গাজীপুরে পুরো বেতন না দিয়ে পোশাক কারখানার স্টাফ-শ্রমিকদের ছাটাই চেষ্টা, বিক্ষোভ

মাছুদ পারভেজ,গাজীপুর প্রতিনিধি //
গাজীপুর মহানগরের নাওজোর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় শুক্রবার দুপুরে এপিএস হোল্ডিং লিমিটেড নামের পোশাক গার্মেন্টস কারখানায় মার্চ মাসের পুরো বেতন না দিয়ে জোর করে সাদা কাগজে সই ও আইডি কার্ড রেখে শ্রমিক ছাঁটাই চেষ্টা কালে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
কারখানার (সুয়িং সেকশনের স্টাফ) এপিএম মো. আজিজুর রহমান ও মুজিবুর রহমান জানান, কারখানায় সবেতনে ও উৎপাদন ভিত্তিক কিছু স্টাফ এবং শ্রমিক কাজ করেন। তাদের মধ্যে যারা সবেতনে চাকুরি করেন তাদের মধ্য থেকে যাদের চাকুরীর বয়স এক বছরের নিচে এরকম ৩৫৫জনকে মার্চের ২৬দিনের বেতন দিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও আইডি কার্ড জমা নিয়ে কারখানা কতৃপক্ষ ছাটাইয়ের চেষ্টা চালায়। পরে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে বাসন থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশের হস্তক্ষেপে কারখানা কর্তৃপক্ষ কিছু আইডিকার্ড ফেরত ও কিছু স্বাক্ষর নেয়া সাদা কাগজ ছিড়ে ফেললেও দুইশর মতো স্টাফ ও শ্রমিকের আইডিকার্ড ও স্বাক্ষরযুক্ত সাদা কাগজ ফেরত দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
এব্যাপারে কারখানার মানব সম্পদ কর্মকর্তা বাহাদুর আলম জানান, আমরা ২৭মার্চ থেকে কারখানা লে-অফ ঘোষনা করে নোটিশ টানিয়ে দিয়েছি। পরে ২৮মার্চ থেকে নিয়মানুযায়ী স্টাফ-শ্রমিকদের যতটুকু কর্তন করার কথা তারচে অর্ধেক বেতন কর্তন করে মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মার্চের বেতন প্রদানের কাজ চলছে। তবে তিনি স্টাফ-শ্রমিকের আইডি কার্ড নেয়া ও ছাটাইয়ের কথা অস্বীকার করেছেন।
নোটিশ টানানোর ব্যাপারে কারখানার শ্রমিক শিল্পী জানান, বৃহস্পতিবারও ওই লে অফ নোটিশ কারখানা গেইটে ছিল না। শুক্রবার বেতন নিতে গিয়ে কারখানার প্রধান ফটকে ৩০মার্চের স্বাক্ষরযুক্ত কারখানা বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দেয়া হয়। এটি দেখে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ শুরু হয়। কারখানা বন্ধ এবং ছাটাই হলে তাদের চলার কোন পথ থাকবে না। বকেয়া এ বেতনের টাকা দোকান বাকি ও বাড়ি ভাড়ার দিয়ে শেষ হয়ে যাবে। পরে আমরা কি খাব।
বাসন থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দুর্দিনে যাতে স্টাফ ও শ্রমিকদের ছাটাই করতে না পারে তারজন্য আমি শ্রমিকদের আশ^স্ত করেছি এবং স্টাফ ও শ্রমিকদের নেয়া আইডি কার্ড ফেরত দিয়ে স্বাক্ষর নেয়া সাদা কাগজ ছিড়ে ফেলেছি। তারা ২৬দিনের বেতন নিয়ে চেলে গেছে।

মন্তব্য

মন্তব্য