স্বপদে থাকবেন কাউন্সিলর,মেয়রকে পদ ছাড়তে হবে।

অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ভোটারের স্বাক্ষর গ্রহণ নিয়ে বিপাকে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সিটি নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বাইরে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে লাগবে নির্বাচনী এলাকার ৩০০ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর। তবে পূর্বে কেউ মেয়র নির্বাচিত হলে সেক্ষেত্রে স্বাক্ষর লাগবে না। এই ৩০০ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের কারণে অনেকেই প্রার্থী হতে সাহস পাচ্ছেন না।

নির্বাচনে অংশ নিতে চান এমন চার জন সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী জানিয়েছেন, নির্বাচনী আইনের কঠিন মারপ্যাঁচে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করা অত্যন্ত কঠিন। কোনোভাবে ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ সম্ভব হলেও রাজনৈতিক কারণে প্রার্থিতা টেকানোই দুরূহ ব্যাপার। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ৩০০ ভোটারের কোনো একজন কারোর দ্বারা প্ররোচিত হয়ে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় অভিযোগ করলে প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ঐ ৩০০ ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে, যাদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ভোটার হতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থনসূচক ঐ ৩০০ ব্যক্তির স্বাক্ষর নির্বাচন কমিশন যাচাই করে দেখবে। এক্ষেত্রে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে পাঁচটি নাম ও স্বাক্ষর নির্ধারণ করা হবে। ঐ পাঁচ ব্যক্তির তথ্য সরেজমিনে তদন্ত করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এক্ষেত্রে তথ্যে কোনো গরমিল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। একইভাবে প্রার্থী হতে হলে প্রস্তাবক ও সমর্থককেও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার হতে হবে।

এদিকে দুই সিটির নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে বর্তমান মেয়র পদধারীদের পদত্যাগ করে প্রার্থী হতে হবে। তবে কাউন্সিলররা নিজেদের পদে থেকেই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। মেয়রদের অবশ্যই মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন বিশেষ পরিপত্রের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের উদ্দেশে এই নির্দেশনা দিয়েছে। ইসি জানিয়েছে, সিটি করপোরেশনের মেয়র পদটিকে লাভজনক পদ হিসেবে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, মেয়র পদে অধিষ্ঠিত কোনো ব্যক্তি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে ঐ ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে কাউন্সিলর পদধারীরা সার্বক্ষণিক লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত নয়, ফলে পদে বর্তমান থেকে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের আইনগত কোনো বাধা নেই।

বিশেষ পরিপত্রে আরো বলা হয়, সম্ভাব্য কোনো প্রার্থী ফৌজদারি বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং ঐ দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল হলে এবং আপিল আদালত নিম্ন আদালতের রায় বা সাজা স্থগিত না করে থাকলে অযোগ্য হবেন বা সংশ্লিষ্ট প্রার্থী জামিন পেলে অযোগ্য হবেন। অর্থাত্, সংশ্লিষ্ট সাজা স্থগিত বা মওকুফ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন। এছাড়া সাজাভোগ শেষে পাঁচ বছর সময় পর্যন্ত নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন ঐ ব্যক্তি।

পদ ছাড়তে হবে এমপিদের :স্থানীয় সরকার সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে হলে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইনে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকলেও স্থানীয় সরকার আইনে তা বলা আছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, কোনো সংসদ সদস্য মেয়র পদে নির্বাচন করতে চাইলে তাকে সংসদ সদস্য পদ ত্যাগ করে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে।

শনিবারের মধ্যে জানাতে হবে দলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম :মেয়র পদে প্রার্থী মনোনয়নকারীর বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম আগামীকাল শনিবারের মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে জানাতে হবে। ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা তাদের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে। প্রত্যয়নপত্রটি মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। তবে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলে সংশ্লিষ্ট দলের সব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে প্রার্থী মনোনয়নে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, পদবি, নমুনা স্বাক্ষর তপশিল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পাঠাতে হবে। ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম জানানোর সময় শেষ হবে ২৮ ডিসেম্বর।

সূত্র:ইত্তেফাক

মন্তব্য

মন্তব্য