বাউফলের কালাইয়ায় করোনা আক্রান্ত ৫ জনকে অনত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য শত জনতা রাস্তায়

মো:ফিরোজ,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসাধীন পাঁচ করোনা আক্রান্ত রোগী অন্যত্র অপসরণ করে এলাকা’বাসীর করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি কমানোর দাবীতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে অংশ নেয় স্থানীয় শতাধিক নারী পুরুষ।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এঘটনা ঘটে উপজেলার কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রী কলেজ এলাকায়।
এসময় কালাইয়া- ভোলা প্রধান সড়ক’সহ কয়েকটি শাখা সড়কে গাছ ও বাশ ও টিন দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরিফুল ইসলাম, রুবেল, আরিফ, ফয়সাল, শিশির, ফয়সাল, সোহাগ, কল্পনা রানী বলেন, গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে আসা ৬জনের মধ্যে পাঁচজনের করোনা শনাক্ত হয় গত কাল। আক্রান্ত রোগীদের কলেজ ভবনে রাখায় আমরা এলাকাবাসী আতঙ্কিত। আমাদের মাঝে করোনা ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাদের অতিদ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে। না হলে পুরো এলাকার সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকবে।

কালাইয়া- ভোলা-শৌলা- কর্পূরকাঠী ও বগা মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকে। পণ্যবাহী গাড়ী, অ্যাম্বুলেন্স ও কয়েকজন সংবাদকর্মীর মটরবাইক ২মিনিটের গন্তব্যে যেতে হয় ২০মিনিটের রাস্তা ঘুরে। এছাড়াও ভোগান্তির শিকার হয়ে শৌলা- বগী এলাকা থেকে বাজারে প্রয়োজনীয় বাজার করতে আসার সাধারন মানুষ।

বাউফল উপজেলা একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মো. আরিফুল ইসলাম কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে যাওয়ার পথে ভোগান্তির শিকার হন। তাকে বিকল্প সড়ক ঘুরে যেতে হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন,‘ এগুলো কেমন লকডাউন! করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে আমাদের তিন থেকে ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। সেখানে কয়েক’শ মানুষের বিক্ষোভ সংক্রমণ ছড়াতে সাহায্য করবে। মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলবে।

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘ যেকোন ভাবে তাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়েছে, তাই বলে কি তাদের অবহেলা করতে হবে? আমাদের উচিত তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে মানসিক শক্তিযোগাতে সাহায্য করা। আমাদের সবার সচেতন থাকতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া বেড় হওয়া যাবে না। তিনি আরো বলেন, আজকের কয়েক’শ মানুষের বিক্ষোভ করোনা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিলো।
কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস.এম ফয়সাল আহম্মেদ বলেন,‘ রাস্তা সচল রাখার জন্য সকলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের ঘরে ফিরিয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে বাউফল উপজেলা নির্বাহীী অফিসার জাকির হোসেন বলেন, ‘ বিক্ষোভের কোন সংবাদ পাইনি।
এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন,‘ কালাইয়া কলেজে থাকা পাঁচজন করোনা রোগী পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছেন। তাদের বের হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কালাইয়া কলেজেই তারা থাকবে। যদি উপজেলা প্রশাসন মনে করে অন্যত্র নেওয়া হবে।

মন্তব্য

মন্তব্য