পুলিশ ! শব্দটাই কেমন যেন। সকলে খারাপ চোখে দেখে।

পুলিশ শব্দটা সংবাদ মাধ্যমের হেডলাইন হলে আমজনতা সেটা খায় বেশি। নেগেটিভ কিছু হলে তো কথাই নেই। টিকটকার অপু কে নিয়েও দেশের সবথেকে বড় বড় সংবাদমাধ্যমও ৫ থেকে ৬ বার হেডলাইন তৈরি করেছে। আমজনতা কি বোঝে আসলে সংবাদ মাধ্যমের আজকাল সংবাদ প্রচারটা উদ্দেশ্য নয়।উদ্দেশ্য হলো ভিউ বাড়ানো/ফলোয়ার বাড়ানো।

পুলিশ বাহিনী খারাপ মাথা নত করে মেনে নিলাম।

১. আচ্ছা আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কেমন?এটা আম জনতার কাছের আমার প্রশ্ন। আচ্ছা খোজ নিয়ে দেখেছেন দেশের সিংহ ভাগ হাসপাতালের পরিচালক কারা ?

২. আচ্ছা বিদ্যুৎ বিভাগ কেমন?( বাড়ির মিটার টা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে যান কাল)

৩. আচ্ছা ভাড়া ডাবল নিচ্ছে কিন্তু বাসের ভিতরের অবস্থা কেমন?(আজ বাসে উঠুন, সচক্ষে দেখুন)

৪. আচ্ছা আমাদের দেশে কোসিং নামে বাণিজ্যের প্রসার কেমন?( নিজের বাড়িতে যে মানুষটা পড়াশুনা করে তাকে এখন একটু প্রশ্ন করুন)

৫. আচ্ছা আমাদের দেশের রাস্তা গুলা কেমন?কতদিন সুন্দর মসৃণ রাস্তায় চলেন আর কতদিন পাথর ছড়িয়ে থাকা রাস্তায় চলেন?( একটু বাইরের রাস্তায় তাকান)

৬. আচ্ছা আমাদের দেশে অসহায়দের মাঝে সরকারি বরাদ্দ আসে কত? আর জনগন পাচ্ছে কত? ( যান তো।এখুনি গ্রামের অসহায় মানুষটার কাছে শোনেন)

৭. আচ্ছা কেউ চোরাই পথে ভারতে গিয়েছেন? যারা যায় তাদের কাছে একটু প্রশ্ন করেন তো কোথায় কত টাকা দিতে হয়।

৮. আচ্ছা গার্মেন্টসে যারা কাজ করে তারা সরকারি ভাবে নির্ধারিত সুযোগ সুবিধা পায় কিনা খোজ নিয়েছেন কখনো? এখুনি একটু নিন তো।

৯. আচ্ছা সরকারি বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে আপনার বাড়ির পাশে। কখনো সেখানে যেয়ে একবার ও ভেবে দেখেছেন সরকার কত বরাদ্দ দিলো আর ঠিকাদার কত টাকার কাজ করলো?

১০. এই যে ফোনটা চালাচ্ছেন যে অপারেটর এর সিম দিয়ে। কখনো ভেবে দেখেছেন তারা আপনার আমার পয়সা/ সরকারি ট্যাক্স ঠিকমতো পরিশোধ করছে কিনা?

( খাদ্য, বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষা, চিকিৎসা) এই তো আপনার মৌলিক অধিকার।

আপনার খাদ্যে ভেজাল নেই তো? আশাকরি নেই। থাকলে তো প্রতিবাদ করতেন ই।

আপনার পরা পোশাক টার সঠিক দাম নিয়েছে তো?আশাকরি নিয়েছে।

আপনার থাকা সরকারি বিল্ডিং বা সাইক্লোন সেন্টারে বরাদ্দের সব টাকা ব্যবহৃত হয়েছে তো? আশাকরি হয়েছে।

শিক্ষা? কোসিং/ প্রাইভেট কটা পড়ছেন? আচ্ছা মনের মতো স্যারের কাছে পড়ছেন তো? নাকি চাপে ও পড়ছেন!

চিকিৎসা? সরকারি হাসপাতালের বা ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবা নিশ্চয়ই ভালো পাচ্ছেন! নাহলে তো প্রতিবাদ করতেন। তাছাড়া বড় বড় হাসপাতালের পরিচালক তো আপনার পছন্দের মানুষ বা বাহিনী।

আমি বলিনি সবাই দুর্নীতি করে।আমি প্রশ্ন করেছি উত্তর আপনার কাছে।

যদি কারো মনের উত্তরে মনেহয়( আমার না) সবাই দুর্নীতি করছে বলো চ্যাটের বাল পুলিশ তোরা ও দুর্নীতি করবি?

বিষয় সেটা না ভাই। বিষয় হলো পুলিশ নিয়ে এতো মাথা ব্যাথা কিন্তু আপনার মৌলিক অধিকার নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই।

পুলিশ মিথ্যা মামলা দেয়?কত খারাপ। হা হা। ভাই মিথ্যা হোক সত্য হোক। কেউ মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য থাকিবে আইন অনুযায়ী। আর মিথ্যা মামলা পুলিশ দেয়না। দেয় আরনার প্রতিবেশী শত্রু

পুলিশ গাড়ি ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়?কত খারাপ।
কেন ভাই? টাকা কেন দিবেন? আপনার গাড়ির কাগজ নেই সে গাড়ি চালান দিতে বলবেন?

আপনার মাথায় হেলমেট নেই?টাকা নিছে? দাগ থেকে যদি দারুন কিছু হয় তাহলো দাগ ই ভালো নয় কি?

পুলিশ টাকা খেয়ে মিথ্যা কে সত্য বানিয়েছে? আচ্ছা ভাই পুলিশ কি আদালত চালায়? আদালত বিচার করবে কে কতটা সঠিক। পুলিশ না। মনে রাখবেন ধর্ষের জন্য ও এদেশে উকিল পাওয়া যায় কিন্তু তাদের সমালোচনা হয়না।

সর্বশেষে বলি। পুলিশের দোষ ঢাকি নাই বরং উন্মোচন করেছি। সেইসাথে কিছু প্রশ্ন ও রেখেছি।পুলিশকে সমালোচনা করেন দুঃখ নাই। কিন্তু শুধু পুলিশকে কেন?

সমস্যা কি জানেন ভাই? আপনি অপরাধ করলে আপনার নাম ধরে ফেসবুক বাসী বলবে আপনি খারাপ। কিন্তু একজন মসজিদের আলেম অপরাধ করলে পুরা ফেসবুক বাসী বলবে আলেমরাই খারাপ। বাহ

আমার পোস্টের কমেন্টে ও হয়তো আমার জন্ম / আমার কর্ম / আমার ভাষা শৈলী নিয়ে কত প্রশ্ন উঠবে। কত হা হা পড়বে।

পুলিশকে কেউ গালি দিলে ব্যক্তি আমার কোন ভাবান্তর হয়না। কারনটা মাঝে মাঝে মনে হয় এজন্যই হয়তো বিধাতা এই পেশায় নাম লিখিয়েছিলেন!

কিছুদিন আগে মসজিদের এক ইমাম জবাই করে একটা ছোট বাচ্চাকে মেরে ফেললো। সেই ঘটনার জেরে আমার মন থেকে সমস্ত ইমামদের উপর ঘৃণা জন্মে যায়নি।

তারও আগে এক পরিমলের গা শিউরে ওঠা কুকীর্তিতে সংবাদপত্র নিয়মিত ছয়লাব হচ্ছিলো। সেই জন্য শিক্ষক জাতির উপর থেকেও আমার শ্রদ্ধাবোধ উঠে যায়নি।

অতি সম্প্রতি দুই একজন ডাক্তার করোনার ভূয়া সার্টিফিকেট দিয়ে দেশে বিদেশে আমাদের মান ইজ্জত নিয়ে টানাটানির অবস্থা করে দিলো তাতে করে আমার ডাক্তারদেরকে বাটপারি আর কসাইগিরির প্রতিনিধি বলে মনে হয়নি।

এই মুহূর্তে সবাইকে ছাপিয়ে মনোযোগ একীভূত হয়েছে পুলিশের উপরে।ফেসবুক কিংবা গনমাধ্যমে এইসব খবর পড়ে বুঝলাম এক প্রদীপ সারাদেশের সকল পুলিশদের বিনে পয়সায় পেট ভরে গালিগালাজ খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তাতে আমার খারাপ লাগা উচিত ছিলো। কিন্তু এটা ভেবে আনন্দিত হলাম তাতে আমার কোনপ্রকার কোন বিকারই হচ্ছেনা।

দুই লাখের অধিক জনবলের এই বাহিনীর দু চার সদস্যের কোন অপরাধের জন্য (যেটা দেশের প্রচলিত আইনে বিচারাধীন) আমরা গত ৪ মাসকে ভুলে গেলাম!!

খেয়াল করে দেখেছি একই বাবা মায়ের দুইটা সন্তানই একজন আরেকজনের মতো হয়না অথচ বেশিরভাগ লোকই কোন এক অদ্ভুত কারনে একটি প্রফেশনের দুই একজনেরর কদাচারের কারনে সংশ্লিষ্ট পেশার সবাইকে গণহারে গালি দিয়ে কেন এত নির্মল আনন্দ উপভোগ করে তা আমার মাথায় আসেনা।

আফসোস শুধু একটাই তারা যদি জানতো এইরকম আচরণে তাদের কি পরিমান মূর্খামী, মানসিক অপরিপক্কতা,অদূরদর্শীতা আর হুজুগে মাতা স্বভাব প্রকাশ পাচ্ছে হয়ত তারা থেমে যেত।

বিশ্বাস করেন পুলিশকে কেউ গালি দিলে আমার কোন ভাবান্তর হয়না। একেবারেই হয়না! আর এটা ১৮৬১ সাল থেকে শুরু হয়েছে, নতুন কিছু নয়!!!

এই কলামটি ১২ আগষ্ট ওসি মাজহারুল ইসলাম ফেসবুক পোষ্ট থেকে নেওয়া হয়েছে…

মন্তব্য

মন্তব্য