এসি (শ্যামপুর জোন) শাহ আলম এর নেতৃত্বে শিল্পীর আঁকা স্কেচের সাহায্যে ধর্ষক গ্রেফতার।

মোয়াজ্জেম হোসেন :
রাজধানীর কদমতলী থানাধীন মুরাদপুরে শিশু সুমাইয়া আক্তার (০৬) ধর্ষণ মামলার আসামী টুটুল (২২) কে গ্রেফতার করেছে কদমতলী থানা পুলিশ। শিশু সুমাইয়া আক্তার ধর্ষণের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি করেছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার (শ্যামপুর জোন) শাহ আলম এর নেতৃত্বে কদমতলী থানা পুলিশ শিশু সুমাইয়ার ধর্ষককে খুজে বের করতে আধুনিক সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি শিল্পীর আঁকা স্কেচের সাহায্য নেন। আর সম্ভাব্য স্কেচে আঁকা ফটো এর মাধ্যমে আসামী সনাক্ত করে গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরী করে যা শালক হোমস ও ফেলুদার গোয়েন্দা কাহিনীর ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়। জানামতে নিকট অতীতে বাংলাদেশে এরকম ছবি স্কেচ করে আসামী গ্রেফতারের ঘটনা দূর্লভ। ঘটনার বিবরনীতে জানা যায়, গত ২৫শে এপ্রিল বেলা ০৩.০০ টার দিকে শিশু সুমাইয়া আক্তারকে তার বাবা-মা না পেয়ে খোঁজাখুজি করতে থাকে। ঘন্টা খানেক পর তারা সংবাদ পায় তাদের মেয়ে মুরাদপুরের হাজী লাল মিয়া সরদার রোডে আছে। তারা দ্রুত ঐ স্থানে পৌঁছলে তাদের মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় তার পরনের প্যান্টও রক্তে ভেজা ছিল। তখন তারা কদমতলী থানাকে অবহিত করলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরবর্তীতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা একটি ধর্ষণ মামলা করেন। কেননা শিশুটি তাদের কারোরই নাম ঠিকানা বলতে পাড়ছিল না। মামলাটি নিয়ে এসি শ্যামপুর জোন শাহ আলম ভাবতে থাকে। নিজের চিন্তা, মেধা ও প্রজ্ঞা কাজে লাগান। তিনি ঐ এলাকার সকল সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের নির্দেশ দেন। সন্দেহভাজন সবাইকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু কোন কূল কিনারা হয়নি। ২৫ তারিখের একটি ভিডিও ফুটেজ থেকে পাঁচতলা ভবনের সামনে সুমাইয়ার হাত ধরা একটি লোককে আংশিক ভাবে দেখা যায়। করোনার প্রভাবের ইসুতে তার মুখে মাস্ক পরা ছিল যা থেকে তার চেহারা বুঝা যাচ্ছিল না। তখনই এসি শ্যামপুর জোন শাহ আলম ওয়ারী বিভাগের ডিসি শাহ্ ইফতেখার আহমেদ পিপিএম এর সঙ্গে পরামর্শ করে তার পরিচিত একজন প্রফেশনাল আর্টিষ্ট দিয়ে মাস্ক পরিহিত ব্যক্তির একটি সম্ভাব্য স্কেচ আকাঁন যা আমরা বিভিন্ন মুভি বা গোয়েন্দা কাহিনীতে দেখতে পাই। পরবর্তীতে অংকিত স্কেচ প্রায় ১০০ টি রঙিন প্রিন্ট করে মুরাদপুর এলাকায় বিভিন্ন দোকানে খোঁজ করতে দেয়া হয়। অতপর স্থানীয় একজন অংকিত স্কেচ এ আঁকা ফটোটি সনাক্ত করে থানা পুলিশকে অবহিত করেন। তারপর শ্যামপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ আলমের নেতৃত্বে কদমতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ কামরুজ্জামান, এসআই আব্বাস ও এএসআই ওয়ালী উল্লাহ সহ অভিযান চালিয়ে আসামী টুটুলকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষক টুটুল শিশু সুমাইয়াকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে।শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওসিসি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছে। পুলিশের এরূপ সফলতার খবর মূহুর্তেই মুরাদপুর, কদমতলী সহ আশ-পাশের এলাকায় ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে এবং সমাজের সর্বমহল থেকে ব্যাপক প্রসংশাসূচক এসএমএস আসতে থাকে।

মন্তব্য

মন্তব্য