গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে পুলিশের ওপর হামলায় ৩শ’ আসামি করে মামলা; গ্রেফতার ৫

রওশন হাবিব,গাইবান্ধা প্রতিনিধি
ভ্যান ছিনতাই চেষ্টায় আটক ছিনতাইকারীকে উদ্ধার করতে গিয়ে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থানার ওসি, তদন্তসহ পাঁচ পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ৪৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও আড়াই শতাধিক আসামি করা হয়।
গত শনিবার সন্ধ্যায় সাদুল্লাপুর থানায় ধাপেরহাট পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরির্দশক রজব আলী বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এছাড়া ভ্যান ছিনতাই চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে আসামি করে আরও একটি মামলা করেছে ভ্যান চালক কিশোরের বাবা ওয়াহেদ মন্ডল। পৃথক এই দুই মামলায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে পুলিশের মামলায় আরিফ, শফিউল ও রাহেনুল এবং ভ্যান ছিনতাই মামলায় গ্রেফতার করা হয় মেহেদি ও হিরু নামে দুইজনকে। গ্রেফতার সকলের বাড়ি ধাপেরহাট ইউনিয়নের সদরপাড়া বউবাজার ও ছত্রগাছা গ্রামে।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা বলেন, শুক্রবার বিকেলে মেহেদি ও ফরিদুল নামে দুই যুবক পীরগঞ্জের চতরা গ্রামের ওয়াহেদ মন্ডলের ছেলে সিয়াম মিয়ার (১৩) ব্যাটারীচালিত ভ্যান ভাড়া করে ঘুরে বেড়ায়। সন্ধ্যার পরে সদরপাড়ার (সন্নাসির দিঘি) একটি কাঁচা রাস্তায় কিশোরের কাছ থেকে ভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে মেহেদী ও ফরিদুল। কিন্তু কিশোরের চিৎকারে তাদের দুইজনকে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দেয় স্থানীয়রা। এসময় আত্মীয় পরিচয়ে গণধোলাইয়ের শিকার ফরিদুলকে পালানোর সহায়তার অভিযোগ উঠে মামা হিরু মিয়ার বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ ছিনতাইকারী ভ্যান ও চালককে উদ্ধারে ঘটনাস্থলে গেলে গ্রামবাসী বিক্ষুদ্ধ হয়। এসময় তারা আটক ছিনতাইকারীর তাৎক্ষণিক বিচার দাবি করেন। কিন্তু পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসতে চাইলে তাতে বাঁধা দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পিকআপে থাকা পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে ওসি, তন্তন্দসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত পুলিশ, আটক ছিনতাইকারী ও ভ্যানসহ চালকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে’।
এদিকে, স্থানীয়রা এলাকাবাসী বলছে, সন্নাসির দিঘিসহ আশপাশ এলাকায় সর্বশেষ দেড় বছর আগে দুই চালককে হত্যার পর ভ্যান ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা। এছাড় মওয়াগাড়ির অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যকেও গলাকেটে হত্যা এবং বোযালিদহ গ্রামের এক ব্যক্তিকে হত্যার পর গাছে ঝুলিয়ে রাখে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, হত্যাসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত বলে তাদের অভিযোগ। স্থানীয়রা এই চক্রকে শনাক্তসহ দ্রæত গ্রেফতারের দাবি জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য