গলাচিপায় শিক্ষককের বিরুদ্ধে ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগ!

মু.জিল্লুর রহমান জুয়েল, পটুয়াখালী //

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহ-কারী শিক্ষক হাবিবুর রহমানে বিরুদ্ধে ছাত্রী নির্যাতনের লিখিত ভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতীত অভিভাবক মোঃ জাকির হোসেন।

সরজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৩ জানুয়ারী ২০২০ইং স্কুল চলাকালিন সময়ে ছাত্র- ছাত্রীদের মধ্যে বাকবিতন্ড হয়। ঘটনার দিন প্রধান শিক্ষক স্কুলে না থাকায়, প্রধান শিক্ষকের রুমে নিয়ে সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমান নবম শ্রেনীর ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থান সহ বিভিন্ন স্থানে বেত্রাঘাত করেন। ঐদিন নির্যাতীত ছাত্রী লোক লজ্জায় বাসায় কিছু না বলায় শাররীক ও মানুষিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পরলে ১৩ জানুয়ারী সোমবার রাত সারে দশটার সময় গলাচিপা সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লপক্সে ডাক্তার মোঃ শাহরিয়ার ত্বত্তাবোধনে ভর্তী করান ছাত্রীর বাবা মোঃ জাকি হোসেন।

ছাত্রী নির্যাতনের বিষয়ে অভিভাবক মোঃ জাকির হোসেন প্রতিবেদককে জানান, তিনি ন্যায় বিচারের আসায় বাদি হয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষাকর্নকর্তা মোঃ গোলাম মোস্তোফা বরাবর এবং অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও গলাচিপা থানা একটি অভিযো পত্র দাখিল করেন।

ছাত্রী নির্যাতনের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক, মোঃ হাবিবির রহমানের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বিষয়টি তেমন কিছুইনা বলে বিভিন্ন প্রশ্ন এরিয়ে যান।

অন্যদিকে গলাচিপা উপ-জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মু. গোলাম মোস্তোফার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানের বেত্রাঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য থানা অফিসারকে সার্বিক সহযোগীতা করবেন বলে জানান।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ সরকারের আইন ও নীতিমালায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ করে একটি নীতিমালা জারি করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি রহিত করা-সংক্রান্ত নীতিমালা- ২০১১’ অনুযায়ী এ শাস্তি নিষিদ্ধের কথা বলা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় নিষিদ্ধ করা শারীরিক বলতে বুঝাবে যে কোনো ধরণের দৈহিক আঘাত করা যেমন- শিক্ষার্থীদেরকে হাত-পা বা কোনো কিছু দিয়ে আঘাত বা বেত্রাঘাত, চক বা ডাষ্টারজাতীয় বস্তু ছুড়ে মারা, আছাড় দেয়া ও চিমটি কাটা, কামড় দেওয়া, চুল টানা বা চুল কেটে দেওয়া, হাতের আঙুলের ফাঁকে পেনসিল চাপা দিয়ে মোচড় দেওয়া , ঘাড় ধাক্কা দেয়া, কান টানা বা ওঠবস করানো, চেয়ার, টেবিল বা কোনো কিছুর নিচে মাথা দিয়ে দাঁড় করানো বা হাটু গেড়ে দাঁড় করে রাখা, রোদে দাঁড় করে বা শুইয়ে রাখা কিংবা সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড় করানো এবং ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে এমন কোনো কাজ করানো যা শ্রম আইনে নিষিদ্ধ।

মানসিক শাস্তি বলতে বুঝাবে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এমন কোন মন্তব্য করা যেমন- মা-বাবা, বংশ পরিচয়, গোত্র, বর্ণ, ও ধর্ম সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করা, অশোভন অঙ্গভঙ্গি করা যা শিক্ষার্থীদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

এ নীতিমালা সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসাসহ (আলিম পর্যন্ত) অন্য সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।

এসব অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লি¬ষ্টতা পাওয়া গেলে, তা ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী হবে এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

মন্তব্য

মন্তব্য