চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে নরেশ্বর দাসের ই-স্কুল ছিন্ন মুল শিশুদের ভিক্ষা বৃত্তি ছেড়ে আসতে প্রেরনা যোগাচ্ছে।

বাদল রায় স্বাধীন,সন্দ্বীপঃ চট্টগ্রাম বটতলী রেলস্টেশনের ফ্লোরে বিগত দুই বছর ধরে পথ শিশুদের নিয়ে একটি স্কুল পরিচালনা করে আসছেন সন্দ্বীপের মাঈট ভাঙ্গা ইউনিয়নের সন্তান নরেশ্বর দাস । যেখানে গেলে আপনার চোখে পড়বে নাম পরিচয়হীন ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত শিশু বা ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িতদের সন্তান যারা রেলস্টেশন সহ রাস্তার পাশে বসবাস ও রাস্তার পাশে ঘুমায় এমন শিশুরা প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার দুই দিন এ স্কুলে পড়াশুনা করছে।সম্পুর্ন ফ্লোরে ত্রিপল বিছিয়ে সারিবদ্ধ ভাবে বসে পরে তারা। অত্যান্ত আগ্রহ ও মনযোগের সহিত পড়ালেখা করে তারা ।

স্কুলটির নাম দেওয়া হয়েছে ই-স্কুল বা ইলেকট্রনিক স্কুল। নাম করনের উদ্দেশ্য ছিলো মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা দানের পাশাপাশি বিনোদন প্রদান। স্কুলের ব্যানারে দুটি শ্লোগান লেখা “আর করবোনা ভিক্ষাবৃত্তি/ই-স্কুলই আসল শক্তি ও ভিক্ষাবৃত্তি পরিহার করি /ই -স্কুলে জীবন গড়ি।গত ৩১ জানুয়ারী কর্নেল অবসর প্রাপ্ত দিদারুল আলম, বিটিভির সাবেক প্রযোজক বেলাল বেগ, অভিনেত্রী সামিয়া মিতু ও আমি স্কুলটি পরিদর্শন করে সরেজমিনে দেখলাম প্রায় ৪০ জন শিশু সেখানে পড়তে এসেছে তার মধ্যে কারো গায়ের জামা ছেড়া, কারো গায়ে জামা নেই, কেউ আবার প্রতিবন্ধী এমন সব ছাত্র /ছাত্রী। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো এই স্কুলে পড়তে এসে অনেকে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়েছে।

অনেকে অনৈতিক সব কাজ ফেলে এখন ব্যস্ত পড়ালেখায়। পরিচালক নরেশ্বর দাস দাদা জানালেন এদের বিভিন্ন সময়ে পোষাক, স্কুল সামগ্রী, ঔষধ সাপোর্ট সহ প্রতিনিয়ত নাস্তা দেওয়া হয়। শুরুতে নাস্তা না করালে তারা পড়তে আসতোনা। অনেকটা শিক্ষাগ্রহনের বিপরীতে খাবার প্রদানের মতো।কিন্তু তারা এখন খাবার না পেলেও স্কুল কামাই করেনা। তারা বুঝতে পেরেছে বেঁচে থাকার জন্য সত্যি শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।তাই অনেক অভিবাবক যে ছেলেকে ভিক্ষা বৃত্তিতে কাজে লাগাতো তারা এখন শুক্র ও শনিবার এলে তাগাদা দেয় স্কুলে গিয়ে পড়ার জন্য।স্কুলে ক্লাস করতে এসে অনেকে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়েছে। পরিচালক নরেশ্বর দাস জানার একজন নিয়োগকৃত শিক্ষককে প্রতিদিন ক্লাস পরিচালনার জন্য ৫০০ করে টাকা দেয়া হয়।

এতে মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন ভাবে অর্থ সাপোর্ট দিয়ে থাকেন সন্দ্বীপের দুই কৃতি সন্তান মেজর শরফুদ্দিন পাটোয়ারী ও কর্নেল দিদারুল আলম ।তবে শুরুর সময় আরো অনেকে জড়িত থাকলেও বিভিন্ন কারনে তারা আজ পাশে থাকতে পারছেননা বলে বেশীর ভাগ সময় নরেশ্বর দাদা বন্দরে একটি চাকুরির সুবাদে সেখান থেকে বেতনের টাকা বাঁচিয়ে এই মহতী কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করছেন। অনেক বাধা বিঘ্ন ও দৈন্যতা থাকলেও এটি চালিয়ে যাওয়ার ওনার সু-দৃর মনোবল প্রকাশ করে বললেন যতই প্রতিবন্ধকতা আসুক এই বিদ্যালয় আমি চালিয়ে যাবো । তার দৃঢ় মনোবল দেখে বলতে ইচ্ছে করলো নরেশ্বর দা মানুষের ঈশ্বর নরেশ্বর না হতে পারলেও ছিন্ন মুল শিশুদের ঈশ্বর হয়ে বেঁচে থাকুন অনন্তকাল .

মন্তব্য

মন্তব্য