ক্যান্সারে আক্রান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ বছরের শিশু মীর সাদিদ

ইসাহাকআলী ,চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের কামালপুর মুচড়াপাড়ার বাসিন্দা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. শফিকুল ইসলামের মাত্র ৪ বছরের শিশু মো. মীর সাদিদ মরণব্যাধী ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। বর্তমানে মীর সাদিদ মৃত্যু পথযাত্রী। একদিকে দরিদ্র দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পিতার আড়াই কাঠা ভিটেবাড়ী ছাড়া কোন সহায় সম্বল নেই, অন্যদিকে ৪ বছরের শিশুর ব্লাড ক্যান্সার। কিন্তু পিতা-মাতার মন তো, সাধ্য না থাকলেও, মন তো চায় তাদের ছেলেটি বেঁচে থাকুক। কিন্তু শিশু মীর সাদিদ এর চিকিৎসার জন্য মোটা অংকের অর্থের প্রয়োজন। কোনভাবে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা করলেও, মীর সাদিদ এর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় ৭ লাখ টাকা খচর হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এত টাকা খরচ করে শিশুটির চিকিৎসা করা সম্ভব নয় সাদিদ এর দরিদ্র পিতা-মাতার। ফলে পিতা-মাতার চোখের সামনেই দিনে দিনে শিশুটি মৃত্যুর দিকে চলে যাচ্ছে। তাই সমাজের বিত্তবান, হৃদয়বান এবং সরকারীভাবে ৪ বছরের এই শিশুটির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন প্রতিবন্ধী পিতা মো. শফিকুল ইসলাম।

জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের কামালপুর মুচড়াপাড়ার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন। এতে ২ চোখেরই দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে যায়। অনেক চিকিৎসা করেছেন, কিন্তু লাভ হয়নি। তিনি বর্তমানে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। একদিকে নিজে অন্ধ এবং সম্পূর্ণ সুস্থ নয়, অপরদিকে ৪ বছরের শিশুর ব্লাড ক্যান্সার। তাঁর এই শিশু সন্তান মো. মীর সাদিদকে মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারের হাত থেকে বাঁচাতে মিনতী জানিয়ে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেছেন অসহায় পিতা। মীর সাদিদের পিতা শফিকুল জানান, তাঁর ২টি ছেলে সন্তান। এর মধ্যে বড় ছেলে মীর সাব্বির ৮ম শ্রেণীতে পড়ে। ছোট ছেলে ৪ বছর ৪ মাসের সন্তান মীর সাদিদ। মাত্র আড়াই কাঠা জমির উপর বাড়ি করে কোনমতে বসবাস করি। এইচএসসি পাশ করে লেখাপড়ার এক পযায়ে বি.কম পরীক্ষা দেয়া হয়নি। সোনামসজিদ স্থলবন্দরের এক সিএন্ডএফ এজেন্টের আওতায় বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করি। এরমধ্যেই ২০১৩ সালে মটরসাইকেলে বাড়ি যাওয়ার সময় বন্দর থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাকের ধাক্কা থেকে বাঁচতে গিয়ে মিশুকের সাথে জোরে ধাক্কায় মাথায় প্রচন্ড আঘাত প্রাপ্ত হই।

দেশের চিকিৎসার পর ভারতের বিভিন্নস্থানে এবং পরে দেশের অনেক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করে কোন লাভ হয়নি। নিজেই অক্ষম হয়ে গেলাম। নিজের জন্য অনেক টাকা খরচ, তারপর আবার ছোট ছেলে মো. মীর সাদিদ এর অসুস্থতা। সব মিলিয়ে যেন চারিদিকই অন্ধকার আমার পরিবারের। স্ত্রী সালমা বাড়িতে সেলাই মেশিন চালিয়ে যা আয় হয় এবং সাদিদের মামা কিছু সহযোগিতা করে, তাই দিয়ে কোনভাবে সংসার চলে। শিশু সন্তান মো. মীর সাদিদের চিকিৎসার জন্য আমি স্থানীয় এমপি ও চেয়ারম্যানের কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়ে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোন সহাযোগিতা পায়নি। চিকিৎসকদের পরামর্শ মোতাবেক আমার সন্তানের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় ৭ লাখ টাকা খচর হবে। আমি একজন দরিদ্র মানুষ। বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মীম সাদিদের দরিদ্র ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পিতা শফিকুল। নিজেকে সামলিয়ে পরে বলেন, আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করি। চিকিৎসা শেষে ডাক্তার ডা. মুরশেদ জানান, বিভিন্ন রকম পরীক্ষা-নিরিক্ষা করার পর ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে।

পরবর্তীতে তিনি ঢাকা পি.জি হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেসাটোঅনকোলজি বিভাগে চিকিৎসার পরামর্শশ দেন। কিন্ত অর্থের অভাবে শিশু মীর সাদিদকে নিয়ে যেতে পারিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবেদককে তিনি আরও জানান, এবছর জানুয়ারী মাসের ১৬ ও ১৮ তারিখ রাজশাহীর রয়েল ক্লিনিকে মীম সাদিদের চিকিৎসা করা হয় এবং তাকে ব্লাড দেয়া হয়েছে। শফিকুল ইসলাম আরও জানান, রাজশাহীর ডাক্তার মো. রবিউল ইসলাম চিকিৎসা করে জানিয়েছেন, মীম সাদিদ এর ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে হবে। সাদিদের ২ থেকে আড়াই বছর চিকিৎসা চলবে একটানা। ঢাকা পি.জি হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যে কোনটাতে এই চিকিৎসা শেষ করতে প্রায় সাড়ে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ হবে। সফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবেদককে জানান, ৩/৪ দিন থেকে পেট ব্যাথাসহ সারা শরীরে ব্যাথা হচ্ছে সাদিদের। কয়েক রাত ধরেই পরিবারের কেউ ঘুমাতে পর্যন্ত পারছিনা। পালা করে রাত জাগতে হচ্ছে। রাজশাহীর চিকিৎসকের পরামর্শ মতোই ঔষধ খাওয়াচ্ছি। এছাড়া কোন উপায় নেই। ছেলের সারারাত ধরে ছটপটানিতে তাঁর মা ও আমি চরম দূশ্চিন্তায় দিন-রাত কাটাচ্ছি।

এই মোটা অংকের টাকা জোগাড় করা সাদিদের পিতা শফিকুল ইসলামের পক্ষে কোভাবেই সম্ভব হচ্ছেনা। তাই তিনি সমাজের বিত্তবান, বিবেকবান মানুষের কাছে তাঁর ছেলের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে মীম সাদিদের জীবন বাঁচাতে কান্নাজড়িত কন্ঠে বার বার আকুতি জানিয়েছেন। মীম সাদিদের চিকিৎসার সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা মীম সাদির এর পিতা শফিকুল ইসলাম বিকাশ নম্বর (পার্সোনাল)০১৭৪০-৯৬০৩২৮ ও মা সালমা-নগদ ক্যাশ এ্যাকাউন্ট-০১৭৫১-৪২৪২৬২। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু মীম সাদিদের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসবেন বিত্তবান, বিবেকবান, হৃদয়বান মানুষগণ, এমনটায় আশা সচেতন মহলের।

মন্তব্য

মন্তব্য