শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও ভুক্তির আবেদনে গোমর ফাঁস তেঁতুলিয়ায় নতুন এমপিও ভুক্ত বি.এম কলেজে নিরবে চলছে জালজালিয়াতি ও অনিয়ম

মুুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ
পঞ্চগড় জেলাধীন তেঁতুলিয়া উপজেলার ৬নং ভজনপুর ইউপি’র মালিগছ গ্রামে অবস্থিত নতুন এমপিওভুক্ত ভজনপুর নগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি.এম কলেজে নিরবে চলছে জালজালিয়াতি ও অনিয়ম। জানাযায়, গত ২৩ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে দীর্ঘ ৯বছর পর দুই হাজার ৭৩০টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এর উপস্থিতিতে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় গণভবনে ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত ঘোষণা দেয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই ধারবাহিকতায় তেঁতুলিয়া উপজেলার এই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর থেকে আলোর মুখ দেখতে পারছেনা, যেন নানান দুর্দশায় ঝেমিয়ে পড়েছে। গত ৩১মে ২০২০ তারিখের স্বারক নং-ভিটিবিএমসি/২০২০/৩০ এর আবেদনের তথ্যানুসারে, নতুন এমপিওভুক্ত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং কর্মচারী রয়েছে ৯জন। এদের মধ্যে অধ্যক্ষ ১জন, ডেমোনেষ্টেটর কাম মেকানিক ২জন, সহকারী লাইব্রেরীয়ান ১জন, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী ১জন, কম্পিউটার ল্যাব এসিসটেন্ট ১জন, টাইপিং ল্যাব সহকারী ১জন, গার্ড কাম এমএলএসএস ১জন এবং এমএলএসএস(নৈশ্যপ্রহরী) ১জন।
প্রতিষ্ঠান অধ্যক্ষ আবু সুফিয়ান গত ৩০এপ্রিল ২০২০ তারিখের স্বারক নং- ৫৭.০৩.০০০০.০৯১.২০.০০৭.২০-৩১৭ সূত্রমতে গত ৩১ মে ২০২০ তারিখে মহাপরিচালক, বালাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, এফ-৪বি, পশ্চিম আগারগাঁও, প্র/এ, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭ বরাবরে ৯জন শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং কর্মচারীর এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেন। তাহার এই এমপিও ভুক্তির পাঠানো আবেদনের তথ্যে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর গত ২৬ জুলাই ২০২০ স্বারক নং- ৫৭.০৩.০০০০.০২৮.১৮.০১১.১৮-৫৭৭ এর পত্রের আদেশে শিক্ষা-কর্মচারীদের আবেদন সমূহে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮(১৯জুলাই২০১৮) অনুযায়ী কাগজ-পত্রাদি অসম্পূর্ণ/ত্রæটিপূর্ণ/সমস্যাযুক্ত থাকায় এ পর্যায়ে সংযুক্ত তালিকা ‘ক’ তে বর্ণিত ৫০৪জন আবেদনকারীর এমপিও বিবেচনা করা হয়নি। এই বিবেচনাহীন তালিকায় ধরা পড়েন তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর নগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি.এম কলেজটি। এতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পত্রের প্রেরিত আদেশে উক্ত প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির আবেদিত পত্রের প্রেক্ষিতে সকলের উঠে আসে জালজালিয়াতি ও অনিয়মের কথা।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের গত ২৬ জুলাই ২০২০ স্বারক নং- ৫৭.০৩.০০০০.০২৮.১৮.০১১.১৮-৫৭৭ এর পত্রের আদেশে জানাযায়, ওই কলেজের অধ্যক্ষের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা পায়নি এবং নিয়োগকালীন রেজুলেশনের বোর্ড গঠিত নিয়োগ যাছাই কমিটির স্বাক্ষরযুক্ত সুস্পষ্ট প্রমানক পাওয়া যায়নি ও মূল টেবুলেশন শীটে বোর্ড প্রতিনিধির স্বাক্ষর অধিদপ্তরের রক্ষিত স্বাক্ষরে মিল পায়নি। অপরদিকে স্বাক্ষর তো রয়েছেই বরং ডেমোনেষ্টেটর কাম মেকানিক পদের শিক্ষকগণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হতে গ্রহন না করা এছাড়াও অন্যান্য জনদের ক্ষেত্রেও ধরা পড়েছে স্বাক্ষরে মিল না হওয়ার কথা।
সরেজমিনে আরও জানাযায়, করোনা কালীন বন্ধের পর স্কুলে ক্লাস নেয়া বন্ধে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার নির্দেশনা থাকলেও সে নিয়ম মানছেননা এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আবু সুফিয়ান। গত ১৫ নভেম্বর সকাল ১১টায় কলেজে গিয়ে দেখা মিলেনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন। অফিসের দরজা তালাবদ্ধ, ছিলনা কোন শিক্ষক। জানাগেছে, কলেজটি এমপিও ভুক্তির আগে তেমন কোন ছাত্র/ছাত্রী ছিলনা। কলেজটি এমপিও ভুক্ত করার জন্য ছলছাতুরীর মাধ্যমে পাসের হার দেখিয়ে এবং ছাত্র/ছাত্রীর উপস্থিতি বানিয়ে এমপিওভুক্তির তালিকায় আনা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, সে ওই কলেজ থেকে এবার অটোপাশ করেছে। বিভিন্ন দিবসে কলেজটি খোলা রাখাসহ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। তাছাড়া করোনা মহামারীর পূর্বেও কলেজটিতে ছাত্র/ছাত্রীর সে ধরণের কোন উপস্থিতি এবং পাঠদান কার্যক্রমের নিয়মতা ছিলনা আশপাশের এলাকা থেকে জানাযায়।
এব্যাপারে ভজনপুর নগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি.এম কলেজের অধ্যক্ষ আবু সুফিয়ান প্রথমত মুঠোফোনে জানান, তাদের কলেজ এখন বন্ধ, তাই সে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি। তার এই প্রশ্নত্তরে অনলাইন ক্লাসের কথা জানতে চাইলে, তিনি বলেন, হ্যাঁ অনলাইনে ক্লাসের নির্দেশনা আছে। অথচ অফিসে অন্তত দু’একজন শিক্ষক রাখা তো দুরের কথা একেবারেই অফিস বন্ধ রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি গত ১৫ নভেম্বর শিক্ষক-কর্মচারীর কথা জানান, তার কলেছে ১৩জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। অত:পর বিভিন্ন তথ্যের অনুসন্ধানে গত ২৩ নভেম্বর তিনি জানান, গত ৩১ মে ২০২০ তারিখের স্বারক নং-ভিটিবিএমসি/২০২০/৩০ এর আবেদনে ৯জন শিক্ষক-কর্মচারী ছিল বর্তমানে ১৩জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। করোনা কালীন সময়ে ৪জন শিক্ষক কিভাবে নিয়োগ দেয়া হল জানতে চাইলে তিনি জানান, আগে ৯জনের তালিকায় অনেক ভুল ছিল তাই এখন ১৩জনের নাম কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহার সঙ্গে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, তিনি বিষয়টি দেখবেন জানিয়েছে।
অপরদিকে এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলার কোন সুযোগ হয়নি।

মন্তব্য

মন্তব্য