ভোলাহাট উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নিম্নমানের ও চিটা ধান মিশ্রিত ধান ক্রয়ে বাধা দেয়ায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে হুমকি ও চাঁদাবাজী মামলা দেয়ার নামে ঘন্টাব্যাপী অবরুদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভোলাহাট উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসাঃ শাহনাজ খাতুন। রোববার সকাল ১১ টায় জেলা শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি নিজেই। এসময় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ধান ক্রয়ে অনিয়ম হচ্ছে মর্মে তিনি ভোলাহাট উপজেলা খাদ্য গুদামে গেলে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিবুল আলম ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ সামিউল ইসলাম।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তার লিখিত বক্তব্যে এবছর আমন ধান ক্রয়ে অনিয়ম ও দূর্ণীতি হচ্ছে মর্মে অভিযোগ পেয়ে গত ১৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকেলে অফিস সহায়ক মোঃ খাইরুল ইসলামকে নিয়ে খাদ্য গুদামে গেলে তাঁর সাথে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিভিন্ন অসৌজনমুলক আচরণের বিষয় তুলে ধরেন মিডিয়াকর্মীদের সামনে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহনাজ খাতুন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদীহিতার মাধ্যমে এবছর আমন ধান ক্রয়ের ঘোষনা দেয়া হলেও ভোলাহাট উপজেলায় আমন ধান ক্রয়ে অনিয়ম ও দূর্ণীতি হচ্ছে মর্মে অভিযোগ পেলে গত ১৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকেলে তিনি তার অফিস সহায়ক মোঃ খাইরুল ইসলামকে নিয়ে খাদ্য গুদামে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নেই। সেখানে খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী কয়েকজন কৃষকের নিকট হতে ধান ক্রয় করছেন। ক্রয়কৃত ধান পরীক্ষা করলে তাতে অতিরিক্ত চিটা ধানের অস্তিত্ব দেখতে পান। ভাল ধান ক্রয় না করে চিটা ধান ক্রয় করতে দেখে তিনি নিরাপত্তা প্রহরীকে প্রশ্ন করলে, ধানের মধ্যে চিটা আছে বলে স্বীকার করে নিরাপত্তা প্রহরী বলেন, ‘চিটা ধান আছে তবে, আপনি যত বলছেন, ততটা নয়’।
এক পর্যায়ে নিরাপত্তা প্রহরীর ফোনে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ সামিউল ইসলাম মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে খাদ্য গুদাম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করে বলেন এবং যদি না যান তবে আপনার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী মামলা দিতে বাধ্য হবো।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের হুমকিতে আমি বিচলিত না হয়ে তাকে ইউএনওসহ গুদামে আসতে বলেন। তিনি (ভাইস চেয়ারম্যান) না যেতে চাইলে নিরাপত্তা প্রহরীকে মেইন গেটে তালা দিয়ে আটকিয়ে রাখতে বলেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক।
প্রায় ১ ঘন্টা পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রাব্বুল হোসেন, ইউএনও রাজিবুল আলম ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক সামিউল ইসলাম খাদ্য গুদামে আসেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের কোন কথা না শুনেই ইউএনও তাকে হুমকি প্রদান করেন এবং মামলার ভয়ভীতি দেখান।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহনাজ খাতুন আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার কোন কথা না শুনে, ধানের গুনগত মান পরীক্ষা না করেই তার উপর চড়াও হন। ইউএনও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ধারণকৃত ভিডিও মুছে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু শাহনাজ খাতুন তাতে রাজি না হলে তাকে অপমানজনক কথা বলে জোরপূর্বক খাদ্য গুদাম থেকে বের করে দেন।
শাহনাজ খাতুন বলেন, ইউএনও ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, উপজেলার একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা হয়ে কিভাবে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এভাবে অপমানজনকভাবে অবরুদ্ধ করে রাখতে পারেন? তা আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জানতে চায়? দূর্ণীতিমুক্ত দেশ গঠনে সরকারের যে উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভোলাহাট উপজেলাকে দূর্ণীতিমুক্ত করতে যুদ্ধে নেমেছেন। এই যুদ্ধে তিনি সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এব্যাপারে ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল আলম এর সাথে মোবাইল ফোনে যোাগাযোগ করা হলে তিনি এব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মন্তব্য

মন্তব্য