সন্দ্বীপ থেকে যাত্রী চট্টগ্রাম যাওয়া একেবারে বন্ধ। তবে চট্টগ্রাম থেকে কেউ পালিয়ে আসলে আমাদের করনীয় নেইঃওসি শেখ শরিফুল ইসলাম। 

চট্টগ্রাম জেলা ব্যুরোঃ   বৈশ্বিক মহামারি করোনার  থাবাতে যখন পুরো বিশ্ব পর্যুদস্ত তখন বাংলাদেশ সরকার বা নৌ-মন্ত্রনালয় এর বিস্তার রোধে নৌ-যাতায়াত নিষিদ্ধ করলেও প্রতিনিয়ত চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন নৌ-ঘাট দিয়ে বিশেষ করে বাঁশ বাড়িয়া ঘাট দিয়ে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে সন্দ্বীপে লোক ঢুকার খবর কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে আসছে। প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন জনগন। তাতে সন্দ্বীপের সকল সাংবাদিকরাও একমত ছিলেন।
গতকাল সন্দ্বীপ প্রেসক্লাবের এক ফেইসবুক বিবৃতিতে জনগন, ইজারাদার ও প্রশাসনকে নৌ-ঘাট দিয়ে যাত্রী পারাপার শুন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে অনুরোধ করা হয়েছিলো। তারপরও যাত্রী আসার খবরে আজ সন্দ্বীপ প্রেসক্লাবের সকল নেতৃবৃন্দ প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কয়েকটি প্রস্তাবনা রাখেন। প্রস্তাবনা গুলো ছিলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নৌ-যাতায়াত বন্ধে সীতাকুন্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা, এসপি ও ঘাট ইজারাদারদের চিঠি ইস্যু করে ঘাট গুলোতে চেকপোস্ট বসানো নিশ্চিত করা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদর্শী সম্বৌধি চাকমা সংবাদ কর্মীদের প্রস্তাবে সীতাকুন্ড নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি ইস্যু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
অপর দিকে সন্দ্বীপ উপজেলা গেইটে সংবাদ কর্মীরা কৌতুহল বশত একটি সিএনজিকে দাঁড় করালে ভিতরে থাকা দুই যাত্রী তখন কুমিরাঘাট দিয়ে লালবোটে করে সন্দ্বীপ এসেছেন বলে জানান, দুইজন হচ্ছেন বেক্সিমকো এবং স্কয়ার কোম্পানীর ডেলিভারি ম্যান মফিজুল ইসলাম ও উমেশ চন্দ্র মিস্ত্রী।  তাদের দুই জনের বাড়ি খুলনা তবে তারা চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন। কিন্তু তাদের শুধু মাস্ক ছাড়া কোন জীবানু প্রতিরোধক ব্যবস্থা ছিলোনা বা পিপিই ছাড়া যাতায়াত করছিলেন।  বিষয়টি তাৎক্ষনিক সন্দ্বীপ থানার ওসি শেখ শরিফুল ইসলাম ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ফজলুল করিমকে অবহিত করা হলে তারা বলেন ঔষধের ডেলিভারি ম্যান যাতায়াতে বৈধতা আছে কিন্তু তারা যে জীবানু বহন করছেনা সেটার নিশ্চয়তা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃজাকায়েত উল্যা কে পাঠিয়ে তাদের করোনার লক্ষন নেই বলে নিশ্চিত করেছেন বলে জানান। এবং আগামীতে পিপিই ছাড়া যাতায়াত করলে তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখবেন বলে সতর্ক করেছেন।  তারা দুইজন রহমতপুর হোটেল শুভ নাঈমাতে অবস্থান করছে।
এরপর সন্দ্বীপ থানায় এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।উপস্থিত ছিলেন সন্দ্বীপ ফ্রেস ক্লাবের সভাপতি রহিম উল্যাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল রায় স্বাধীন, অপু ইব্রাহিম, নরোত্তম,রাব্বি ও দৈনিক দিন প্রতিদিন পত্রিকার চট্টগ্রাম জেলা ব্যুরো প্রধান রিয়াদুল মামুন সোহাগ।ওসি শেখ শরিফুল ইসলাম জানান দুই দিন আগে তিনি চট্টগ্রাম থেকে ছয়জন যাত্রী নিয়ে সন্দ্বীপে আসা দুইটি নৌকা জব্দ করেছেন।সন্দ্বীপ থেকে এখন কোন যাত্রী চট্টগ্রাম যাওয়ার সুযোগ নেই।এদিকে জাতীয় দৈনিক দিন প্রতিদিন পত্রিকার চট্টগ্রাম জেলা ব্যুরো রিয়াদুল মামুন সোহাগ চ্যালেন্জ করে বলেন এখনো সন্দ্বীপ থেকে যাত্রী যাচ্ছে কিন্তু ওসি শরীফুল আলম কে প্রমাণ দেখাতে চাইলে উনি প্রমাণ না দেখেই এগুলো ফালতু কথা বলে উড়িয়ে দেন।অনেক রিকোয়েস্ট করার পরেও প্রমাণের ভিডিও দেখেন নাই ওসি শেখ শরীফুল আলম।তবে এখন আরো কঠিন ভাবে সেটি পর্যবেক্ষন করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে কেউ আসলে সেটা নির্বাহী কর্মকর্তা সীতাকুন্ডের নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।না হয় চট্টগ্রাম থেকে কেউ আসলে এ ব্যাপারে ওনার এর চেয়ে বেশী করনীয় নেই বলে জানান এবং সন্দ্বীপের সকল জন সাধারনের প্রতি সমন্বিত প্রচেষ্টায় করোনা নিয়ন্ত্রনে কিছু আহ্বাবান জানান।
এরপরও কি নৌ-যাতায়াত বন্ধে প্রশাসন সফল বা কঠোর হবে সেটা এখন দেখার বিষয় সকল সন্দ্বীপ বাসীর।

মন্তব্য

মন্তব্য