পার্বত্য জেলা পরিষদে সদস্যপদ শূন্য : পিছিয়ে পড়ছে বান্দরবানের চাক সম্প্রদায়

রাসেল তালুকদার ,বান্দরবান//বান্দরবানে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে চাক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ক্যচিং চাক পদত্যাগ করার পর এই সম্প্রদায় থেকে নতুন কোন সদস্যকে নিয়োগ না দেওয়ার কারনে সরকারের উন্নয়নের ভিশন থেকে মূলত পিছিয়ে পড়ছে বান্দরবানের চাক সম্প্রদায়,তাই দ্রæত এই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য দাবী করছে জেলার চাক সম্প্রদায়সহ সুশিল সমাজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ফেব্রæয়ারি পার্বত্য জেলা পরিষদে চাক সম্প্রদায়ের একমাত্র প্রতিনিধি ক্যাউচিং চাক বার্ধক্য ও শারিরীক অসুস্থতার কারনে পদত্যাগ করে। গত ৬ মার্চ রাষ্ট্রপতির আদেশ ক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব রীভা চাকমা স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানা যায়, পদটি শূন্য ঘোষনা করা হয়।
আরো জানা গেছে, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯ এর ১১ (২) উপধারা মোতাবেক পদত্যাগ গৃহিত ও শূন্য হওয়ার পর এই শূন্যপদে নতুন কাউকে নিয়োগের জন্য জেলা পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সুপারিশসহ আবেদন পাঠানো হলেও তা থমকে আছে।
জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক গেজেট জারি করে চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লাকে বহাল রাখে এছাড়া সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে বাড়িয়ে ১৫ জন করা হয়। ১১টি আদিবাসী সম্প্রদায় ও বাঙালী জনগোষ্ঠির প্রতিনিধি নিয়ে জেলা পরিষদ গঠন হলেও বর্তমানে চাক সম্প্রদায়ের কোন প্রতিনিধি নেই। ফলে এই সম্প্রদায়ের জীবন মান উন্নয়ন, বিভিন্ন সুযোগসুবিধা থেকে তারা পিছিয়ে পড়ছে। বিভিন্ন স্থানে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার মতো জন প্রতিনিধি না থাকায় তারা আরো পিছিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন এই সম্প্রদায়ের মানুষ।
নাইক্ষ্যংছড়ির চাক সম্প্রদায়ের নেতা হেডম্যান মংচানু চাক বলেন, আমাদের সম্প্রদায় থেকে পরিষদে কোন প্রতিনিধি না থাকায় বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে, আমরা দ্রæত নতুন সদস্য নিয়োগের দাবী করছি।
আরো জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শুপারিশ ক্রমে প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন সদস্য নিয়োগ দিবেন। তবে চাক সম্প্রদায়ের এই প্রতিনিধি পদত্যাগের পর ৬ মাস অতিক্রম হলেও নতুন সদস্য নিয়োগ না দেবার কারনে জেলার পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়টি আরো পিছিয়ে পড়ছে। ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলার মোট চাক জনসংখ্যা ৪ লক্ষ ৪ হাজার ৯৩ জন।
এই ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পরিষদের কোন প্রতিনিধি নেই, নতুন সদস্য দ্রুত নিয়োগ করা প্রয়োজন, পদ শূন্য থাকায় আর্থ-সামাজিক দিকে থেকে পিছিয়ে পড়ছে চাক সম্প্রদায়।
প্রসঙ্গত, দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের বিষয় নিয়ে চাক সম্প্রদায়ের লোকজন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা ও প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির কাছে অভিযোগ জানান, এর প্রেক্ষিতে পদত্যাগ করেন জেলা পরিষদ সদস্য ক্যাউচিং চাক।
এই ব্যাপারে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা বলেন, নতুন সদস্য নিয়োগের জন্য পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে, তবে নতুন সদস্য নিয়োগের কোন বার্তা পায়নি এখনও।

মন্তব্য

মন্তব্য