আশুলিয়ায় হিজড়া সর্দারের অগ্নীদগ্ধকৃত লাশ উদ্ধার

বিনয় কৃষ্ণ মন্ডল, আশুলিয়াঃ
রাজধানীর উপ কন্ঠে শিল্পা ল আশুলিয়ায় কাজলী(৪০) নামে এক হিজড়া সর্দারের দগ্ধকৃত লাশ তার নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। কাজলী আত্মহত্যা করেছে না তাকে হত্যা করেছে এ নিয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে এসেছে সিআইডি ক্রাইম এর সদস্যরা। এ রহস্যজনক হত্যাকান্ডকে ঘিরে হিজড়া, এলাকাবাসী ও পুলিশের পৃথক পৃথক ধারণা রয়েছে।
২৪ নভেম্বর, রোববার সকাল ৮টায় আশুলিয়ার চিত্রশাইল কান্দাইল নয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ির একটি নির্মাণাধীন ৩য় তলা ভবনের নিচতলায় তার বসবাসরত কক্ষ থেকে কাজলীর দগ্ধকৃত লাশটি উদ্ধার করে বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে ঢাকা জেলা এডিশনাল এসপি ক্রাইম সাইদুর রহমান পরিদর্শন করেছেন।
নিহত কাজলী যশোর জেলার বাসিন্দা। সে আশুলিয়ার কান্দাইল নয়াপাড়া এলাকায় ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে একটি ৩য় তলা ভবন নির্মাণ করে বসবাস করতেন। সেখানে তার পরিবারের কোন সদস্য তার সাথে থাকতো না। তবে ওই এলাকার ২০/২৫ জন হিজড়াদের সর্দার হিসেবে সে দায়িত্ব পালন করতো বলে হিজড়াদের আশুলিয়া থানা সর্দার আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে হিজড়া সদস্য প্রীতি জানায়, আমাদের এ এলাকার নেতা ছিল কাজলী হিজড়া। সকালে তারা এলাকায় কালেকশনে গিয়েছিল। সেখান থেকে এসে সকাল ৮টায় কাজলীর বাড়িতে যায় সে। সেখানে নির্মাণাধীন ভবনটির সামনে রাজমিস্ত্রি আল আমিন সহ হেলাপারগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা বাহির থেকে ডাকাডাকি করলে কোন সাড়া শব্দ না পেলে তাকে বিষয়টি তারা জানায় এবং রুম থেকে ধোয়া বের হতে দেখতে পান তারা।
এরপর একজনকে বিল্ডিংয়ের পাশদিয়ে উঠে ৪ তলা ছাদের ওপর দিয়ে সিঁড়ির দরজা খোলা দেখতে পায় এবং প্রবেশ করে নিচতলায় গিয়ে কাজলীর শরীরে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। চিৎকার দিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে এলে তারা ভিতরে ঢুকে দগ্ধ লাশটি দেখতে পান। এসময় লাশটির চেহারা বিকৃত আকার ধারণ করেছে বলে তারা দেখতে পান। এরপর বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে পুলিশের ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাভেদ মাসুদের নেতৃত্বে পুলিলের সদস্যরা ভবনটির মধ্যে প্রবেশ করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা জেলা এডিশনাল এসপি সাইদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
হিজড়া সদস্য কলি জানায়, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় কাজুলীর সাথে তার দেখা হয়। প্রতিদিনের ন্যায় সেখানে তাকে ওইদিনের কালেশনের টাকা বুঝিয়ে দেয়া হয়। সে আরো জানায়, কাজলীর সাথে আব্দুর রশিদ নামে এক ডাক্তারের সাথে দীর্ঘদিনের প্রেম ও ভালোবাসা ছিল। তার সাথে একত্রে থাকা, চলাফেরা এবং বিভিন্ন স্থানে বেড়াতেও যেত কাজলী। ইদানিং ডাক্তার রশিদের সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিল না। এ নিয়ে প্র্য়াই কাজলী কে মন খারাপ অবস্থায় থাকতে দেখা যেত। তারমতে এ সংক্রান্ত কারনেই কাজলী আগুনে দগ্ধ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, হিজড়া সদস্য কাজলী ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে ৩য় তলা একটি ভবনের নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ওই বাড়িতে কাজলী একাই থাকতো। সাথে হিজড়া সদস্যরা প্রায়ই দল বেঁধে এসে আনন্দ ফুর্তি করতো। তারা দৈনিক হাজার হাজার টাকা ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়ে ভাগ বাটোয়ারা করে নিত।
এ ধরনের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে হয়তোবা তাদের নিজেদের মধ্যে কোন দ্ব›দ্ব ঘটে থাকতে পারে। আর এ দ্ব›েদ্বর জেরেই তাকে হত্যা করে পরে আগুন দিয়ে দগ্ধ করেছে বলে তাদের ধারনা। কাজলী অত্যন্ত শক্তিশালী একজন হিজড়া সর্দারনী ছিলেন। হত্যার পর ভিতর থেকে গেট বন্ধ করে ছাদের ওপর দিয়ে হয়তোবা হত্যাকারিরা পালিয়ে গেছে বলেও তারা ধারনা করছেন।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে এডিশনাল এসপি(অপরাধ) সাইদুর রহমান বলেন, কাজলী আত্মহত্যা করেছে না হত্যা হয়েছে এ বিষয়ে তারা গভীরভাবে তদন্ত করছেন। এর রহস্য উদঘাটনের জন্য সিআইডি ক্রাইম সদস্যদের ডাকা হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখার পর এ রহস্য তারা জানাবেন বলে তিনি জানান। হিজড়ারা তাকে জানিয়েছেন ভিতর থেকে প্রধান গেটের দরজা বন্ধ ছিল। তারা উপর দিয়ে(৪র্থ তলার ) ছাদ দিয়ে প্রবেশ করে নিচতলার নিচের গেট খুলেছে এবং কাজলীকে দগ্ধ হতে দেখেছেন। তিনি আরো বলেন, পুলিশ নিশ্চিত হয়েই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য