গাইবান্ধায আরও দু’জন করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৮

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি //
গাইবান্ধায় আরও দুইজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে একজন সাদুল্লাপুর ও অপরজন সাঘাটা উপজেলার। আক্রান্ত দু’জনেই স¤প্রতি নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো আটজনে। এদের মধ্যে প্রথম পাঁচজনের দুইজন আমেরিকা প্রবাসী মা-ছেলে ও তাদের সংস্পর্শে আসা তিনজন। অপর তিনজনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ফেরত দুইজন ও ঢাকা ফেরত একজন।
গতকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. নুরুননবী লাইজু সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ল্যাবে ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।পরীক্ষায় চারজন শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে দুইজনের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর ও সাঘাটা উপজেলায়। ।সোমবার রাত পোনে ৯টার দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহারিয়া খান বিপ্লব জানান, আক্রান্ত এই যুবকের বয়স ২৮। উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা এই যুবক নারায়ণগঞ্জের একটি পোষাক কারখানার কর্মী। গত ৪দিন আগে বাড়ি ফিরেছে। তার সংস্পর্শে আসা তার বাড়ির ৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ও গ্রামটিকে লকডাউন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর জানান, উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের ৩০ বছর বয়সী এই যুবক ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করতো। গত ৪-৫ দিন আগে সে বাড়ি ফিরেছে। সংস্পর্শে আসা তার বাড়ির ৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।জেলা সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, “ওই দুই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। সোমবার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। দুইজনের ফল পজিটিভ এসেছে। ওই দুই ব্যক্তির সংস্পর্শে আরও যারা এসেছিলেন এখন তাদের খোঁজ করা হচ্ছে।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত ২শ’ ৪৯ জন। জেলার সাত উপজেলায় ১ হাজার ১শ’ ৫৭ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল না জানা পর্যন্ত তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৮০ জন। এছাড়া নতুন করে আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ০২ জন। এদিকে আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ০১ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৮ জন।জেলায় মোট হোম কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে ১ হাজার ৩শ’ ৭৪ জনকে আর কোয়ারেন্টিন শেষে ছাড়প্রাপ্ত হয়েছেন ২শ’ ১৪ জন। এছাড়া গত ১ মার্চ থেকে বিদেশ প্রত্যাগত রয়েছেন ৯শ’ ২৯ জন। এরমধ্যে বিদেশ প্রত্যাগত ব্যক্তি ৪শ’ ৪৪ জনের ঠিকানা ও অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৪৮৫ জন বিদেশ প্রত্যাগত ব্যক্তির অবস্থান এখনও চিহ্নিত করতে পারেননি সংশিলিষ্টরা। গাইবান্ধা সিভিল সার্জন অফিসের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কন্ট্রোল রুম থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্তব্য

মন্তব্য