শনিআখড়ায় প্রশাসনের সহযোগীতায় রাস্তা অবৈধ দখল করে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা চাঁদাবাজি


স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর কদমতলী থানাধীন শনি আখড়ায় জিয়া স্মরণী রাস্তা ও খাল অবৈধভাবে দখল করে থানা পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় বিভিন্ন ধরনের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাড়া দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা চাঁদা তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায় শনি অখড়া আন্ডার পাশ থেকে দক্ষিণ দিকে চব্বিশ ফুট পর্যন্ত রাস্তা ও খালের উপরে মাচা করে পাঁচশতাধিক দোকান দৈনিক ২০০/- থেকে ৩০০/- টাকা করে ভাড়া তোলা হয়। এই ভাড়া তুলতে কদমতলী থানা পুলিশ কয়েকজন লাইনম্যান নিয়োগ করেছেন এরা হলেন, বাদল,জীবন,কাইয়ুম সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে এলাকাবাসির সাথে আলোচনা করলে তারা জানান, এলাকাটি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণের আওতাধীন হলেও তারা বহুলাংশে নাগরিক সুবিধা থেকে বিরত। তারা আরো জানান কিছু দিন পর পর উপর মহলের চাপে এই রাস্তা ও খাল অবৈধ দখলদারদের নিকট জবরদখল মুক্ত করার লক্ষে অভিযান পরিচালনা করা হলেও একটু পরেই থানা পুলিশের সহায়তায় ফের বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এই রাস্তায় রয়েছে ডাচবাংলা,ব্র্যাক,মিউচুয়াল ট্রাষ্ট,উত্তরাসহ অন্যান্য ব্যাংক বীমার শাখা, রয়েছে রয়েল প্লাস সহ একাদিক হাসপাতাল, একাধিক কমিউনিটি সেন্টার, স্কুল ও মাদ্রাসা । এটি একটি প্রাচীন জনপদ, শান্তিপ্রিয় মানুষের আবাসিক এলাকা হিসেবে ব্যাপক পরিচিত বিধায় এখানে প্রতিনিয়ত লোকজনের বসবাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু অত্র এলাকার এই প্রধান সড়কের প্রায় অর্ধেক অবৈধ দোকানীদের দখলে থাকায় এই রাস্তায় দিনের প্রায় সব সময় যানজট লেগেই থাকে এতে এম্বুলেন্স, ব্যাংকের সিকিউরিটি সার্ভিসের গাড়ি,স্কুল ভ্যান সহ অন্যান্য জরুরী নাগরিক সেবা প্রদানের গাড়ী দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকতে দেখা যায় । এছাড়া রাস্তা ও খালের উপরের ব্যবসায়ীদের ময়লা বর্জ সরাসরি খালে ফেলার কারণে প্রচন্ড দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, এতে অত্র এলাকায় মশার উপদ্রপসহ এলাকাবাসি অধিক মাত্রায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারী উদ্যোগে কিছুদিন পর পর ময়লা বর্জ পরিষ্কার করে খালের পানি সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও অবৈধ দখলদারদের অপচেষ্টায় তা আজ ব্যর্থতায় পরিনত হয়েছে। দোকান ও বাজার বসালে লাভ জনক বিধায় দখলবাজিতে পিছিয়ে নেই খালের পশ্চিম পারের লাকেরাও তারাও খাল দখল করে কাঠ ও বাসের পুল দিয়ে দোকান বসিয়ে পুলিশকে মাশোহারা দিয়ে মোটা অংকের টাকা উপার্জন করছেন। খালের উপর এসব কাঠ ও বাসের পুল খাল পরিষ্কার করার সময় ভেঙ্গে ফেলা হলেও পরবর্তী মুহুর্তেই পুনরায় তৈরী করা হচ্ছে, এ এক রকম চোর পুলিশ খেলা, দেখার যেন কেউ নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একজন কলেজ শিক্ষক বলেন, অসাধু কিছু পুলিশ ও অবৈধ দখলদারের কাছে শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসি একরকম জিম্মি হয়ে আছে। এছাড়াও এলাকার ভ’ক্তভোগীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করলে তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উক্ত বিষয়ে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় পলাশপুর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জের ভ’মিকা ও বক্তব্য জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজী হননি।

মন্তব্য

মন্তব্য