শ্রীপুরে কারখানার শ্রমিক পরিবহনে হামলা


সাইফুল আলম সুমন,গাজীপুর প্রতিনিধি //

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক পরিবহনে হামলার ঘটনার আতঙ্ক কাটছে না শ্রমিকদের। ভয়ে কারখানা ছেড়ে দিতে শুরু করেছেন অনেকে। এতে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের নিরাপত্তায় কারখানায় ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এমন উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের পটকা গ্রামের অবস্থিত প্রোস্টার এ্যাপারেলস লি: (চায়না) কারখানায়।
জানা যায়, কারখানার ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতো উপজেলা যুবলীগ নেতা মো.হাবিবুর রহমান জুয়েল। হঠাৎ কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা বাগিয়ে নেয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড.শামসুল আলম প্রধানের চাচাত ভাই মো.ইউসুফ প্রধান। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন যুবলীগ নেতা জুয়েল। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা নিজের দখলে নেয়ার জন্য গত মঙ্গলবার রাতে কারখানার শ্রমিক পরিবহনের প্রায় বেশ কয়েকটি গাড়ী ভাংচুর চালায় যুবলীগ নেতার লোকজন। মারধর করা হয় একাধিক বাসের চালক ও হেলপারকে। এ ঘটনায় পরদিন শ্রীপুর থানায় কারখানা কর্তৃপক্ষ, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও এক চালকের স্ত্রী বাদী হয়ে তিনটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় তিন জনকে আটক করে পুলিশ।
তবে এখনো হামলাকারীরা শ্রমিক পরিবহন বাসে রাতের আধাঁরে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে জানালার গøাস ভেঙে ফেলছে বলে অভিযোগ করছেন কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মামলার বাদী মো.ফারুক আহমেদ। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় শ্রমিকরা কারখানায় আসা ছেড়ে দিচ্ছেন। এখন শ্রমিকের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে।
কারখানার শ্রমিকরা জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে হামলার পর থেকে কারখানার বাস আমাদের আনা নেওয়া করতে পারছে না। এজন্য গতকাল (শনিবার) পায়ে হেটে কারখানায় আসার পথেও আমাদের নানান হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাপক মো.শামীম আহমেদ জানায়, গত কয়েকদিনে আমাদের উৎপাদন কমে গেছে। সামনে বড় বড় কয়েক ভায়ারদের কাজের সরবরাহ দেয়ার কথা রয়েছে। সঠিক সময় সরবারহ করতে না পারলে ভায়াররা আমাদের মালামাল বাতিল করতে পারেন। এতে কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
গাজীপুর পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহার পিপিএম জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে মামলা নেয়া হয়েছে। কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের সবাইকেও আইনের আওতায় আনা হবে। কারখানা শ্রমিকদের নিরাপত্তার দেয়ার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য