সন্দ্বীপের ৬০ মৌজার সীমানা রক্ষার দাবীতে সন্দ্বীপে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি: সন্মিলিত সন্দ্বীপ অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে সন্দ্বীপের ৬০ মৌজার সীমানা রক্ষার দাবীতে সন্দ্বীপ এনাম নাহার মোড়ে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ।সম্প্রতি সন্দ্বীপের ঠেঙ্গার চর অংশ পুর্বের ন্যায়ামস্তি ইউনিয়নকে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার থানা ঘোষনার পর সন্দ্বীপের সর্বোস্তরের জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। “তাই বাপ দাদার ভিটে ঘর,রক্ত দিয়ে রক্ষা কর ” এই জাতীয় শ্লোগান ও প্লাকার্ড প্রদর্শন এব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাজারো সন্দ্বীপ বাসি সরব হয়ে উঠেছে।এছাড়াও পৃথীবির বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী সন্দ্বীপিরাও আন্দোলনে কর্মসূচী ঘোষনা করেছে। সে মোতাবেক আগামী শুক্রবার চট্টগ্রাম ও ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। আজকে আয়োজিত মানব বন্ধনে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সন্মিলিত অধিকার আন্দোলনের সম্পাদক হাসানুজ্জামান সন্দ্বীপি।এর পর ভাসান চরকে সন্দ্বীপের অংশ ঘোষনার দাবীতে নব জাগৃতি সংঘের সভাপতি ইব্রাহীম অপুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন,ভোরের পাখি সাহিত্য মেলার সভাপতি ইসমাঈল হোসেন মনি,সন্দ্বীপ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল রায় স্বাধীন,আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,পৌর -আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সফিকুল মাওলা, যুবলীগ নেতা দিদারুল আলম,সমাজ কর্মী আনোয়ার হোসেন,সন্দ্বীপ সীমানা রক্ষার রিট আবেদনকারী সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুল হুদা বাবন,মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার ও সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা বলেন দীর্ঘদিন যাবত নদী ভাঙনে ভূমি হারানো সন্দ্বীপের ভুমি যখন নতুন ভাবে জেগে উঠেছে, যখন দ্বীপের ভূমি হীন মানুষ জেগে উঠা ভুমিতে ফসল বোনার সপ্ন দেখছিল সে মুহুর্তে সরকারের স্থানীয় প্রতিনিধি বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম, জেলাপ্রশাসক চট্টগ্রাম/নোয়াখালী বিতর্কিত সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার উড়ির চর ইউনিয়নের চর এলাহি, চর বালুয়ার বিশাল অংশ, জাহাজ্জার চর, ঠেঙ্গার চর সহ প্রায় লক্ষ একর ভুমি নোয়াখালী জেলার সাথে সংযুক্ত করে। সরকারের এই গণবিরুধী সিদ্ধান্তের প্রতিকার চেয়ে দ্বীপের মানুষ মানব বন্ধন, মিছিল মিটিং, স্বারকলিপি প্রদানকরে যখন কোন প্রতিকার পাচ্ছিলো না তখন আদালতের শরণাপন্ন হলে ২/৩/২০১৬ সালে মাননীয় ভূমি মন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রনালয়ের অনুষ্ঠিত সভায় বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালী র জেলাপ্রশাসকদ্বয় কে নির্দেশ দেন ১৯১৩–১৯১৬ সালের প্রস্তুতকৃত সি,এস ম্যাপের উপর ভিত্তি করে দুই মাসের মধ্যে জিপিএস মাননির্ণয় ও কিস্তোয়ার (ডাটা) সংগ্রহ করে জেলার সীমানা নির্ধারণ করতে। ২০১৬ সালের মন্ত্রানালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়াতে গত ২৭শেমে ২০১৮ সালে দিয়ারা জরীপের জন্য সন্দ্বীপ বাসী মহামান্য হাইকোর্টের শরানাপ্নন হয়, হাই কোর্ট মন্ত্রনালয় সহ সংশ্লিষ্ট দের দুই মাসের সময় বেধে দিলেও তারা মহামান্য হাইকোর্ট ও মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক বেআইনি কাজ করে যাচ্ছে। সর্বশেষ প্রমান ভাসান চরকে নোয়াখালীর থানা ঘোষণা, আমরা থানা ঘোষণাকে স্বাগত জানাই কিন্তু নোয়াখালী জেলার থানা হিসাবে মানিনা মানবো না । আসুন সরকারের এই গন বিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায়।

মন্তব্য

মন্তব্য