কালীগঞ্জে বেড়েই চলছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা চিকিৎসকসহ হাসপাতালের ১১ জন আক্রান্ত

মোঃ ইব্রাহীম খন্দকার
সিনিয়ার রিপোর্টারঃ
বেড়েই চলছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করলেও বাড়েনি সচেতনতাবোধ। কালীগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে এই যাবত হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স,সেকমোসহ ৩৭ জনের করোনা ভাইরাসের নমুনা রিপোর্ট পজেটিভ পাওয়া গেছে। ঢাকার রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এ করোনাভাইরাস সন্দেহে ৫১ জনের নমুনা পাঠানো হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জানা যায় তাদের মধ্যে ২৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রোর ৫ জন চিকিৎসক, ২ জন নার্স,২ জন সেকমো, ক্যাশিয়ার ও ওটিবয়সহ ১১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।
এছাড়াও কালীগঞ্জ থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান আকন্দ ও কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
করোনা পজেটিভ ২৩ জনের মধ্যে কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৭ জন, বক্তারপুর ইউনিয়নে ৪ জ› ও তুমলিয়া ইউনিয়নে ২ জন আক্রান্ত বলে জানা যায়। গত ৫ দিনে কালীগঞ্জ উপজেলায় ৩৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই মধ্যে লকডাউন আওতায় রয়েছে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রা। বর্হিবিভাগ বন্ধ। শুধু জরুরি বিভাগ সেবা দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তাও সীমিত পরিসরে। ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। আতঙ্কিত বিরাজ করছে সর্বত্র। তবুও কেউ সচেতন হচ্ছে না।
প্রশাসন শতভাগ আন্তরিকভাবে সরকারের নির্দেশ মতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা জোরদার করলেও মেনে চলছে না সাধারন জনগণ। কালীগঞ্জ উপজেলা লকউাউন জারি হলেও অধিকাংশ জনসাধারন বাড়ির বাইরে আড্ডা, অনেকে ক্রিকেট খেলায় মগ্ন। সকাল সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান, মিনি মুদি দোকানপাটে বসে আড্ডা ও খোশগল্প করেই যাচ্ছে সাধারন জনগণ। পুলিশ প্রশাসনের প্রতিদিনের পুলিশ টহল টিম বিভিন্ন এলাকা টহলরত থাকায় তাদের দেখে কিছু সময়ের জন্য বাড়িতে চলে যায় উৎসক জনতা। পুলিশ চলে গেলে আবার জড়ো হতে থাকে আড্ডারত বৃদ্ধ, যুবক, বালক এবং সচেতন মহলের কিছু অংশ। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন প্রতিনিয়ত সচেতন হয়ে ঘর থাকার আহবান জানিয়ে মাইকিং করেও বেশিভাগ জনসাধারনকে ঘরে রাখতে পারছে না।
গত রোববার প্রথম ৫ জনের নমুনায় পজেটিভ পাওয়ার খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কালীগঞ্জ উপজেলাবাসী আতঁকে উঠে। পরেরদিন রিপোর্ট আসে ৩ জন করোনায় আক্রান্ত। মঙ্গলবারে ১ জন, বধুবারে হঠাৎ করে বেড়ে ৫ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়।
ঢাকার আইইডিসিআর থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর মেইল আসে ৫১ জনের নমুনার মধ্যে ২৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রোর ৫ জন চিকিৎসক, ২ জন নার্স,২ জন সেকমো, ক্যাশিয়ার ও ওটিবয়সহ ১১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারন মানুষের মনে এক ধরনের ভয় জন্মাতে থাকে। চিকিৎসকরা আক্রান্ত হওয়ায় জনসাধারনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাই চিকিৎসা সেবা বিঘিœত হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ছাদেকুর রহমান আকন্দ বাড়িতে বসে হাসপাতাল থেকে ২৪ ঘন্টা হেল্পলাইনের মাধ্যমে সেবা পাওয়া যাবে বলে তার ফেসবুক আইডিতে একটি ষ্ট্যাটাস দেন।
হাসপাতালের কর্মরত ৫ জন চিকিৎসকসহ ১১ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে ডাঃ মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান আকন্দ করোনায় আক্রান্তরা কে কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছে তা তিনি বলতে অস্বীকৃতি জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য