ইরানবিরোধী পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে এককভাবে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা পরিষদের বাকি স্থায়ী সদস্য দেশগুলো ভিন্নমত পোষণ করলেও এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। তবে আইনগত কোনও ভিত্তি না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ইরান। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে হুমকি দিয়ে বলেছেন, জাতিসংঘের কোনও সদস্য দেশ যদি এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সঙ্গে একমত পোষণ না করে তাহলে তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও

২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বলা হয়, শর্ত মেনে চললে তেহরানের ওপর আরোপিত জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তা পুনরায় আর বাড়ানো হবে না। তবে দুই বছর আগে ওই চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে রবিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। এছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত আরও একটি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে এর সব নিষেধাজ্ঞাই ইরানের ওপর পুনর্বহাল হোক।

রবিবার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো যদি এসব নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয় তাহলে ওই ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলোর পরিণতি ভোগ করাতে এবং ইরান যেন জাতিসংঘের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড পুনরায় শুরু করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কর্তৃপক্ষগুলোকে ব্যবহার করতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।’

ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে প্রায় এক মাস আগে থেকেই উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে নিরাপত্তা পরিষদের অপর চারটি স্থায়ী সদস্যসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাতে সাড়া দেয়নি। নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ২০১৫ সালের চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী তিন ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞার শিথিলতা অব্যাহত থাকা উচিত। ওই চিঠিতে বলা হয়, সেসব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের কোনও সিদ্ধান্ত কিংবা কর্মকাণ্ড আইনগত প্রায়োগিক শর্ত পূরণে সক্ষম হবে না। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা অনুযায়ী কোনও ব্যবস্থা তিনি নেবেন না। কারণ, তাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

এদিকে, শনিবার টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ মার্কিন উদ্যোগ সম্পর্কে বলেছেন, ‘এ যেন কেউ একটি দরোজায় তলোয়ার হাতে দাঁড়িয়ে আছে আর বলছে, কেউ এই দরোজা পার হতে গেলে আমাকে দাম দেওয়া লাগবে।’ বিশ্ব সম্প্রদায়ের চোখে মার্কিন উদ্যোগ মূল্যহীন হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য

মন্তব্য