এ কে উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রক্তন শিক্ষকদের পাঁশে দাঁড়ালো ২০০৩ এর শিক্ষার্থীরা

অনলাইন রিপোর্ট :
গত ২০/০৫/২০২০ এ কে উচ্চ বিদ্যালয় এর ২০০৩ এর শিক্ষার্থীরা সম্মিলিত ভাবে আমাদের এ কে উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রক্তন শিক্ষকদের মধ্যে যারা আর্থিক ভাবে খুব সচ্ছল নয়, সেই সব মানুষ বনানোর কারিগরদের পাঁশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। একটি ক্লাস রুম এ খুব সাদামাটা করে আয়োজন করা হয়েছে শিক্ষক- ছাত্রদের প্রায় দেড় যুগ পরের কাছে আশার এই উদ্যোগটি। যদিও বলছি খুব সাদামাটা আয়োজন কিন্তু এই সাদামাটা অনুষ্ঠানে দ্যুতি ছড়াচ্ছিলেন আমার জীবনে শিক্ষার আলো দানকারী শিক্ষকবৃন্দ। এক মুহূর্তের জন্য মনে হল আমি স্কুল জীবনে ফিরে গেছি, জীবনে ছোট বড় অনেক অনুষ্ঠান এ যাওয়ার সুযোগ হলেও আজকের অনুষ্ঠান আমার জীবনের সবচেয়ে বড় একটি অনুষ্ঠান। আর কেনইবা মনে হবে না। ঐখানে ছিলেন আমাদের স্রদ্ধেয় ইসলাম স্যার, ফজলুল হক স্যার, মোবারক স্যার, আজম স্যার সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। যাদের দান করা শিক্ষার আলো এই এলাকা তথা আশেপাশের সকল এলাকার ঘর গুলিতে এখনো জ্বলছে, তাঁদের উপস্থিথিতি যেকোনো অনুষ্ঠানকে এক আলাদা মর্যাদা দান করে তা বলার অবকাশ রাখে না। আজকে অনুভুতি প্রকাশের দিন, আমি শুধুমাত্র দুই টি কথা দিয়ে আমার অনুভুতি প্রকাশ করতে চাই।

১) আমি প্রথম যেদিন আমার কর্ম জীবনের বেতন হাতে পাই, সেই দিন খুব শখ করে আমার বাবার জন্য একটি হাত ঘড়ি কিনি। ঘড়িটি যে অনেক টাকা দিয়ে কিনেছি তা না। প্রথম বেতনের খুব সামান্য টাকা দিয়েই কিনা হয়েছিল ঘড়িটি। এরপরে জিবনে চলার পথে অনেক যায়গায় অনেক টাকাই খরচ করেছি, কিন্তু ঐ ঘড়িটি কিনে যে আনন্দ পেয়েছিলাম তা আর কথাও পাই নাই । আজকে সেই আনন্দ আবারো পেলাম, আমার শিক্ষকদের জন্য কিছু করতে পেরে। আসলে এমন আনন্দ বেশির ভাগ মানুষই জিবনে এক বারের বেশী পায় না, আমরা ২০০৩ এর শিক্ষার্থীরা এই ক্ষেত্রে অনেক ভাগ্যবান, আমার মতো অনেকেই হয়ত আজকে দ্বিতীয় বারের মতো এই আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছে। উল্লেখ্য আমি আর আমার বাবা ছাড়া বাকি পুরো দুনিয়ার কাছে ঘড়িটির একটি অর্থ মূল্য থাকলেও আমি অনুভব করি আমার মতো আমার বাবার কাছেও ঘড়িটির মূল্য টাকা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না।

২) প্রতি ঈদ এই আমরা প্রিয়জনদের অনেক কিছু উপহার দেই। এই বছর কারো জন্য কিছু কিনতে পারি নাই, তাই মন খুব খারাপ ছিল। কিন্তু আজকে স্কুল থেকে এসে বুঝতে পারলাম প্রতি বছরের তালিকায় একটু কমতি ছিল, এই বছর সেই ঘাটতি পূরণ হোল স্যার দের জন্য কিছু করতে পারার মাধ্যমে। সব ভালো কাজেই আনন্দ পাওয়া যায়, কিন্তু কিছু কিছু কাজ আছে যা করতে পারলে আত্মা এক প্রশান্তি উপলব্ধি করতে পারে, আজকে এমনই কাজ করতে পেরেছি বলে মনে হচ্ছে।
ডেমরা ল’ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আখনূখ জাবীউল্লাহ বলেন,
করোনাভাইরাসের কারণে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডেমরা ল’ কলেজ। চলতি বছরে এক মাসের বেতন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও বলেন, ‘একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের বোঝানো যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ দিয়ে দেওয়া মানে ছুটিতে চলে যাওয়া নয়। ট্যুরিস্ট স্পটে ঘুরতে যাওয়া নয়। আশপাশের দুস্থদের জন্য কিছু করা। সবাই সবার জায়গা থেকেই কিছু না কিছু করতে পারে। তাদের মধ্যে এ বোধ জাগাতেই আমাদের এ উদ্যোগ।

মন্তব্য

মন্তব্য