“স্বাধীনতার ইতিহাস ও নতুন প্রজন্ম”

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও ত্যাগের বিনিময় অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। বাংলার মানুষ পেয়েছে মুক্তির স্বাদ। অসীম সাহস ও বীরত্বের মাধ্যমে ছিনিয়ে আনা স্বাধীনতা নিয়ে আমাদের গর্বেরও শেষ নেই। নতুন প্রজন্মের মাঝেও স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রয়েছে প্রচুর আগ্রহ। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবসের উষালগ্নে নতুন প্রজন্মের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের নিজস্ব ভাবনা প্রকাশের উদ্দেশ্যে এই আয়োজন।
আমরা যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখি নি, দেখি নি যুদ্ধের ভয়াবহতা, তাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ কেবলই গল্প হয়ে থাক এটা আমরা চাই না। আমরাও সক্রিয় হতে চাই এ দেশ পুনগঠনে। আমরা মনেকরি এ ভূখন্ডকে সাজানোর দায়িত্ব আমাদেরও।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার সূচনা আমার পরিবারের কাছ থেকে। আমার দুই মামা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তারা শুনিয়াছেন রোমাঞ্চকর, উৎকণ্ঠায় ভরা এক একটা অভিযানের গল্প। মা’র কাছ থেকে ছোট বেলা থেকেই শুনেছি ১৯৭১ এ নিরস্ত্র মানুষের উপর পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচর ও মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুসের প্রতিরোধ ও সংগ্রামের বিবরণ। আমার বাবা মরহুম হাজী বশীর উদ্দিন এবং আমার শশুর মরহুম তমিজ উদ্দিন (আল­াহ্ তাঁদের বেহেস্ত নসীব করুন) তাঁরাও প্রত্যেক্ষ ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করলেও পরোক্ষ ভাবে দেশ স্বাধীনের জন্য নিকটস্থ মুক্তি যোদ্ধাদেরকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করেছেন।
আমি নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনেকরি কারণ আমি মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস অনেকাংশে জানতে পেরেছি। শুধু পরিবার থেকেই নয় আমার নিজের আগ্রহেই বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এবং বিভিন্ন গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক অনেক লেখা পড়েছি। তবে আমার অনেক বন্ধুদের দেখি বিভ্রান্ত। বিভ্রান্ত বলেই জাতি হিসাবে তারা আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগে। আবার অনেককে দেখি যে, তারা মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, দেশপ্রেম প্রভৃতি নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করে। কিন্তু তারা যদি জানতো যে, এই দেশের জন্য লাখ লাখ মানুষ তাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গেছেন শুধু স্বাধীনতার জন্য, তবে কেউই দেশপ্রেম নিয়ে ঠাট্টা করতো না। তেমনি আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে হলে প্রচুর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক পড়াশুনা করা প্রয়োজন। একটু চেষ্টা করলে যে কেউ নিজেই সঠিক ইতিহাস জেনে নিতে পারে। কারণ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিছুনা কিছু মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বই থাকেই। এছাড়া প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকার কর্তৃক বিতরণকৃত “মুক্তিযুদ্ধের দলিল পত্র” থেকেও প্রত্যাশিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাছাড়া এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে খুব সহজেই অনেক তথ্য পাওয়া যায়। তাই প্রয়োজন একটু সময় ব্যয় করে নিজের তাগিদেই সঠিক ইতিহাস জেনে নেবার।
মুক্তিযোদ্ধারা তাদের প্রাণের বিনিময়ে আমাদেরকে “বাংলাদেশ” নামের স্বাধীন ভূখন্ড দিয়ে গেছেন। এখন এই ভূখন্ড সাজানোর দায়িত্ব আমাদের। আমাদের এ কতা মনে রাখতে হবে যে, আমরাই শেষ প্রজন্ম নই; আমাদের পরেও একের পর এক নতুন প্রজন্ম আসবে। তারাও আমাদের কাছে জানতে চাইবে সোনার বাংলাকে কেন আমরা সাজাতে পারিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। তখন কি আমরা মাথা উঁচু করে রাখতে পারব?
আমরা যারা নতুন প্রজন্ম, তাদের দেশ গঠনে যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি দেশের জন্য এ দেশের মানুষের কল্যাণেই মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জেনে নেয়াও আমাদের দায়িত্ব। শুধু নিজে জানলেই হবে না। অন্য সকলকেও জানানোর ইচ্ছা থাকতে হবে। এবার মহান বিজয় দিবসে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

মোঃ নাসির উদ্দিন মিলন
সিঃ সহ সভাপতি
ওয়ারী প্রেস ক্লাব

মন্তব্য

মন্তব্য