যুবলীগ নেতাকে মাস্ক পড়তে বলায় পিস্তল দেখিয়ে পুলিশের এক সার্জেন্টকে পেটালেন

রোববার দুপুরে রাজধানীর পল্লবীর কালসী পুলিশ বক্সের অদূরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত জুয়েল রানা পল্লবী থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী পুলিশ সার্জেন্ট মো. আল ফরহাদ মোল্লা জানান, তিনি পল্লবী ট্রাফিক জোনে কর্মরত। রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে কালসী পুলিশ বক্সের অদূরেই মূল সড়কে একটি বাস বিকল হয়ে পরলে রাস্তায় যানজট লেগে যায়। এসময় বিকল হওয়া বাসের চালককে গালাগাল করছিলেন জুয়েল রানা। তাকে থামার জন্য বললে উল্টো ফরহাদকেও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন ওই যুবলীগ নেতা। এ সময় জুয়েলকে মাস্ক পরে কথা বলতে বললে আরও ক্ষেপে গিয়ে ফরহাদকে চরথাপ্পর মারতে থাকেন জুয়েল। একপর্যায়ে জুয়েল প্যান্টের পকেট থেকে পিস্তল বের করে ফরহাদকে গুলি করার জন্য উদ্যোত হন জুয়েল। সহকর্মী ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় রক্ষা পান।
সার্জেন্ট ফরহাদ আরও জানান, কালশী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে জুয়েল রানা তার ক্যাডারদের খবর দিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেনা ৩০ থেকে ৪০জন এসে বক্সের মধ্যেই ফরহাদ ও তার সহকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। ছিনিয়ে নেয় তার বডিঅন সরকারী ক্যামেরা; ছিঁড়ে ফেলেন পরিধেয় পুলিশের পোষাক। খবর পয়ে পল্লবী থানা পুলিশ এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে সহকর্মীরা আহত ফরহাদকে ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী পুলিশ সার্জেন্ট মো. আল ফরহাদ মোল্লা আজ সোমবার পল্লবী থানায় জুয়েল রানাসহ অচেনা আরও ৪০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর—৬১। তবে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযুক্ত জুয়েলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস কুণ্ড আজ সন্ধ্যায় বলেন, ‘পুলিশ পেটানোর ঘটনায় জড়িত জুয়েল রানাসহ অচেনা আরও ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন হামলার শিকার পুলিশ সার্জেন্ট। অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে আজ অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা জুয়েল রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও ওপাশ থেকে সাড়া দেননি তিনি।

মন্তব্য

মন্তব্য