কোমড় পানি ও হাটু পরিমান কাদা ডিঙ্গিয়ে সনাতনী পদ্ধতিতে সন্দ্বীপ বাসির নদী পারাপার

চট্টগ্রাম জেলা ব্যুরোঃ বর্তমান আধুনিক যুগেও মান্দাতার আমলের মতো কোমড় পানি ও এক কিলোমিটার কাদা মাড়িয়ে সনাতনী কায়দায় চলতে হয় ৪ লক্ষ সন্দ্বীপ বাসীকে। পুরাতন একটি জেটি ও নতুন নির্মান সমাপ্তির পথে অন্য জেটিও কোন কাজে আসছেনা । কুমিরা অংশে থাকা জেটিও ব্যবহার হচ্ছে কেবল জোয়ারের সময়। নির্মাণ ত্রুটির কারণে এ জেটি ব্যবহার করা যায় না ভাটার সময়।কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটের এ অংশে রহস্যময় আচরণ করছে নদী। একবার এখানে চর পড়ছে, আরেকবার শুরু হয় তীব্র ভাঙন। এ কারণে যথাযথভাবে সম্পন্ন করা যাচ্ছে না প্রকল্পের কাজও। দূর করা যাচ্ছে না যাত্রীদের ওঠানামার কষ্টও বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প গ্রহণের আগে নদীর মাটি পরীক্ষা করে সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বুয়েটকে। তাদের মতামত নিয়েই এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।কিন্তু সমীক্ষার ফলাফল ব্যার্থ হচ্ছে কেন তারও কোন জবাব নেই। তাহলে সমীক্ষাকে ফাঁকি দিয়ে প্রকল্পের কাজে হাত দেওয়া সরকারী টাকা নয় ছয় করার নামান্তর বলে জানাচ্ছেন শুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সরেজমিন দেখা যায়, সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া অংশে যাত্রী ওঠানামার জন্য আছে ২ জেটি। ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জেটির একটি অংশ তলিয়ে গেছে নদীগর্ভে। নির্মাণের ছয় মাসের মাথায় ভেঙে গেছে এ জেটির সামনের অংশ। এ জন্য এ জেটিতে ওঠানামার কাজও সারতে পারছেন না যাত্রীরা। পুরোনো এ জেটির ৫০০ গজের মধ্যেই হচ্ছে নতুন আরেকটি জেটি। এ জেটির নির্মাণ কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে। এ জেটি থেকেও সেবা পাবেন না জনগণ। এ দুটি জেটির পাশে আছে একটি কেওড়া কাঠের বিশাল সেতু তাও বন বিভাগের বনকে অবৈধ ভাবে উজাড় করে তা করা হয়েছে বলে জানালেন গুপ্তছড়া ঘাট সংলগ্ন মোঃ জামসেদ মিয়া।এ ক্ষেত্রে বন বিভাগের ভুমিকাও রহস্যময়।

প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই কেওড়া কাঠের সেতু দিয়েই এখন আসা-যাওয়া করছে দ্বীপের মানুষ। জোয়ার এলে কেওড়া কাঠের জেটিতে নোঙর করে স্পিডবোট। ভাটা থাকলে হাঁটুসমান কাদা।

মাটি পরীক্ষা না করে জেটির প্রকল্প গ্রহণ করায় এখন জলে যাচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। আগের জেটি নির্মাণের ছয় মাসের মধ্যে একাংশ ভেঙে পড়েছিল। এখনকার জেটি থেকেও কোনো সুফল পাবে না সাধারণ মানুষ। কেওড়া কাঠের জেটি দিয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে এখন প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। ভাটা হলে হাঁটুসমান কাদামাটি মাড়াতে হয় অসুস্থ রোগীকেও। অথচ জেটি নির্মাণের টাকা সাধারণ মানুষের পকেট থেকেই কেটে নিচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ। এ দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবী। আগের জেটির যে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগ আছে, সেই একই ঠিকাদার কীভাবে নতুন জেটির কাজ পেলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সন্দ্বীপের জনপ্রতিনিধিরা।

মন্তব্য

মন্তব্য