বঙ্গবন্ধুর উত্তম জীবনাদর্শের সেই মুজিববাদ চাই। কেন সংবিধান লঙ্ঘনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ নাই।

যাঁরা সংবিধান অমান্য করে স্বাধীন দেশে পরাধীন শক্তির বিস্তার ঘটাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের হাতেই জনতার নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দিনে দিনে জীবনীশক্তি হারাচ্ছেন বাঙালী জনতা। বাংলাদেশ পরিপূর্ণ স্বাধীনতা অর্জনের পরও কেন পরাধীনতার নজরবন্ধী হয়ে থাকবে বাঙালী জাতি। স্বাধীনতার ৪৯টি বছর পরও সমাজে সামপ্রদায়িক আর অসাম্প্রদায়িকতার অর্থ বিশ্লেষণে ব্যর্থ জাতি।সামপ্রদায়িকতা আর অসাম্প্রদায়িকতাই জাতিকে শ্রেষ্ঠ স্বাধীনতা লাভের পথে একটি অদৃশ্য দেয়াল জুড়ে দিয়েছে। দেয়াল ভাঙবার সাহস হারিয়েছেন জাতি। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর- আজও জাতির অস্তিত্বে বঙ্গবন্ধু একটি দৃশ্যমান স্বাধীনতার পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন-মহাবিশ্ব মানবতায়।বঙ্গবন্ধুর উত্তম জীবনাদর্শ অনুসরণন ও অনুকরণ করা হলেই স্বাধীনতার মূল্যবোধ সৃষ্টি হবে সমাজে।
যেই দেশে সংবিধান লঙ্ঘন করাকে কোন অপরাধ বলে গণ্য করা হয়না সেই দেশে সংবিধান মূল্যহীন।নিজ কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে নিকৃষ্ট স্বভাবে প্রভাবিত হয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি ও মহা মানবতার অকাল মৃত্যু ঘটেছে।
অসামাজিক ব্যক্তিত্ত্বের স্পর্শে সামাজিকতা রক্ষার সাক্ষ্যদানে উত্তম জ্ঞানীরাও ক্রমান্বয়ে পথভ্রষ্ট হচ্ছে, আমাদের সংবিধান কিছুটা সংশোধনের প্রয়োজন।যাঁরা সামাজিকতার মুখোশ পরে অসামাজিকতার প্রতীক হিসেবে আমাদের চারপাশ ঘিরে রেখেছেন তাদের হাতেই স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হলে তাঁরা ব্যক্তি স্বাধীনতাকেই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করবেন।
দিনে দিনে বাংলাদেশ থেকে মুজিববাদ আদর্শের বিলুপ্তি ঘটছে, জাতির অন্তর্নিহিত শক্তি পরাজিত সৈনিকের ন্যায় তাকিয়ে আছে তার উত্তরাধিকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দিকে।
যে দেশে স্বাধীনতার ঘোষক- শোষক শ্রেণির হাতে খুন হতে পারে, যে দেশে সরকার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, সেই দেশের জনগণ কতটুকু নিরাপদ তা বলে বুঝানোর প্রয়োজন আছে বলে মনে করছিনা।
আমি বাক্ স্বাধীনতার বলে কিছু সত্য বলতে চাই-
আজ দেশে স্বাধীনতা নাই, সরকারি দপ্তরেগুলোতে অর্থ ছাড়া সেবা নাই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে জনতার নিরাপত্তা নাই, হসপিটালে রোগীর সেবা নাই, সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্বাধীনতার মূল্যবোধ নাই, বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ আছে তাহার অনুশীলন নাই, ভূমি অফিসে গরিবের জন্য কোন সেবা নাই।
জাতির গনতান্ত্রিক অধিকার নাই, সত্যের বিধান ও শিক্ষানীতি নাই, সংবিধান লঙ্ঘনের অপরাধ নাই।
সেই দেশের জনগণের পরিবর্তন অকল্পনীয় বিষয় বলেই মনে হয়। আমাদের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই জাতিকে শ্রেষ্ঠ স্বাধীনতা উপহার দেওয়া হউক-জাতির শ্রেষ্ঠ কল্যাণে মুজিববাদ চালু হউক।
মুজিববাদ হল বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চর্চিত ও প্রচারিত রাজনৈতিক দর্শন বা মূল্যবোধের সমষ্টি। মুজিবের রাজনৈতিক দর্শনের মূলনীতি চারটি।  সমাজতন্ত্র, গনতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা। ১৯৭২ সালের ৭ জুন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু এক ভাষণে বলেন, আগে শ্লোগান ছিলো ৬ দফা, এখন ৪ দফা,১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হলে মুজিববাদের চার স্তম্ভ, জাতীয়তাবাদ, গনতন্ত্র,
সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য চারটি মূলনীতি হিসেবে গৃহীত হয়। শিক্ষা তথ্য পরিবার মুজিববাদে বিশ্বাস করে।
হাইউল ইসলাম প্রধান (হাবিব)
সদস্যঃ- শিক্ষা তথ্য পরিবার।

মন্তব্য

মন্তব্য