স্কুল পরিত্যাক্ত ঘোষনা বাউফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ চলছে খোলা আকাশের নিচে

বাউফল প্রতিনিধি //পটুয়াখালীর বাউফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ন ও ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে এবং ব্যবহার ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাশ চলছে গাছের নিচে ও স্কুল বারান্দায়। উপজেলার সুলতানাবাদ উত্তর নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ শনিবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২ টায় সরেজমিন গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। শিশু থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত ৬ টি ক্লাশ শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে বাইরে পাঠদান চলছে। এ সময় শিক্ষার্থী সোনিয়া ভয়ে প্রকম্পিত কন্ঠে জানান, স্কুলে আইতে আমার ভয় লাগে। পড়ার সময় উপর থেকে খোয়া পানি পড়ে। বেঞ্চে বসতে পারি না। বৃষ্টি পানি পড়ে বই ভিজে যায়। একই কথা বলেন, জয়নাল মোল্লা। শিশুরা জানায়, বাউফলে যাওয়ার সময় দেখছি স্কুল খুব সুন্দর ও দ্বী তলা। আমাগো স্কুল ভালো না। তাই এই স্কুলে পড়তে ইচ্ছে করেনা।

বিদ্যালয় শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি আলাপচারিতায় জানা যায়, ১৯৭৩ সালে স্থাপিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চার কক্ষ বিশিষ্ঠ একটি ভবন। বাইরে চাকচিক্য সাদা রং দেখা গেলে বিদ্যালয় জানালা, দরজা ভাঙ্গা। ছাদ চুইয়ে পানি পড়েছে। প্রতিটি ক্লাশের প্যালাস্টার খসে পড়েছে। বিদালয় নতুন ভবনের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নিকটে আবেদন করলেও নির্মানের কোনো উদ্যোগ নেই।

বিদ্যালয় পরিদর্শনে বহি প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে, ২০১৭ সালে ২৪ মে বাউফল উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: রিয়াজুল ইসলাম এ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। তিনি ওই সময় বিদ্যালয় ব্যবহার অনুপযোগী এবং ঝুকির্পর্ণ ঘোষনা করেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের স্থানীয়ভাবে টিনসেড ঘর করে ক্লাশ করার পরামর্শ দেন। ২০১৭ সালে ১৬ জুলাই সহকারি শিক্ষা অফিসার সুজন হাওলাদার সরেজমিন পরিদর্শন করে ঝুকির্পর্ণ ভবন ঘোষনার মাধ্যমে বাইরে ক্লাশ করার পরার্মশ দেন।

বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম জানান, বিদ্যালয় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবনটি ঝুকির্পন থাকায় ক্লাশে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে গেছে। পাশাপাশি ৫সদস্য পদে মাত্র ২ জন শিক্ষক নিয়মিত রয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদ শূণ্য। শিক্ষার্থী গুনগত মান বৃদ্ধি লক্ষ্যে বিদ্যালয় অতিদ্রæত ভবন নির্মান ও শূণ্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য এলাকাবাসী দাবী জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য