কক্সবাজারে শতাদিক স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী ও জলদস্যু আবারো আত্মসমর্পণ করবে ।

মো:জাহদেুল ইসলাম কক্সবাজার//আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়াশি অভিযান এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নিরুপায় হয়ে আবারো শতাদিক স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী ও জলদস্যু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আতœসমর্পণ করতে যাচ্ছে কক্সবাজারে।তাই তাদের এই আতœসমর্পণকে স্বাগত জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সম্পর্ণ করতে যাচ্ছে আনুষ্টানিক যাত্রার সকল প্রস্তুতি।জানাযায়,কক্সবাজার জেলার সবচেয়ে বেশী অপরাধ প্রবণ এলাকা হিসাবে পরিচিত দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর কালামারছরা ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা।খুন,রাহাজানি,দস্য‚তা,অপহরণ,চাঁদাবাজিসহ সব জগন্য অপরাধকর্ম সংগঠিত হওয়া কালারমারছরার জন্য একেবারে নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার।দেশব্যাপি সমুদ্র জলসীমায় দস্যুতার শক্তিশালী একটি অংশের বসবাস তথা অভয়ারণ্য হিসেবে বেশ পরিচিত এই দ্বীপ এলাকাটি।তাদের একটি অংশ বেসরকারি টিভি চ্যানেল আনন্দ টিভি’র বিশেষ প্রতিনিধি,কক্সবাজারের পেকুয়ার উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের মালেক পাড়ার বাসিন্দা এম.এম আকরাম হোসাইনের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট আতœসমর্পণ করতে একমত পোষণ করেন।ইতিমধ্যে ৬টি পৃথক জলদস্যু বাহিনীর প্রধান,অস্ত্রের কারিগরদের সর্দারসহ অনেক সদস্যরা আত্মসমর্পণ করতে মধ্যস্থতাকারীর নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।তাই তাদের আতœসমর্পণ অনুষ্ঠান এবং প্যান্ডেল,স্টেজ,নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরীর কাজ পুরোদমে চলছে।প্রায় দু’শ শ্রমিক দিবারাত্রি ২ শিফটে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।ভিভিআইপি,আমন্ত্রিত অতিথিসহ প্রায় এক হাজার মানুষ অনায়সে সেখানে বসার ব্যবস্থা হওয়ার মতো প্যান্ডেলটি নির্মাণ করা হচ্ছে।আগত অতিথিদের নিরাপত্তা,অভ্যর্থনা,প্রটোকল,জলদস্যুদের জমায়েত,তাদের অস্ত্র জমা করা,যাতায়াত সুবিধা,পার্কিং,প্যান্ডেল,মঞ্চ তৈরি,নিরাপত্তা বেষ্টনী,আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান ইত্যাদি সার্বিক বিষয় মাথায় রেখে রেকি ও ম্যাপ মতো সবকিছু পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হচ্ছে।একইসাথে মধ্যস্থতাকারীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসা একশোর কাছাকাছি অস্ত্রের কারিগর,জলদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা শনিবার আত্মসমর্পণের পর

কারাগারে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।তাদের সাথে দেখা করছেন আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধবেরা।বিদায় নিচ্ছেন কারাগারে যাওয়ার আগে।আসন্ন শীত মৌসুমের কথা চিন্তা করে পরিধেয় কাপড় চোপড়,ঔষুধ পত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন তারা।স্থানীয়দের মতে ক‚খ্যাত এসব বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে অপরাধের স্বর্র্গরাজ্য হিসাবে পরিচিত কালারমারছরা সহ উপক‚লীয় এলাকায় সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তাই তাদের এই আতœসমর্পণ অনুষ্টানকে স্বাগত জানিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে স্থানীয় হাজারো জনতা নানানভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগীতা করে যাচ্ছে।সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী শনিবার ২৩ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো:আসাদুজ্জামান খান কামালে(এমপি)র হাতে অস্ত্র জমাদানের মাধ্যমে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এসকল জলদস্যুদেরা আত্মসমর্পণ করবেন।এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজারের সহকারী জেলা পুলিশ সুপার মো:ইকবাল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং তিনি বলেন অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি এবং সবকিছু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি,পুলিশের আইজি ড.জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম(বার)সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন(বিপিএম)বুধবার বিকেলে ঢাকা গেছেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি,পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার)যথাক্রমে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে শনিবার ২৩ নভেম্বর সকাল ৯ টায় প্রথম বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছাবেন।সেখান থেকে তাঁরা কিছুক্ষণের জন্য সার্কিট হাউসে অবস্থান করে জলদস্যু আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের সামগ্রিক বিষয়াবলী জ্ঞাত হবেন।এরপর শনিবার সকাল সোয়া ১০ টার দিকে সমুদ্র পথে স্পীডবোট যোগে জলদস্যু ও অস্ত্রের কারিগর আত্মসমর্পণের জন্য নির্ধারিত মাঠ কালারমারছরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন।এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক,কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন,স্থানীয় অন্যান্য সংসদ সদস্যগণ,র‍্যাবের কর্মকর্তা,বিজিবি’র রিজিওন কমান্ডার,কোস্টগার্ডের প্রতিনিধি সহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগ দেবেন বলে জানাযায়।কক্সবাজার জেলা পুলিশ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম সভাপতিত্ব করবেন।উল্লেখ্য ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে অনুরূপভাবে ৪৩ জন সশস্ত্র জলদস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছিলো।তাই এটি হবে মহেশখালীতে জলদস্যুদের ২য় দফায় আত্মসমর্পণ।

মন্তব্য

মন্তব্য