বান্দরবান জেলায়”পরিবার নামক সংগঠন”এর সেচ্ছাসেবকে জেল ও বিশ হাজার টাকা জরিমানা।

 

ডেভিড সাহা,পার্বত্য চট্টগ্রাম :

বান্দরবান জেলায় যেখানে ক্ষুধার্থ মানুষের নিরবতা আহাজারি সেখানেই বান্দরবান পরিবারের স্বেচ্ছাসেবক মুহিনের ছুটে চলা অভিরাম। মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রামন রোধে সরকারেরনির্দেশনা যখনে সারাদেশে লকডাউন ঘোষনা করলেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরর মাঝে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। বান্দরবানে লকডাউনে থাকা গরীব,দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে ত্রান,খাদ্য ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকরন নিয়ে দাঁড়িয়ে সরকারী,বেসরকারী,ব্যক্তিগত ও সামাজিক সংগঠনের পাশা পাশি স্থানীয় যুবক মুহিন ও ব্যাপক ভুমিকা পালন করে আসছে প্রতিনিয়ত ।
কখনো নিজের টাকায় আবার কখনো বন্ধু বান্ধবদের টাকায় ক্রয় করা ত্রান ও খাদ্য নিয়ে রাত দিন নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন ক্ষুধার্থ মানুষের সেবায়। মুহিন নামের এই যুবক অকালান্ত পরিশ্রম নজর কাড়ে অসহায় হতদরিদ্র কর্মহীন মানুষের । অবশেষ সেই মুহিনকেই নাকি ৩ মাসের জেল ও ২০হাজার টাকা অর্থ দন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায় বান্দরবান সদর উপজেলা
বান্দরবান সদর হাসপাতাল সুত্রেঃজানাযায়,চট্টগ্রাম থেকে আসা আফছার উদ্দিন চৌধুরী নামে এক বিকাশ কর্মচারীকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে কোয়ারেন্টেনে রাখেন স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় যুবক মুহিন কোয়ারেন্টেনে থাকা ওই রুগীর জন্য হাসপাতালে ইফতারী নিয়ে যায়। ইফতারের পর কোয়ারেন্টেনে থাকা আফসার উদ্দিন চৌধুরী উধাও হয়ে যায় হাসপাতাল থেকে। অনেক খোঁজা খুজির পর কোন সন্ধান না পেলে বিষয়টি বান্দরবান সদর হাসপাতাল কতৃপক্ষ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে সরকারী কাজে বাঁধা প্রদান ও কোয়ারেন্টেনে থাকা ব্যক্তিকে পালাতে সহযোগীতা করার অপরাধে মুহিন কে তিন মাস কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থ দন্ড দেয় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব – হাবিবুল হাসান।
এ ব্যপারে বান্দরবান সিভিল সার্জন জনাব –ডাঃ অংশৈপ্রু মার্মা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,হাসপাতালে কোয়ারেন্টেনে থাকা ব্যক্তিকে মুহিন নামে স্থানীয় এক যুবক ইফতারী সরবরাহ করে ছিল। এর পর থেকে কোয়ারেন্টেনে থাকা ওই ব্যক্তিকে পাওয়া যাচ্ছিলনা। আমাদের ধারনা মুহিনের সহযোগীতায় কোয়ারেন্টেনে থাকা রোগী পালিয়েছে। এব্যপারে বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব-মোঃ হাবিবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও বিকাশে কর্মরত মোঃ আফসার উদ্দিন চৌধুরী নামে এক লোক বান্দরবানে আসায় তাকে হাসপাতালে কোয়ারেন্টেনে দেয়া হয়েছিল।
সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় যুবক ও বিকাশে কর্মরত মুহিন ওই কোয়ারেন্টেনে থাকা ব্যক্তিকে ইফতারী দিতে গিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করে। এঘটনায় মুহিনকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৩ মাস কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থ দন্ড দেয়া হয়েছে। এব্যপারে মুহিন জানান,কোয়ারেন্টেনে থাকা আফসার উদ্দিন চৌধুরী তার একই অফিসে চাকুরী করেন। তিনি হাসপাতালের এক কর্মীর মাধ্যমে তার অফিস কলিকের কাছে ইফতারি পাঠিয়ে ছিলেন।তিনি ইফতারি নিয়ে গিয়ে তার কলিকের সাথে কথা বলা তো দুরের কথা দেখাও করেন নি। অহেতুক এঘটনায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে তিনি দাবী করেছেন নিজে । এদিকে এঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক ও স্বেচ্ছা সেবক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে স্বেচ্ছা সেবক কর্মী মুহিনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেছে। এ বিষয়ে স্হানীয় কিছু লোক জন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ও এক সেচ্ছাসেবক বলেন মহামারিতে সবাই যখন লক ডাউন সবাই যখন পরিস্থিতি শিকার টিক তখনি সরকারি সকল কর্মচারি কর্মকতার মত আমারা সেচ্ছাসেবকরাও দিনে রাতে কাজ করে যাচ্ছি। আর মুহিন ও একজন সেচ্ছাসেবক আমাদের সহযোদ্ধা তার প্রতি এরকম অমানবিক কোন ভাবেই আশা করা যায়না।
এ ঘটনার সুস্পষ্ট তদন্ত এবং মুহিনের নিঃ শর্ত মুক্তি দাবি করছি সে বান্দরবান পরিবার নামক সংগঠন এর সেচ্ছাসেবক। এ ব্যাপারে দু মুটো অন্ন জোগাড় ফান্ড এর সেচ্ছাসেবক আদনান সেলিম প্রমুখ বলেন বিভিন্ন সংগঠন থেকে আমরা মানুষের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি মানবতার সেবায়, আমাদের মত এই মহামারীর অন্যতম কার্যকারী একটি মানবিক সংগঠন এর নাম বান্দরবান পরিবার দুঃখ লাগছে একজন সেচ্ছাসেবকে এভাবে অমানবিক নিদর্শন দেখতে, এর সুস্পষ্ট তদন্ত দাবি এবং হাসাপাতালের ডিউটি রত দের জিজ্ঞেসাবাদ করে সঠিক অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা জরুরি, পরিশেষে সেচ্ছাসেবক মুহিনের মুক্তি দাবি করছি।

মন্তব্য

মন্তব্য