ট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিংঃ নতুন পুরাতন ভবন সমূহে বৈদুতিক ওয়্যারিং ও ফিটিংস
৪. ওয়েল্ডিং ৪জি প্রশিক্ষণঃ ভবন নির্মান কালে স্টীলের স্ট্রাকচার ঝালাই, গ্রীল রেলিং ইত্যাদি তৈরী।
৫. প্লাম্বিং এন্ড পাইপ ফিটিংসঃ নতুন ভবন নির্মানকালে পানির লাইন স্থাপন, বাথরুমে শাওয়ার, বেসিন, কমোড স্থাপন।
৩.কনস্ট্রাকশন পেইন্টিংঃ নির্মিয়মান একটা ভবনের ভিতরে বাইরে রং করা হয় ভবনটাকে আকর্ষনীয় করে তোলার জন্য। এ কাজে ব্যবহৃত হয় নানা ধরণের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যাল। এ কোর্সে শেখানো হবে সে সবের ব্যবহার।
৪. টাইলস সেটিংঃ সুরম্য ভবন নির্মান করতে আকর্ষনীয় টাইলস লাগানো এখন খুবই জনপ্রিয়।
৫. ম্যাসনারি এন্ড রড বাইন্ডিংঃ রাজমিস্ত্রি ও রড বাঁধাইয়ের কাজ। সবাই পারে মনে হলেও একাজকে সহজ করার জন্য রয়েছে প্রযুক্তিগত নানাবিধ যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কলা কৌশল। নির্মানাধীন উঁচু ভবনে উঠা নামার কলা কৌশল। ভবন নির্মানে সব চেয়ে বেশি সময় ধরে চলে এ কাজ।
৬. ড্রাইভিংঃ গাড়ী চালনোর কলাকৌশলের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ট্রাফিক আইন, গাড়ীর যান্ত্রিক ত্রুটি বিচ্যুতি নিরুপণ, লগ মেইনটেন। কোর্স শেষেবদেওয়া হয় ড্রাইভিং লাইসেন্স। বিদেশে দক্ষ ও মার্জিত ড্রাইবারের রয়েছে বিপুল চাহিদা।
সকল কোর্সে দেওয়া হয় ইংরেজি ভাষায় কথা বলার ন্যনতম ধারণা।
কোর্স সম্পন্ন করতে প্রশিক্ষণার্থি ব্যক্তিগত একটি টাকাও খরচ হয় না। বাড়ি থেকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আসা যাওয়া, থাকা খাওয়া, প্রশিক্ষণ উপকরণ, সনদপত্র সবই বিনামূল্যে। ব্যয় যা হয় তা দেয় সরকার। বাড়তি পাওনা – দক্ষতা, সনদ ও ৩০০০-৩৫০০ টাকা মূল্যের আভি ব্যাংকের শেয়ার। এই শেয়ারে বছর বছর পাওয়া যাবে লভ্যাংশ। লভ্যাংশ দেওয়া হবে আভি ব্যাংকে ১০টাকা দিয়ে একটা একাউন্ট খুলে সেই একাউন্ট অথবা যার বাড়ী ব্যাংকের শাখা থেকে অনেক দূরে তারা পাবে মোবাইল একাউন্টে। যত শেয়ার কেনা তত লভ্যাংশ। আবার তিনবছর পর শেয়ার বিক্রয় করে নেওয়া যাবে নগদ টাকা। শেয়ারের বদৌলতে দেশে কাজ করার জন্য থাকছে পর্যাপ্ত ঋণ সুবিধা। বিদেশ গমনের পর আভি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিবার পরিজনদের কাছে টাকা পাঠানোর সুবিধা।
এ কোর্সগুলো সম্পন্ন করে কেউ বসে থাকার কথা নয়। বিদেশে হোক বা দেশে কর্ম সংস্থান হবেই হবে।
থাকছে আনসার ভিডিপি ডেটা বেইজের অন্তর্ভূক্তির সুযোগ। যার মাধ্যমে দেশ বিদেশের কর্মদাতাদের উপযুক্ত শ্রমজীবিদের খুঁজে নেওয়ার সুযোগ। ঘরে বসেই মোবাইল এসএমএস এবং ইমেইলে পাওয়া যাবে কাজের অফার।
প্রশিক্ষন নিন! সবার ভাগ্যের চাকা ঘুরতে  থাকুক। হোক গতিশীল। তারুণ্যের জৌলুসে দেশে আসুক বৈদেশিক মুদ্রা।
দেশ চায় মানব সম্পদ। বংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী তার কারিগর! তরুণদের ভাগ্য বদলে দেবার কারিগর।
 ধন্যবাদান্তে,  রফিকুল ইসলাম
সিনিয়র উপ পরিচালক
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

মন্তব্য

মন্তব্য