বাউফলে নদী গর্ভে ১২টি বাড়ি বিলীন !

 

মো:ফিরোজ,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি //
পটুয়াখালী বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙ্গনে ১ ঘন্টায় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় ধুলিয়া ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার ১২টি বাড়ি। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় প্রমত্তা তেঁতুলিয়ার কড়াল গ্রাসের কবলে পরে নদীগর্ভে বিলীন হয় এসব বাড়ী ঘর। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে অবস্থিত ধুলিয়া ইউনিয়ন। ইতিমধ্যে ইউনিয়নটির ৪টি গ্রাম গিলে ফেলেছে সর্বনাশা তেঁতুলিয়া। ভাঙ্গনের কবলে পরে ১০ বছর আগে দুই কিলোমিটার দূরে ২০ কাঠা কৃষি জমি ক্রয় করে ঘর তোলে টমটম ও রিক্সা শ্রমিক মনির হোসেন, হাসেম খান, আনোয়ার মৃধা, কাশেম, সফিক, রফিক, আজম, জহিরুল ইসলাম, নুর ইসলাম, এলমাছ, নাসির ও কাওসার সহ ১২টি পরিবার। বসত বাড়ি ঘর হারানো মনির হোসেন জানান, তাদের পৈত্রিক ভিটা নদী গর্ভে চলে যাওয়ার পরে মাতুল সম্পত্তি বিক্রি করে একটি টিনের ঘর তুলে মা-বাবা স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিল। এ গ্রামটির নাম রাখা হয়েছে নতুন বাজার। প্রশাসনের নিষেধ এবং করোনা ব্যাধির ভয়ে এক সপ্তাহ ধরে বাড়িতেই অবস্থান করেছে। নেই কোন আয়ের পথ। এরই মধ্যে মরার উপর খরার ঘা ! বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙ্গন শুরু হয়। ঘরের আসবাবপত্র নিরাপদ দুরত্বে সরিয়ে নিয়ে আসলেও ঘরগুলো ভেঙ্গে আনার সুযোগ হয়নি পরিবারগুলোর। মুহুর্তের মধ্যেই বাসস্থান বড় বড় গাছ পালা পুকুর ও ১টি টিউবওয়েল কেড়ে নেয় তেঁতুলিয়া। স্থানীয় হুমায়ুন কবির দেওয়ান জানান, তার বসত বাড়ী সহ শতাধিক ঘর বাড়ি ও ১১টি মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর কয়েক বছরের মধ্যে বিলীন হয়েছে। ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড সাকে এমএলএ সৈয়দ আশ্রাব আলীর বাড়িটিও প্রায় নিশ্চিহ হওয়ার পথে। স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, আর পারছিনা, উপজেলার মানচিত্র থেকে এ ইউনিয়নটি হারিয়ে যাচ্ছে, অসহায় হয়ে পড়ছি। কিন্তু ভাঙ্গনরোধে মন্ত্রি এমপিরা এসে আশ্বাস দিলেও স্থায়ী কোন সমাধান নেয়নি।

মন্তব্য

মন্তব্য