করোনা দুর্যোগে সাধারন মানুষের খাবার কষ্ট চরমে উঠেছে

রওশন হাবিব,গাইবান্ধ প্রতিনিধি //
গাইবান্ধায় চারজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্তের খবরে জীবন চিত্র পাল্টে গেছে জেলাবাসীর। সরকারের নির্দেশনায় বাড়িতে বন্দিজীবন কাটছে বেশিরভাগ মানুষের। আয়-উপার্জন না হওয়ায় কষ্টে আছে রিকশা-ভ্যানচালক, চা-পানের দোকানিসহ নিম্নআয়ের মানুষ। সারাদিনেও ৫০ থেকে ১০০ টাকা আয় হচ্ছে না। পুলিশের পিটুনির ভয়ে অনেকেই আবার দোকান খুলতে পারছেন না। তবে প্রশাসন বলছে নিম্নআয়ের মানুষদের দ্রæত তালিকা করে খাবার পৌঁছে দেয়া হবে।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া বাজারের পান বিক্রেতা একরামুল ইসলাম। অভাবেব সংসারে স্ত্রী সহ আছে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। প্রতিদিন বাজার থেকে চাল-ডাল সবজি না কিনলে বাড়িতে চুলায় আগুন জ্বলে না। কারণ স য় বলে কিছু নেই তার। করোনাভাইরাসের কারণে তার দোকান বন্ধ। পান বিক্রেতা একরামুল ইসলাম বলেন, দোকান খুলে রাখতে পারি না, কারণ পুলিশ এসে হুমকি দেয়। এখন দোকান না চললে সংসার চলবে কীভাবে।একরামুল ইসলামের দোকানের পাশের দোকানি রতন বাবু ও আব্দুল জলিলের সংসারেও দিন আনি দিন খাই অবস্থা। ঘরে বসে থাকলে কে নেবে তাদের সংসারের দায়িত্ব। এমন অবস্থা জেলার হাজারো নিম্নআয়ের মানুষের।
হেলে া গ্রামের ভ্যানচালক বাবু মিয়া বলেন, ভ্যান চালিয়ে যা আয় হতো তা দিয়ে সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ চলতো। এখন তো আয় হচ্ছে না সংসার চালাবো কেমনে? হামরা এখন খামো কী?একই অবস্থা জেলার সাত উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষদের। তারা পারছেন না উপার্জন করতে, পারছেন না কাউকে বলতে একমুঠো ভাত দাও। ঠিকমতো খাবার যোগাড় করতে না পেরে ক্ষুধায় কাতরাচ্ছে অসহায় মানুষরা।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, সরকারিভাবে নিম্ন আয়ের মানুষদের দ্রæত তালিকা করে চাল, ডাল, আলু, তৈলসহ নিত্য প্রয়োাজনীয় খাবার পৌঁছে দেয়া হবে।গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া জানান, চিন্তার কোনো কারণ নেই। আগামীকাল থেকে তার নিজ উদ্যোগে অসহায় মানুষদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে তালিকা করে অসহায় মানুষদের জন্য সরকারি সহায়য়তা দেয়া হবে।

মন্তব্য

মন্তব্য