শ্যামপুর জোনের এসির নেতৃত্বে হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন আসামী-৪

সাহেল আহমেদ সোহেল //

একের পর এক সাফল্য দেখিয়েই চলছেন ওয়ারী বিভাগের শ্যামপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ আলম। শ্যামপুর-কদমতলী থানা এলাকার সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম এসি শাহ আলম। বাজপাখির মতো দৃষ্টিতে তিনি সর্বক্ষণ দুই থানার অলিগলি পর্যন্ত নিজের নজরে রেখে চলেন। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা অনেক আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। ভ্রাম্যমান মাদক ব্যবসায়ী ও এলাকার পাতি রংবাজরা আছে দৌড়ের উপর।তিনি যে কোন ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই তড়িৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দিয়ে অপরাধীদের ধরে আইনের আওতায় আনতে সিদ্ধহস্ত । এজন্য এলাকার সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের ব্যাপক প্রশংসাও পেয়েছেন শ্যামপুর জোনে যোগদান করা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই। এমনই এক ঘটনা ঘটে গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, বিক্রমপুর প্লাজা টু চেয়ারম্যান বাড়ি রোডের মিশুক চালাক রাসেল ব্যাপারীর ক্লু লেস হত্যার ঘটনাটি ঘটার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতায় চারজন আসামি গ্রেফতার করে এবং অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। ঘটনার তথ্যবিবরণীতে জানা যায়, নিহত রাসেল ব্যাপারীর পিতা মোহাম্মদ শহীদ ৩রা ফেব্রুয়ারি সারাদিন ও রাতে তার ছেলে বাসায় না ফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের বাসায় খোঁজ করেন, পরবর্তীতে কোথাও কোনো খোঁজ না পেয়ে কদমতলী থানায় তার ছেলে নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এই সাধারণ ডায়েরির তথ্য এসি অফিসে আসা মাত্র এসি শ্যামপুর জোন মোহাম্মদ শহীদের ছেলেকে খুঁজতে কদমতলী থানা কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন এবং তার অধীনস্থদের কিছু কৌশলও শিখিয়ে দেন। ঘটনাটি অবগত হওয়ার পর থেকেই সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে থাকেন ডিসি (ওয়ারি) শাহ ইফতেখার ও এডিসি নাজমুন্নাহার। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর, ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান, ইন্সপেক্টর মাহবুব, এস আই কৃষ্ণ দাস বৈরাগী এসিকে রাসেল নিখোঁজের ব্যাপারে অবগতি করেন। পরক্ষণেই তিনি ঘটনাস্থলে এসে নিজের প্রজ্ঞা বুদ্ধিমত্তা ও কৌশল ব্যবহার করে রাসেলকে যারা হত্যা করে লাশ গুম করেছে তাদেরকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তৎক্ষণাৎ এসির নেতৃত্বে শুরু হয় অপরাধী গ্রেফতার অভিযান। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই চারজন অপরাধীকে গ্রেফতার করে এবং তাদের দেয়া তথ্যমতে নিহত রাসেল এর মৃতদেহ ১০৪৯ রজ্জব আলী সরদার রোডের নজরুল ইসলামের নির্মাণাধীন বাড়ির সিঁড়ির নিচে মুখ খোলা পানির ট্যাংকির মধ্যে থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহ উপরে তোলার পর রাসেলের পিতা তার ছেলের লাশ সনাক্ত করে। পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মর্গে প্রেরণ করেন। এমন তথ্য বিহীন একটি ঘটনা এতঅল্প সময়ের মধ‍্যে তদন্ত করে আসামি গ্রেপ্তার করায় এলাকাবাসী ওয়ারী বিভাগের ডিসি শাহ ইফতেখার, এডিসি নাজমুন্নাহার, এসি শাহ আলম, কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর, ওসি তদন্ত ওসি অপারেশনসহ সকল পুলিশ অফিসারদের অভিনন্দন জানায়।

মন্তব্য

মন্তব্য