গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৭ বছরেও শেষ হয়নি পুলিশ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ 

রওশন হাবিব, গাইবান্ধা প্রতিনিধি //

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাত বছরেও মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়নি। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের চার পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করে জামায়াত শিবিরের ক্যাডাররা। ৬ বছর পর ২০১৯ সালে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় শুরু হয় জামায়াত-শিবির ও সাঈদী অনুসারীদের নারকীয় তাণ্ডব। বামনডাঙ্গা স্টেশনের রেললাইন উপড়ে ফেলে আওয়ামী লীগের দলীয় অফিস ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় আগুন দিয়ে দোকানপাট লুটপাট করে তারা। এরপর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ঢুকে চার পুলিশকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। সাত বছর পেরিয়ে গেলেও মর্মান্তিক এই হত্যাযজ্ঞের বিচার না হওয়ায় হতাশ নিহতদের স্বজনর।স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শুনছি বিচার কাযক্রম প্রক্রিয়াধীন। কবে নাগাদ এটা শেষ হবে-এটা আমরা জানি না।মামলার সব কার্যক্রম শেষ করে এ সরকারের আমলে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা নিহত পুলিশ পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তাসহ তাদের পরিবারের পাশে আছি। কোর্টে এ মামলাটা তদন্তে রয়েছে। সময় মতো সাক্ষী আদালতে পাঠানোর বিষয়ে আমরা তৎপর রয়েছি।

গাইবান্ধা জেলা দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, এ মামলায় মোট সাক্ষী ৭৪ জন। এরইমধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। আশা করি, এ বছরের মধ্যে মামলা দ্রুতই শেষ করতে পারব।উল্লেখ্য, মামলায় ২৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। এর মধ্যে এক নম্বর আসামি মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ঘোড়ামারা আজিজ পলাতক রয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য