মতলবে জেলেদের চাল আত্মসাতের অভিযোগ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চালের হিসাব চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছেন ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সভাপতি সোলায়মান সরকার। তিনি অভিযোগের অনুলিপি এসপি, ইউএনও, মৎস্য কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন। অভিযোগে ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সভাপতি উল্লেখ করেন, চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন রিপন জেলে কার্ডের প্রায় দুই টন চাল আত্মসাৎ করেছেন। ৩৭১ জন জেলের জন্য চাল এলেও ৩২৫ জনকে চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ইউপি মেম্বাররদের। দুটি ওয়ার্ডে বাকি ৪৬ জনের চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন চেয়ারম্যান। খাদেরগাঁও ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রাম ও আরও কয়েকটি গ্রামের জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও মার্চ মাসের চাল পাইনি। আবার এপ্রিল মাসের চাল ৪০ কেজির জায়াগায় ২০/২৫ কেজি করে পেয়েছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মেম্বার বলেন, চেয়ারম্যান আমাদের সঙ্গে ৪৬ জন জেলের চালের ব্যাপারে কোন সমন্বয় করেননি। কাকে চাল দিয়েছেন আমরা জানি না। দ্বিতীয়বার চাল বিতরণের সময় প্রথম কিস্তির চাল কেলেঙ্কারি ধরা পড়েছে। ইউপি সদস্য হিসেবে এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মন্জুর হোসেন রিপন বলেন, খাদেরগাঁও ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ৫০১ জন জেলের মধ্যে প্রথম ধাপে ৩২৫ জন এবং পরে ১৭৬ জন জেলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অথচ চাল এসেছে ৩৭১ জন জেলের জন্য। তাই মার্চ মাসে ৩২৫ জনকে চাল দিয়ছি। বাকি ৪৬ জন জেলের চাল ১ ও ২ নং ওয়ার্ড মেম্বারদের মাধ্যমে বিলি করা হয়ে গেছে। ওই দুই ওয়ার্ডের জেলেরা সবচেয়ে বেশি অসহায়। সেখানে কেউ ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ দেয়নি। তাই সেখানে চাল দেওয়া হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমা বলেন, ৪৬ জন জেলেকে পরে চাল দেওয়া হয়েছে। তবে চেয়ারম্যান মেম্বারদের সাথে সমন্বয় না করে ১ ও ২ নং ওয়ার্ডে চাল দিয়েছেন। রোববার চাল বিতরণের মাস্টার রোল জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আরো জানান, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মোট তিনটি ইউনিয়নে জেলেদের চাল বিতরণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরদারি করছেন।

মন্তব্য

মন্তব্য