রোয়াংছড়িতে এল জি ইডি বিভাগের কালাঘাটা-ছাইঙ্গ্যা সংযোগ সড়কের কার্পেটিং নিমার্ণে ব্যাপক অনিয়মে অভিযোগ

ডেভিড সাহা বান্দরবান :

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীনের বান্দরবানে কালাঘাটা হতে ছাইঙ্গ্যা যাওয়া সংযোগ সড়কের কার্পেটিং নির্মাণে কাজের ঠিকাদার মো: আফসার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রে জানা যায়, রাস্তার কার্পেটিং করণে প্রায় ২কি:মি: প্রকল্পের বরাদ্দে প্রাক্কলিত মূল্য ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ের ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছর থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে কাজটি শুরু করেন ঠিকাদার মো: আফসার। এলজিইডি অধিদপ্তর থেকে কাজ পেয়ে ঠিকাদার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শুরু থেকে নিম্নমানের সামগ্রী ইট,কঙ্কর,বিটুমিন,ব্যবহার করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি অবলম্বনে কাজ করে চলছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কাজের মান অতি নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। বান্দরবান কালাঘাটা হতে ছাইঙ্গ্যা সড়ক হয়ে তারাছামূখ তালুকদার পাড়া যাওয়ার রাস্তা কাজে অতি নিম্নমানে কাজ করায় এলাকাবাসীরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কাজের মান নিয়ে ফাকক্ষ্যং পাড়া উহাইমং মারমা (৩০) ও ২নং তারাছা ইউপি ২নং ওয়ার্ডে মেম্বার মোর্শেদ বলেন, এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তার ও কর্মচারীদের যোগসাজশে থাকতে পারে। একারণে রাস্তায় নিমার্ণে এলাকার বাসীকে ঠকিয়ে ব্যাপক অনিয়ম,দুনর্তি ও নিম্নমানে কাজ করা হয়েছে। খোওয়া পূর্বে স্টিমেটের অনুযায়ী মান সম্মত বালু দেওয়ার কথা থাকলে ও ২ ইঞ্চিতের পরিমাণে খালের বালু সাথে পাহাড়ি বালু (জামবালু) মিশ্রিত করে নিম্নমানে কঙ্কর দিয়ে রোলার করা হয়েছে। এরপর কার্পেটিং করা হলে দেখা যায়,বিটুমিন বা ধোনা পরিমাণ মতো না দেওয়ায় ধীরে ধীরে কার্পেটিংগুলো উঠে যাচ্ছে। অতি নিম্নমানে কাজ হওয়ায় কাজটি শেষ হতে না হতে কার্পেটিং পাথরগুরো উঠে যাচ্ছে। এধরণে কাজ করলে আগামী বর্ষার মৌসুমে সম্পূর্ণ রাস্তায় কার্পেটিংগুলো উঠে যাওয়া সম্ভাবনা বেশি। অনেক বছর পর ভাঙ্গা রাস্তাকে কার্পেটিং নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিম্নমানে কাজ করলে দুই বা এক বছরে মধ্যে পুনরায় আগের চাইতে খারাপ রাস্তা হয়ে যাবে। যানবাহনে স্কুল ও কলেজ পড়ু–য়া শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে দুর্ঘটনার ও আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরো বলেন আমাদেরকে খেয়ালও করেননি ঠিকাদার ও মিস্ত্রিরা। ঠিকাদারে চেহারা কি রকম কোন দিন দেখিনি। কিন্তু দেখলাম টেকসই কাজ না করে সামান্য কাজ করে শেষ করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। ঠিকাদাদের লাভের জন্য তাদের কথানুযয়ী মিস্ত্রিরা কাজ করে যাচ্ছে। ড্রেন ও ঠিকমতো না করায় বর্ষার মৌসুমে রাস্তায় পাহাড়ি ঢলে ভেঙ্গে যাবে। প্রকল্পের কাজে শর্ত ও স্টিমেটে নিয়ম নীতি অনুসরণ না করে ঠিকাদার মো: আফসার এ কাজটি করাছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদার মো: আফসার যেখানে কাজ করে, সেখানে নিম্নমানে কাজ ছাড়াই তেমন টেকসই কাজ করছেন না বলে মনেই হয়। কারণ আফসার ঠিকাদার হলেও তিনি কোনদিন সাইডে আসেন নি। ঠিকাদার আফসার পরিবর্তে তার মামা মো: শাহ আলমের নামে একজন ঠিকাদারি কাজটি দেখাশুনা করেন। এর পাশাপাশি ঠিকাদার মো: আফসারের দেখভাল দায়িত্বে রাখা সহকারি ম্যানেজার বিকাশ দাশ বলেন কার্পেটিং রাস্তার নির্মাণে ০.৮ মিলি বালু ৬ ইঞ্চি,খোওয়া ও শীলকোট মিলে ১৮ ইঞ্চি করে কাজে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আমরা সব কাজ করছে। কিন্তু কাজ করতে গেলে এদিক সেদিক তো হবেই। এছাড়া থানচি উপজেলাতে সেনাবাহিনীদের কাজ ও করছে আমরা। সেখানে ও নিয়মনুযায়ী বাইরে পাথর ধরা হয়েছে। তারপর ও স্থানীয় পাথর,পাহাড়ি বালু (জামবালু) ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে ও পাহাড়ি বালু সহ দেওয়া হয়েছে। নিম্নমানে কাজ করলে ও কিছু হবে না, এরপরও ঠিক মতো বিল পাবে। ঠিকাদার মো: আফসার সাথে মোঠুফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সংযোগ কেটে দেন। এরপরে আফসারে সাথে একাধিক বার মোঠুফোনে যোগাযোগ করে ও সংযোগ পাইনি। এলজিইডি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকতার্দের সূত্রে জানা গেছে কার্পেটিং নির্মাণে ডাউন গ্রেড হিসেবে ৩৮ মিলি পাথর দিয়ে কার্পেটিং ও শীলকোট করতে হবে। তার মধ্যে করা হয়েছে মাত্র ৩০ মিলি এর মতো। যার কারণে কার্পেটিংগুলো টেকসই হবে না। রোয়াংছড়ি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইফরাদবিন মুনীর কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন ছাইঙ্গ্যা রোডে রাস্তার কার্পেটিং কাজটি ঠিকাদার আফসার করছে। রাস্তা কাজটি তেমন খারাপ হয়নি। তবে ঠিকাদার মো: আফসারে মামা মো: শাহ আলম নামে একজন কাজের দেখা শোনা করে। তিনি যা তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। তিনি অফিসের নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে নিম্নমানে কাজ করে। সে একজন (মো: শাহ আলম) বেয়াদব। কিন্তু আমরা তাকে (শাহ আলাম) জানার পর সাইটের আসতে বন্ধ করে দিয়েছি। এছাড়া অফিস থেকে সব সময় দেখাশুনা করতে লোক রাখা হয়েছে। এছাড়া মাঝে মাঝে আমাদের লোক অফিস থেকে আসার সময় না পৌঁছার আগে হতো মিস্ত্রিরা নিম্নমানে কাজ করতে পারে।

মন্তব্য

মন্তব্য