দৈনিক দিন প্রতিদিন পত্রিকার ক্রীড়া সম্পাদকের সস্ত্রীক আমেরিকার গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী অর্জন।

দিন প্রতিদিন ডেক্স :
দৈনিক দিন প্রতিদিন পত্রিকার ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ কামাল উদ্দিন জ্যাকি ও তার স্ত্রী ফৌজিয়া পারভীন আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন হতে হলিষ্টিক নিউট্রিশন বিষয়ে এক বছরের গ্রাজুয়েশন কোর্স সম্পন্ন করেছেন।
এই ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে ক্রীড়া সম্পাদক সস্ত্রীক হলিষ্টিক নিউট্রিশনিষ্ট সার্টিফাইড হলেন এবং পৃথীবির যে কোন দেশে পুষ্টিবিদ হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করলেন।
করোনা পরিস্থিতির কারনে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি জুলাই মাসে টেক্সাস মেইন ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তাদের গ্রাজুয়েশন কনভোকেশন প্রোগ্রামটি অনলাইনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে গত ২রা আগষ্ট সম্পন্ন করে ।
এক বছরের এ কোর্সটি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ও আমেরিকার সময়ের পার্থক্য দিন ও রাত হওয়ায় নিয়মিত রাত ১২টার পর ক্লাশ করতে হয়েছে। এ ব্যাপারে ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ কামাল উদ্দিন জ্যাকি বলেন,
আল্লাহ সর্ব শক্তিমান। ঈদের ছুটিতে ব্যাস্ত ছিলাম করোনা মোকাবেলার পাশাপাশি কোরবানির প্রস্তুতিতে, আলহামদুলিল্লাহ এর মাঝেই আমেরিকার হিউষ্টন টেক্সাস থেকে ই-মেইল পেলাম “কনগ্রাচুলেশনস্ ইউ আর নাউ গ্রাজুয়েট এন্ড হলিষ্টিক নিউট্রিশনিষ্ট । মেইলটি পাঠিয়েছেন ডঃ মার্ক এ্যান্থোনি পলিয়ানি, প্রেসিডেন্ট আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন।

মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের দায়ীত্ব পালন আর ব্যাবসার ব্যাস্ততার মাঝে ১ বছরের কোর্স করা যে কি কষ্ট তা ব্যাক্ষা করা কঠিন তা যদি ভিন্ন লাইনের হয় তাতো আরো কষ্টের। কত রাত যে পরীক্ষা বা কেস ষ্টাডি করতে গিয়ে নির্ঘুম পার করেছি আর কম্পিউটার টেবিলে ঘুমিয়ে গিয়েছি !!! মাঝে মাঝে মনে হতো আর পারবোনা কারন প্রফেসর মেইল করতো দ্রুত এসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে “ তখন রাত জাগা ছাড়া আর কোন উপায় থাকতো না । অথচ সকালে আবার কারাতে ক্লাশ, এর পর পত্রিকা অফিসে নিজ দায়ীত্ব পালন, শরীর কাজ করতে চাইতো না । কিন্তু কেন নিজ পেশা এবং প্রফেশনের বাহিরে ভিন্ন এই কোর্স?

আমি ভুগছিলাম কিডনি পাথর সমস্যায়। গত ২০ বছওে কিডনি সমস্যার জন্য দেশখ্যাত অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি, সব ডাঃ অপারেশন এর পরামর্শ দিচ্ছিলেন। কিন্ত অপারেশনে যাব না তাই হোমিওপ্যাথির চিকিৎসার মাধ্যমেও চেষ্টা করি । ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে আল্ট্রাসনোগ্রাম করালাম । ডাঃ তখনই অপারেশন করাতে বললেন । আমার মনে হলো আমার সাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ কিছু জ্ঞান অর্জন প্রয়োজন। আমি হলিষ্টিক নিউট্রিশন এর এই কোর্স টি খুজে বের করলাম । এবং ইন্টেগ্রেটিভ ও ফাংশনাল মেডিসিন ব্যাবহার শুরু করলাম । ফলাফল আমার কিডনির পাথর ভেঙ্গে ছোট ছোট হয়ে পড়ে যাচ্ছে। এখন ব্যাথা অনুভব করি না। বাংলাদেশ সরকারের একজন যুগ্ন সচিব সহ মোট নয় জন আমাদের সাথে কোর্সটি করেছেন। কনভোকেশন এ যাওয়ার কথা ছিল টেক্সাস কিন্তু কোভিড এর কারনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। আমি এখন সার্টিফিকেট প্রাপ্ত নিউট্রিমনিষ্ট (পুষ্টিবিদ) এবং নিজের ও দেশের মানুষের বিনা ঔষধে চিকিৎসা করতে পারবো। এ পর্যন্ত আমি ৮০ জনের অধিক মানুষকে সাস্থ পরামর্শ দিয়েছি। সত্যিকার অর্থে আমি মনে করি সুস্থ থাকার জন্য প্রতিটি মানুষের পুষ্টিবিদের পরামর্শ প্রয়োজন।

মন্তব্য

মন্তব্য