গাইবান্ধায় জেলা প্রশাসনের করোনা মোকাবেলায় সংবাদ সম্মেলন

রওশন হাবিব,গাইবান্ধা প্রতিনিধি //
কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে প্রস্তুুতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন,
করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় জেলার প্রস্তুুতি হিসেবে ৭টি সরকারি হাসপাতালে মোট ৪শ’ ৮১টি বেড রয়েছে। এরমধ্যে প্রস্তুতকৃত বেডের সংখ্যা ৩৫টি ও বেসরকারি ১৯টি। এছাড়া জেলায় মোট ১শ ২৬ জন ডাক্তারসহ বেসরকারি ১৯ জন ডাক্তার বর্তমানে ক¤্ররত আছেন। সরকারি নার্স ১শ’ ৯০ জনসহ বেসরকারি নার্স রয়েছেন ১৯ জন। চিকিৎসকদের জন্য ১ হাজার ৩শ’ ৭১টি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) মজুদ রয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের জরুরী চিকিৎসায় স্থানান্তরের জন্য ২টি এ্যাম্বুলেন্স ও ২টি মাইক্রোবাস সর্বক্ষনিক প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা কেন্দ্রে জরুরী বিভাগে ১শ’ বেডের একটি আইসোলেসন কেন্দ্র প্রস্তুুত রয়েছে। এছাড়া করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) রোগীদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসনের জন্য (কোয়ারেন্টাইন) ফ্রেন্ডশীপ সেন্টার প্রস্তুুত করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও প্রয়োজন হলে ২শ’ বেড বিশিষ্ট টিটিসিকে আইসোলেসন/কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে প্রস্তুুত রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে জরুরী সরকারি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত জেলার ৭টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভায় ৬৮ হাজার ৭শ’ দরিদ্র শ্রমজীবি কৃষক পরিবারের মধ্যে ৬শ’ ৮৭ মে. টন খাদ্য সামগ্রী ও ৫২ হাজার ৮শ’ ৭০টি পরিবারের মধ্যে ২৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে জেলায় জিআর ৮ লাখ ৮২ মে. টন চাল, নগদ ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, শিশু খাদ্য ক্রয় বাবদ ৮ লাখ টাকা উপ-বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে জেলায় ১ লাখ ১৩ মে. টন চাল এবং ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা মজুদ রয়েছে। জেলার ৪টি পৌরসভায় শীঘ্রই ওএমএস কার্যক্রম চাল করাু হবে।
জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে আরও বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সর্বত্র মাইকিং এবং বাজার মূল্য মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।জেলা প্রশাসনের ১৬ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট জেলায় এ পর্যন্ত ৯৭টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছে।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো.আলমগীর কবির, সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ, জেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

মন্তব্য