প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আছে ,নেই জনবল রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স নানা সমস্যায় জর্জরিত। উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষ চিকিৎসা সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জনবলের অভাবে অনেককে সেবা না নিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে অন্যত্র।

সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জনবল সঙ্কটে নষ্ট ও অকেজো হয়ে পরে আছে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি। একারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ায় ন্যায্য চিকিসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। তবে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সে তুলনায় কোনো বরাদ্দ পাচ্ছে না। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন শতশত রোগী আসে বর্হিবিভাগে চিকিৎসার জন্য।
এসময় কথা হয় রৌমারী উপজেলার মন্ডল পাড়া গ্রামে ছলিবর, সুতিরপাড়া গ্রামের শহিদ মিস্ত্রি, হরিণধরা গ্রামের রুহুল আমিনসহ আরও অনেকের সাথে। তারা জানান, চরমভাবে অবহেলিত হয়ে পড়েছে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটি। পয়ঃনিষ্কাসন ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এক কথায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সেটি।
উপজেলার এই ৫০ শয্যার হাসপাতালে ১০জন চিকিৎসকের স্থলে রয়েছে ৫জন চিকিৎসক । আর এ ৫জন চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এতে চরমভাবে দুর্ভোগে পড়েছে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

অপারেশন থিয়েটারে সার্জারী এবং এনেস্থেশিয়া কনসালটেন্ট না থাকায় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার দীর্ঘ দিন ধরে চালু করা সম্ভব হয়নি।

রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে সরকার অনুমোদিত ১০ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বর্তমানে ৫ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। স্বাস্থ্য সহকারি ৩২ জনের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৪ জন। কমিউনিটি উপসহকারি (স্যাকমো) ৬জনের পদ থাকলেও আছেন ৪ জন। নার্স ১৫ জনের মধে আছেন ১০ জন । ওয়ার্ড বয় ৩ জনের মধ্যে ১জন আছেন। আয়া ৩ জনের পদ থাকলেও আছেন ১জন। পরিচ্ছন্ন কর্মি ৫জনের পদ থাকলেও বর্তমানে পদ শূণ্য রয়েছে। নাইড গার্ড পদও শূণ্য। ল্যাব টেকনিশিয়ারনের ৩ জনের পদ থাকলেও রয়েছে শূণ্য। এছাড়াও সহকারি সার্জন, গাইনি ও সার্জিক্যাল স্পেশালিস্টের পদ দীর্ঘদিন থেকেই শূন্য রয়েছে।

স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পদগুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক জনবল নেই। প্যাথলজি বিভাগ আছে কিন্তু টেকনোলজিস্ট নেই। ফলে রক্ত, মলমূত্র পরীক্ষা করতে রোগীদের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হয়। দীর্ঘ দিন থেকে অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ডেন্টাল ও চক্ষু রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আছে কিন্তু ডাক্তার নেই।

এব্যাপারে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোমেনুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত চাহিদা দিয়ে বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

মন্তব্য

মন্তব্য