উলিপুরে কৃষক-প্রিয় হয়ে উঠেছে কেঁচো কম্পোষ্ট সার

ফয়জার রহমান রানু, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি //
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভার্মি কম্পোষ্ট সার বর্তমান কৃষক-প্রিয় হয়ে উঠেছে। গোবর থেকে তৈরি কেঁচো কম্পোষ্ট সার বিভিন্ন ফসল ক্ষেতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সারে মাটির গুণগত মান বৃদ্ধি পায় এবং জমিতে ফলন ভালো হয়। সে কারণে দিন দিন এ সারের চাহিদাও বাড়ছে। কৃষকরা ধান, আলু, সরিষা, গম, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে জমিতে এ সার ব্যবহার করছে। ফলে, সামান্য পরিশ্রমে, স্বল্প সময়ে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত মৌসূমে ফসল ফলাতে তারা মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক জমিতে প্রয়োগ করায় মাটির গুনগত মান নষ্ট হচ্ছিল। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে উৎপাদিত শাক-সবজি খেয়ে মানব শরীরে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। গরুর গোবরে গ্যাস উৎপাদন করে জ্বালানির কাজে ব্যবহার করা হয়, সেই গোবরে তৈরি করা কেঁচো কম্পোষ্ট এখন কৃষক-প্রিয়। ভার্মি কম্পোষ্ট সার তৈরি করতে, গোবরভর্তি একটি হাউজে গাছের লতাপাতা, খড় ও পচনশীল আর্বজনা রেখে সেখানে কয়েকটি কেঁচো ছেড়ে দেয়া হয়। আর প্রতিদিন হাউজে রাখা আবর্জনা গুলো নাড়া-চাড়া করা হয়। এ ভাবেই ৩০/৩৫ দিনের মধ্যে কেঁচো কম্পোষ্ট বা ভর্মি কম্পোষ্ট সার তৈরি হয়। কেহ-বা বাণিজ্যিক ভাবে এ সার উৎপাদন করে কেজি প্রতি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করে প্রতিমাসে ১৫/২০ হাজার টাকা উপার্জন করছে। ভর্মি কম্পোষ্ট সরের গুণগতমান কৃষকদের নিকট এখন পরীক্ষিত হওয়ায় রাসায়নিক সারের প্রতি কৃষকদের চাহিদা কমতে শুরু করেছে। ভার্মি কম্পোষ্ট সরের মুল্য কম কিন্তু রাসায়নিক সারের তুলোনায় গুণগতমান বেশী এবং মাটির উর্বরাশক্তি বিনষ্ট করে না। ফলে কৃষি ফলনে একদিকে খরচ কমেছে, অন্যদিকে ফলনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার দলদলিয়া মাষ্টার পাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, তার ৪ টি গরুর গোবর থেকে কেঁচো কম্পোষ্ট তৈরি করা হয়। স্থানীয় কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলামের পরামর্শে বাড়িরপার্শ্বে তিনটি হাইজ করে গোবর ও অন্যান্য আবর্জনা ফেলে সেখানে ১০ টি কেঁচো ছেড়ে দিয়ে প্রতিদিন একবার উলট-পালট করা হয়। এ ভাবে ৩০/৩৫ দিনের মধ্যে ভার্মি কম্পোষ্ট তৈরি হয়। রাজারামের শাহাজান আলী, কিশোরপুর গ্রামের আবুল হোসেন এবং বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মাষ্টারপাড়া গ্রামের মহব্বত আলী ও আব্দুল জলিল বলেন, জমিতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে এখন কেঁচো কম্পোষ্ট সার ব্যবহার করছি। এতে মাটির উর্বরতাশক্তি বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন খরচ কম হয় এবং ফলনও ভালো ফলে।
ঘাটিয়াল পাড়ায় ভার্মি কম্পোষ্ট উৎপাদনকারী কৃষক আব্দুল আলী জানান, ‘এ সার তৈরি করে ১৫ টাকা কেজি হিসাবে বিক্রি করে মাসে ১৫/২০ হাজার টাকা আয় করছি। এ সারের প্রযুক্তি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে একটি কৃষিক্লাব গঠন করেছি। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নিরাপদ খাদ্যউৎপাদনে কৃষকদেরকে এ সারের ব্যবহার নিশ্চিত করার আশা করছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষকরা ভার্মি কম্পোষ্ট এর গুরুত্ব বুঝতে পেরে তারা নিজেরাই এখন এ সার তৈরি করে, জমিতে ব্যবহার করছে। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে জমিতে জৈব পদার্থ কমে যায়। তাই কেঁচো কম্পোষ্ট বা ভার্মি কম্পোষ্ট সার তৈরি ও ব্যবহারের উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়।

মন্তব্য

মন্তব্য