করোনা আতঙ্কে রোগী নেই গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে

রওশন হাবিব,গাইবান্ধা প্রতিনিধি //
করোনা আতঙ্কে রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে দুইশো শয্যার গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতাল। স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন হাসপাতালে চার থেকে পাঁচশ রোগীর সমাগম থাকলেও এখন তা প্রায় শুন্যের কোঠায়। করোনা আতঙ্কে হাসপাতালের এখন রোগীশূন্য বদলে গেছে হাসপাতালের চিত্র।একসময় বহির্বিভাগ, জরুরী বিভাগ এবং হাসপাতালের প্রতিটি বেডে রোগীতে ঠাসা থাকতো।গত শুক্রবার গাইবান্ধায় করোনা সংক্রমণে তিন রোগীকে আইসোলেশনে রাখার খবরে হাসপাতাল এখন প্রায় রোগীশূন্য।
রবিবার দুপুরে হাসপাতালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতাল ক্যাম্পাসে লোক সমাগম নেই। গোটা ক্যাম্পাস ফাঁকা। ভিতরের শয্যাগুলো ফাঁকা পড়ে আছে।দ্বিতীয় তলায় কয়েকজন রোগী আছে। তারা মারামারিতে আহত হয়ে এখানে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া অন্য কোনো রোগী নেই। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সুত্র জানায়, অন্যান্য সময় হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা নিতে আসতেন চার থেকে পাঁচ শতাধিক রোগী। বর্তমানে আসছেন মাত্র ২৫ থেকে ৩০ জন।চলতি মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহের তুলনায় এখন রোগী আসা অনেক কমেছে।
হাসপাতালের ২৫ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের ময়না খাতুন (৩২) জানান, তুচ্ছ ঘটনায় ভাগিশরিকের সঙ্গে মারামারি হয়েছে। তিনদিন ধরে হাসপাতালে আছি। এখন রোগী কম, ওষুধ শুধু ট্যাবলেট পাচ্ছি। খাবারও ঠিকমত পাচ্ছি। কিন্তু করোনার ভয় লাগছে।
এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হারুণ-অর-রশিদ বলেন, করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি হচ্ছেন না। যারা আগে ভর্তি ছিলেন, তারা ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।শনিবার তিনজন রোগীকে ছুটি দেই হাসপাতালে থাকা ১৭ জন রোগী আমাদের না বলে পালিয়ে যায়।

মন্তব্য

মন্তব্য