বাসক গাছের সৌন্দয্যে বিলুপ্ত ছিটমহল কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়ার সড়ক।


সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি //

কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়ার আজোয়াটারী ইন্দারারপাড় হতে শিমুলতলা হয়ে কসালেরতল, আজোয়াটারী থেকে কালিরহাট বাজার হয়ে খরিবাড়ী, কালিরহাট বাজার থেকে শ্মশানঘাট এবং কামালপুর থেকে নাওডাঙ্গা পর্যন্ত সড়কের ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১৫ হাজার বাসক গাছের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তারিখে। চারা রোপণ উদ্বোধন করেছিলেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন।

ব্যতিক্রমী এই কাজের মূল উদ্যোক্তা হচ্ছেন ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মাছুমা আরেফিন। তিনি জানান, অসহায় নারীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে ওষুধি গাছের চারা রোপণ ও বাজারজাত করণের পথ উন্মুক্ত করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুধু তাই এই কার্যক্রম পরিবেশের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এখন গাছগুলো পাতায়-পাতায় ছেয়ে গেছে। এ অবস্থায় গতকাল (৪ নভেম্বর) থেকে পাতা সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়েছে। বিকেলে পাতা সংগ্রহ কাজের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন।

ইউএনডিপির আ লিক সমন্বয়ক আহমেদুল কবির আকন জানান, পাতাগুলো ওষুধ তৈরির উপকরণ হিসেবে একমি ও হামদর্দ কোম্পানি ক্রয় করবে।

তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ থেকে গাছের চারাগুলো রোপণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গাছগুলোর পরিচর্যা করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের স্বপ্ন প্রকল্পের উপকারভোগী নারীরা। এজন্য পাতার বিক্রির ৮০ ভাগ টাকা পরিচর্যাকারীরা, উপজেলা পরিষদ ১৫ ভাগ এবং ইউনিয়ন পরিষদকে ৫ ভাগ টাকা দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, বাসক কথাটির অর্থ হচ্ছে সুগন্ধকারক। এর বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে আড়াটোডা বাসিকা। এই গাছের ছাল, পাতা এবং রস সবই উপকারী। বাসকের পাতায় ভাসিনিন নামীয় ক্ষারীয় পদার্থ এবং তেল থাকে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বাসক পাতাকে নানা ধরণের রোগ সারাতে ব্যবহার করা হয়। এরমধ্যে সর্দি, কাশি, জ্বর এবং শ্বাসনালী প্রদাহমূলক ব্যাধি নিরাময়ে এর পাতার নির্যাস বিশেষ উপকারি।

মন্তব্য

মন্তব্য