হোমনা রামকৃষ্ণপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগে মানববন্ধন।

মোঃ জহিরুল ইসলাম পাশা
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর “কামাল স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানী ও বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাথের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বমহল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম আবদুল মতিন মাস্টারকে বিদ্যালয় থেকে দ্রুত অপসারণ করে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে ও রামকৃষ্ণপুর শেখ হাসিনা ওয়াই সেতুতে এ পৃথক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
এর আগে গত ৬জানুয়ারী ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে আয়ের ১০ লাখ, ২১ হাজার, ১৭৬টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-কর্মচারী অনাস্থা প্রধান করেন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও অনাস্থায় জানা যায়, এটিএম আবদুল মতিন গত ২০১৬-১৯ইং সাল পর্যন্ত এসএসসি ও জেএসসি’র অকৃতকার্য-কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ ও রেজিষ্ট্রেশনের জন্য ৬লাখ ৯৩ হাজার ৯শ’ ৫৭ টাকা, ২০১৯-২০ সালে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ১লাখ ৮২ হাজার ৪শ’ ১০টাকা অতিরিক্ত গ্রহণ, ২০১৬ সালে বিদ্যালয়ের পুকুর লিজ বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদ্যালয় প্রদত্ত পি.এফ’র ৩৪ হাজার ৮শ’ ৯টাকাসহ মোট ১০ লাখ, ২১ হাজার, ১শ’ ৭৬টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে।
এছাড়াও তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে ফেল করার ভয় দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্থাব, প্রাইভেট পড়ার টেবিলে পাশাপাশি বসানোর অজুহাতে স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়ে শ্লিলতাহানী ও পা দিয়ে শরীরে শিহরণ তৈরীসহ একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন। এছাড়াও এসব ঘটনার কিছু আপত্তিকর ছবি গত আগস্ট মাস থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর ফুঁসে উঠে এলাকার যুব সমাজ ও সচেতন মহল। প্রতিবাদ ও আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে রামকৃষ্ণপুরসহ পুরো হোমনা উপজেলা জুড়ে। এসব আন্দোলন সংগ্রামের জের ধরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে আহ্বায়ক করে ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা আক্তারকে সদস্য করে ৩সদস্যের একটি কমিটি তদন্ত করেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এটিএম আবদুল মতিন মাস্টারের মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
তদন্ত বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, আমরা তদন্ত করে নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপ্তী চাকমা বলেন, পূর্বের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন আগামী দু-একদিনের মধ্যেই জমা দেয়া হবে। আর মানববন্ধনের বিষয়ে আমরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠ বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছি।

মন্তব্য

মন্তব্য