মাস্ক ব্যবহারের সার্বক্ষণিক পরিপত্র প্রত্যাহার

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাসা/বাড়ির বাইরে সার্বক্ষণিক মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র প্রত্যাহার চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবকে আজ বুধবার এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার ৩ কার্যদিবসের মধ্যে পরিপত্রটি প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।

রাজধানীর আল মুতমাইন্নাহ মা ও শিশু হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার ডা. মুহম্মদ আব্দুল আলী মারুফের পক্ষে আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ এ নোটিশ পাঠিয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে মাস্ক ব্যবহার নিয়ে গত ২১ জুলাই পরিপত্র জারি করে। এতে প্রতিটি কর্মস্থলে কর্মরত ব্যক্তি এবং জনসমাবেশ চলাকালীন আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, ঢালাওভাবে মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা কোনোভাবেই বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ‘ফোর্বস’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অফ আইওয়া’স কলেজ অফ মেডিসিন’-এর মেডিসিন ও এপিডেমিওলজি বিভাগের অধ্যাপক এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ এলি পেরেনচেভিচ বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী যদি পাশের বাড়িতেও থাকে তাও আপনার মাস্ক ব্যবহার করার কোনো প্রয়োজন নেই। একজন সুস্থ মানুষের মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি নয়, উচিতও নয়।’

নোটিশে বলা হয়, ‘ঢালাওভাবে মাস্ক ব্যবহার করা বিপজ্জনক হতে পারে বলে জানিয়েছে খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি জানিয়েছে, মুখে মাস্ক পরে শরীরচর্চা, প্রাতঃভ্রমণ বা জগিং করলে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না। এ অবস্থায় অক্সিজেন কমে উল্টো তা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এসব কারণে মাস্ক ব্যবহার সংক্রান্ত পরিপত্রটি সুস্পষ্টভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার বিপরীত।

পরিপত্রের নির্দেশনাসমূহ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ সকল শিল্প কারখানায় কর্মরত শ্রমিক, হকার, রিকশা ও ভ্যান চালকদের জন্য মাস্ক পরিধান গুরুতর স্বাস্থ্যগত সংকট সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে অত্যাধিক দৈহিক পরিশ্রমযুক্ত ভারী কাজের সময় মাস্ক না পরতে। অথচ পরিপত্রে পরিশ্রমী শ্রমিক, রিকশা ও ভ্যান চালকদেরকে মাস্ক পরিধানে বাধ্য করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য