সিন্ডিকেট ও দালাল শ্রেণীর কাছে জিম্মি লবণ খাত…..এম পি আশেক

আবদুল মোমেন //
লবণের চাষি ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান তপন কান্তি ঘোষ।শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে কক্সবাজারে হিলটপ সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় এমপি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এ-সব কথা বলেন।এসময় তিনি বিকল্পহীন খাদ্যপণ্য লবণ শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবার স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।এবং চাষিরা যাতে ন্যায্যমূল্যে উৎসাহ পায়,আবার আমাদানিকারকরাও যাতে হতাশ না হয় সেভাবে লবণের দাম নির্ধারণ করা দরকার বলে জানান।

এছাড়াও,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লবণশিল্পের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক।কিভাবে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যায়,তা নিয়ে ভাবছেন।চাষিদের প্রণোদণামূলক পরিকল্পনাও নিয়েছেন।যা বিসিকের মাধ্যমে লবণের ‘বাফার স্টক’গড়ে তুলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু রায়হান আলবেরুনি উপস্থিত ছিলেন।

এসময় ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন,লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে না পারলে এ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। আগামী মৌসুমে চাষিদের মাঠে নামানো যাবে না।লবণ যেন পেঁয়াজের মতো না হয়।এবং উৎপাদন মৌসুমে যাতে লবণ আমদানি না হয়,সে ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে। মৌসুম শেষেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে আমদানির বিষয়ে পরিকল্পনা নেয়া যেতে পারে।তাও দেশীয় লবণশিল্প ধ্বংস করে নয়।লবণের দাম নিশ্চিত করতে না পরলে আমরা রাজনীতি করে লাভ নাই।
সিরাজুল মোস্তফা দাবী তুলেন, দেশীয় লবণমিলগুলো রক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।১ কেজি লবণ উৎপাদনে ৮ টাকার কাছাকাছি খরচ পড়ে যায়। চাষিদের বাঁচাতে হলে মাঠ পর্যায়ে প্রতি কেজি লবণের দাম ন্যুনতম ১০ টাকা নির্ধারণ করা দরকার।
তার মতে, মজুরি বেড়েছে কিন্তু লবণের দাম বাড়ে নি। যে কারণে চাষা ও লবণ মাঠের মালিকদের ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে।

আশেক উল্লাহ রফিক এমপি বলেন, সিন্ডিকেট ও দালাল শ্রেণীর কাছে জিম্মি হয়ে গেছে লবণ খাত। প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এখনো লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয় নি। বর্গা চাষিরাও খরচ না উঠায় হতাশ। যে কারণে লবণশিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অনেকে। এ বছর জেলার অনেক জায়গায় মাঠে নামে নি চাষিরা। অনাবাদি পড়ে আছে বেশকিছু লবণমাঠ।
সঠিক দাম নিশ্চিত করতে দ্রুত একটা সমাধনের পথ বের করা দরকার বলে জানান এমপি আশেক।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানকে জানান, সরকারের মেগা প্রকল্পের কারণে অনেক লবণ জমি কমে গেছে। বেকার হয়ে পড়েছে চাষিরা। যেসব জমিতে লবণ উৎপাদন হচ্ছে তাতে সঠিক দাম না পেলে চাষিরা হারিয়ে যাবে।

কোন আমদানি নয়, ন্যায্যমূল্যে মাঠ থেকেই সরকারীভাবে লবণ কেনার জন্য অনুরোধ করেন জেলা প্রশাসক।

বৈঠকে মহেশখালী পৌর মেয়র আলহাজ্ব মকছুদ মিয়া, বিসিকের ডিজিএম মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান, লবণচাষি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. কাইছার ইদ্রিস, বিসিকের অডিট অফিসার ইদ্রিছ আলী উপস্থিত ছিলেন।

ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান তপন কান্তি ঘোষ এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকালে কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডিতে বিসিকের পাইলট প্রকল্প ও লবণমাঠ পরিদর্শন করেন। কথা বলেন লবণ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সাথে। সেখান থেকে লবণ শিল্প নগরী ইসলামপুরে বিভিন্ন লবণমিল ঘুরে দেখেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কিছু অংশসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার চাষযোগ্য লবণজমির পরিমাণ ৬০ হাজার ৫৯৬ একর। গত বছর থেকে দাম না পাওয়ায় এ বছর বেশ কিছু জমিতে লবণচাষ হচ্ছে না। তবু আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। এ বছর লবণের চাহিদা ১৮.৪৯ লক্ষ মে. টন। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮.৫০ মে. টন।

গত ৬ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ৫ লাখ ৬ হাজার ৪২২ মে. টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় এক তৃতীয়াংশ।
গত বছর এই সময়ে উৎপাদিত লবণের পরিমাণ ৫ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৫ মে. টন।
গত মৌসুমে ১৬ দশমিক ৫৭ লাখ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে লবণের উৎপাদন ছিল ১৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন।

জেলায় বর্তমানে মাঠে লবণ উৎপাদনে জড়িত ৪৪ হাজারের বেশি চাষি পরিবার। নভেম্বর থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ছয় মাস লবণ উৎপাদন মৌসুম।

মন্তব্য

মন্তব্য